Published : 13 May 2013, 05:37 AM

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু সোমবার বেলা ১১টায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান।
“আমরা তিনদিন আগে পুলিশের কাছে চিঠি দেয়ার পরও এখন পর্যন্ত অনুমতি দেয়নি। এই পরিপ্রেক্ষিত আমরা আবারো বুধবার এক সময়ে একই স্থানে এই সমাবেশের ঘোষণা দিচ্ছি। এ ব্যাপারে পুলিশের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে।”
নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পূনর্বহাল, আটক নেতাদের মুক্তি, ৫ মের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের ওপর হামলা ও সরকারের পদত্যাগের দাবিতে নয়া পল্টনের কার্যালয়ের সামনে দুপুরে এই সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল।
নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমাবেশের সর্বশেষ অবস্থা জানাতে এই সংবাদ ব্রিফিংয়ে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, “সরকার একদিকে সংলাপের কথা বলছে। অন্যদিকে তারা সভা-সমাবেশ করতে দিচ্ছে না। রাজধানীতে আজ এমন কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি যে প্রধান বিরোধী জোটকে সমাবেশ করতে দেয়া যাবে না। এ থেকে প্রমাণ হয়, সরকার গণতন্ত্রকে কবর দিয়েছে।”
সরকারকে বিদেশের নির্বাচনগুলোর দিকে লক্ষ্য রাখতে আহ্বান জানিয়েছে তিনি বলেন, “নির্বাচনের মাধ্যমে পাকিস্তানে সরকারের পরিবর্তন হয়েছে। ভারতেও পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। চিন্তার কোনো কারণ নেই। এক সরকার বেশিদিন ক্ষমতায় থাকে না।”
জাতিসংঘের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর বাংলাদেশের অবস্থানের কথা উল্লেখ করে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, “বিদেশিরা চেষ্টা চালাচ্ছে, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। তারই মধ্যে আমরা বলে আসছিলাম, সরকার অসহিষ্ণু ফ্যাসিস্ট। তারা ভিন্নমতকে কোনোভাবে সহ্য করতে পারছে না। আজ সমাবেশ করতে না দেয়ায় এই বিষয়টি আবারো প্রমাণ হলো।”
সারাদেশের কওমী মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন দুদু।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে মহানগর সদস্য সচিব আবদুস সালাম, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবীর খোকন, সহদপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম রাজন, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এ দিকে পিছিয়ে দেয়া এই সমাবেশকে সামনে রেখে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিএনপি কার্যালয়ের চারদিকসহ নয়া পল্টনের সড়কের বিভিন্ন গলিতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন ছিল।