২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭ আশ্বিন ১৪৩৩

শেখ হাসিনা জেগে বলে আমরা ঘুমাতে পারি: মন্ত্রী মোজাম্মেল

বাংলাদেশের ৫০ বছরে ২৯ বছর অন্য দলগুলো ক্ষমতায় থাকলেও আওয়ামী লীগের চেয়ে বেশি উন্নয়ন ঘটাতে পারেনি বলে দাবি করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Dec 2021, 10:48 PM

Updated : 10 Oct 2022, 06:29 PM

বৃহস্পতিবার ঢাকার শহীদ মতিউর পার্কে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আয়োজিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্যে এই দাবি করেন তিনি।

বর্তমান মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠতম সদস্য মোজাম্মেল বলেন, “বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় মাত্র ২১ বছর। অন্যান্য দল ২৯ বছর ক্ষমতায় ছিল। তারা কতটুকু উন্নয়ন করতে পেরেছে? আজকে শেখ হাসিনা জেগে থাকেন বলেই, আমরা শান্তিতে ঘুমাতে পারি।

“যে আমেরিকা আমাদের হেয় করেছিল, সেই দেশের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নিজেই কেনিয়া গিয়ে বলেছিলেন, ‘ফলো শেখ হাসিনা, ফলো বাংলাদেশ’। আমরা তার নেতৃত্বেই ২৬টি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছি।”

তিনি বলেন, পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশকে ‘অকার্যকর’ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করতেই দেশে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি চলছে।

“যারা এতিমের টাকা মেরে খায়, তারাই দেশটাকে লুটেপুটে খায়। তারাই আজ আমাদের জাতীয় পতাকাকে খামচে ধরছে।”

আওয়ামী লীগের সবাইকে নিজেদের পরিজনের দিকেও নজর রাখার তাগিদ দিয়ে মোজাম্মেল বলেন, “আপনি আওয়ামী লীগ করেন, বঙ্গবন্ধুর কথা বলেন, জয় বাংলার কথা বলেন, কিন্তু আপনার ছেলে, ভাই, আত্মীয় কিংবা প্রতিবেশী জয় বাংলার কথা বলবে না, এটা আমাদের জন্য লজ্জাজনক।”

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, “শেখ হাসিনাকে কেউ ক্ষমতা থেকে সরাতে পারবে না। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলতে থাকবে। কিন্তু আমরা এ ষড়যন্ত্রকে শেষ করতে চাই। এই ষড়যন্ত্র বারবার প্রতিহত করতে চাই না। এজন্য ক্ষমতা ধরে রাখতে হবে। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলেই আমরা শান্তিতে ঘুমাতে পারব, দুই বেলা ঠিক মতো খেতে পারব।”

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস অনুষ্ঠানে বলেন, “জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধাদেরকে তার প্রাপ্য সম্মান ফিরিয়ে দিয়েছেন। আজকে একজন মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু হলে তাকে জাতীয় পতাকা বেষ্টিত করে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এটা অন্য কেউ পেতে পারে না। একমাত্র একজন মুক্তিযোদ্ধাই পেতে পারে।”

মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নগর ভবনের দরজা সব সময়ের জন্য খোলা থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

সংসদ সদস্য কামরুল ইসলাম বলেন, “জিয়াউর রহমান ও তার দল স্বাধীনতার সংগ্রামকে বিফল করার চেষ্টা করছে প্রতিনিয়ত। দেশবিরোধীদের গাড়িতে তারা জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছে।

“যারা জাতির পিতাকে হত্যা করেছে, তারাই শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছে। যারা দেশে এখনও পাকিস্তানি ধারায় রাজনীতি করে যাচ্ছে, তাদেরকে প্রতিহত করার শপথ আমাদের নিতে হবে।”

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের মাটিতে ধর্ম নিয়ে কোনো রাজনীতি চলবে না। আজও সেই রাজনীতি বন্ধ হয়নি। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতাবিরোধিদের দেশে এনেছিলেন, সংসদে জায়গা দিয়েছিলেন।”

অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় বসবাসরত ও করপোরেশনের আওতাভুক্ত এলাকা হতে সম্মানী ভাতা উত্তোলনকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত এলাকায় বসবাসকারী ও সম্মানী ভাতা উত্তোলনকারী বীর মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৯৬৬ জন। তার মধ্যে ৫৬ জন প্রয়াত হয়েছেন।

অনুষ্ঠানে কণ্ঠশিল্পী রফিকুল ইসলাম ও দিনাত জাহান মুন্নী সঙ্গীত পরিবেশন করবেন এবং নৃত্যশিল্পী সাদিয়া ইসলাম মৌ নৃত্য প্রদর্শন করেন। এছাড়াও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়। 

মুক্তিযোদ্ধাদের বিনামূল্যে চিকিৎসার চুক্তি নবায়ন

সরকারি হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতালে মুক্তিযোদ্ধাদের বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য পাঁচ বছরের জন্য চুক্তি নবায়ন করেছে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয় বলে মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা সুফি আব্দুল্লাহিল মারুফ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ২০১৮ সালে তিন বছরের জন্য এ দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছিল। নতুন সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ পাঁচ বছর।

এসব হাসপাতাল থেকে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পাবেন। এর মধ্যে ওষুধ, বেড, পথ্য এবং নার্সিং সেবাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতাল ছাড়াও মেডিকেল কলেজ ও ২২টি বিশেষায়িত হাসপাতালে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা বিনামূল্যে সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার টাকার চিকিৎসাসেবা নিতে পারবে।

এছাড়া কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা জটিল কোনো রোগে আক্রান্ত হয়ে ওই সব হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে দেশ-বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন পড়লে সরকার অতিরিক্ত এক লাখ টাকা অনুদান দেবে। তবে চিকিৎসা অনুদান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা জীবনে একবারের বেশি পাবেন না।

সরকারি হাসপাতাল ছাড়াও বিশেষায়িত ২২ হাসপাতাল

ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর), জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতাল, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, খুলনার শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল, গোপালগঞ্জের শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

রাজশাহী  মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-সিলেট, শের-ই- বাংলা  মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-বরিশাল, জাতীয় হৃদরোগ ফাউন্ডেশন-ঢাকা এবং বারডেম জেনারেল হাসপাতাল-ঢাকা।

এদিকে জটিল রোগে আক্রান্ত ১০০ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ভারতের বিশেষায়িত হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

এ উপলক্ষে গত ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন জমা নিয়েছে মন্ত্রণালয়।