Published : 03 May 2026, 07:34 PM
এনসিপি প্রার্থী মনিরা শারমিনের রিট মামলার শুনানি না হওয়া পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের একটি সংরক্ষিত নারী আসনের গেজেট করা থেকে বিরত থাকার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জামায়াত জোটের আরেক প্রার্থী এনসিপির নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতির মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করার পরিপ্রেক্ষিতে রোববার এ আবেদন করেন মনিরা শারমিন।
আদালতের আদেশের আগে জ্যোতিকে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে সেখানে।
এ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ইসির যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দীন খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মনিরা শারমিনের আবেদন পেয়েছি। তার রিট মামলার শুনানি সোমবার হবে বলে আবেদনে জানানো হয়েছে। আর নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতির মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বৈধ হওয়ার পর কমিশনের সিদ্ধান্তের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে।”
আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি অনুযায়ী রাজনৈতিক দল ও জোটের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। সে অনুযায়ী এবার বিএনপি জোট ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১৩ জন, আর স্বতন্ত্র জোটের একজনকে মনোনীত করে। তারা সবাই ২১ এপ্রিল মনোনয়নপত্র জমা দেন।
জামায়াত জোটের ১৩ জনের মধ্যে এনসিপির প্রার্থী ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব মাহমুদা আলম মিতু এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। ২৩ এপ্রিল বাছাইয়ে বাকি সবার মনোনয়নপত্র গৃহীত হলেও মনিরা শারমিনের মনোয়নপত্র বাতিল করা হয়।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২ (১) (চ) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি প্রজাতন্ত্রের বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের চাকরি থেকে পদত্যাগ বা অবসরগ্রহণের পর তিন বছর অতিবাহিত না হলে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার অযোগ্য হবেন।
মনিরা শারমিন ২০২৩ সালে নভেম্বরে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে অফিসার (জেনারেল) পদে যোগ দেন এবং গত ডিসেম্বর চাকরি ছাড়েন। সরকারি চাকরি ছাড়ার তিন বছর পার না হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
তার মনোনয়নপত্র বাতিল হবে বুঝতে পেরে এনসিপির পক্ষ থেকে ২১ এপ্রিল নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতিকে মনোনয়নপত্র দেওয়া হয়। সেদিন বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমার সুযোগ ছিল।
কিন্তু জ্যোতির মনোনয়নপত্র জমা পড়ে নির্ধারিত সময়ের ১৯ মিনিট পর। সে কারণে তা আর আমলে নেননি রিটার্নিং অফিসার।
পরে এর বৈধতা নিয়ে রোববার হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন তিনি। অন্যদিকে মনিরা শারমিন প্রার্থিতা বাতিলে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন।
গত ২৭ এপ্রিল মনিরা শারমিনের আপিল নাকচ করে দেয় নির্বাচন কমিশন। ফলে তার প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। অন্যদিকে হাই কোর্ট সেদিন নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতির মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেয়।
এরপর নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন মনিরা শারমিন। অন্যদিকে হাই কোর্টের আদেশে নির্বাচন কমিশন জ্যোতির মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে এবং বাছাইয়ে তা বৈধ ঘোষণা করা হয়।
রোববার রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দেওয়া আবেদনে মনিরা শারমিন বলেন, “যেহেতু আমার দল প্রথমে আমাকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দিয়েছে, সেহেতু মহামান্য হাই কোর্ট বিভাগের আদশের জন্য নির্বাচন কমিশনের অপেক্ষা করা উচিত। অন্যথায় আমি অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হব।”
সংরক্ষিত নারী আসনে ইতোমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ৪৯ জনের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। রোববার তাদের সংসদ সদস্য হিসাবে শপথ পড়ানো হবে।
এরমধ্যে বিএনপি জোটের ৩৬ জন ও স্বতন্ত্র জোটের একজন রয়েছেন। জামায়াত জোটের ১২ জনও শপথ নেবেন রোববার। বাকি একটি আসনের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতার নিষ্পত্তির জন্য অপেক্ষা করতে হবে।”
পুরনো খবর