Published : 17 Jun 2014, 07:30 PM
জামায়াতসহ ৪১টি দলকে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন দিয়েছিল। এর মধ্যে গঠনতন্ত্র সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় গত বছর জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে হাই কোর্ট।
হাই কোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের মুখে থাকা জামায়াত। তবে তার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।
এর মধ্যেই এই প্রথম ইসির আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি গেল না জামায়াতের ঠিকানায়।
২০১৩-২০১৪ অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব দিতে নিবন্ধিত ৪০টি দলকে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে মঙ্গলবার জানান ইসির সহকারী সচিব রৌশন আরা।
জামায়াতকে চিঠি পাঠানো হয়েছে কি না- প্রশ্ন করা হলে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন,না।
রৌশন আরা জানান, আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে ৪০টি দলের দলের মহাসচিব বরাবর ডাকযোগে ও বিশেষ বাহক মারফত তাগিদপত্র পাঠানো হয়েছে।
দলগুলোকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ২০১৩ সালের আর্থিক লেনদেন একটি রেজিস্টার্ড চার্টার্ড একাউন্টিং ফার্মকে দিয়ে নিরীক্ষা করে ইসিতে জমা দিতে হবে।
রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইন হওয়ার পর ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর ১৪ নম্বর দল হিসেবে জামায়াতকে নিবন্ধন দিয়েছিল তৎকালীন ইসি।
২০১৩ সালের ১ আগস্ট হাই কোর্টের রায়ে নিবন্ধন অবৈধ ঘোষিত হওয়ায় দশম জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ হারায় দলটি। তবে জামায়াতের জোট বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দল নির্বাচন বর্জন করেছিল।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা অনুযায়ী প্রতিবছর দলের বার্ষিক লেনদেনের প্রতিবেদন ইসিতে দিতে হয়। পর পর তিন বছর তা দিতে ব্যর্থ হলে নিবন্ধন বাতিলেরও ক্ষমতা রয়েছে ইসির।
গত বছর নির্ধারিত সময়ে আর্থিক লেনদেনের হিসাব দিয়েছিল ২৬টি দল। বাকি ১২টি দল জাসদ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, সাম্যবাদী দল, ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন, জাতীয় পার্টি-জেপি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও গণফ্রন্ট তা দেয়নি।
২০০৮ সালে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হওয়ার পর ৩৯টি দল তালিকাভুক্ত হয়। পরে ফ্রিডম পার্টির নিবন্ধন বাতিল হয়ে যায়। দশম সংসদ নির্বাচনের আগে তিনটি দল নিবন্ধিত তালিকা যোগ হলেও আদালতের আদেশে বাদ পড়ে জামায়াত।
নারায়ণগঞ্জ উপনির্বাচনে ওয়েবসাইটেও ভোটতথ্য
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপনির্বাচনে ইসির ওয়েবসাইটে ভোটাদের ভোটার নম্বর সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার কমিশন সভা শেষে এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, নির্ধারিত নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের জন্য এ উদ্যোগ প্রথম। তবে মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে বরিশাল উপনির্বাচনে ভোটকেন্দ্র ও ভোটার নম্বর জানানোর ব্যবস্থা নেয়া হয়। নারায়ণগঞ্জেও তা অব্যাহত থাকবে।
আগামী ২৬ জুন নারায়ণগঞ্জ-৫ উপনির্বাচন হবে। আগামী সপ্তাহে ভোটারদের এ সুবিধা পাওয়া যাবে।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, ভোটারদের ভোটারনম্বর পেতে ইসির নিজস্ব ওয়েব সাইটে ঢুকে ‘ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানুন’ লিংকে ক্লিক করতে হবে। এতে নতুন একটি বক্স (উইনডো) চলে আসবে। এই বক্সে ভোটার তার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও জন্ম তারিখ লিখে নির্দিষ্টস্থানে ক্লিক করলেই তার কেন্দ্রের নাম ও ভোটার নম্বর পেয়ে যাবেন।
যেসব ভোটারদের হাতে জাতীয় পরিচয়পত্র পৌঁছেনি তারা নির্ধারিত ওয়েবসাইটে ভোটার স্লিপ নম্বর ব্যবহার করেই এ তথ্য পাবেন।এক্ষেত্রে তথ্য দেখা যাবে, প্রিন্ট বা সংরক্ষণ করা যাবে না।