১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ভাইভায় নম্বর বাড়ানো দলীয়করণের ষড়যন্ত্রের ‘নগ্ন হাতিয়ার’: পরওয়ার

বর্তমান সরকার রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে চরম দলীয়করণ শুরু করেছে, অভিযোগ করেন তিনি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 10 Sep 2026, 10:09 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:58 AM

একাদশ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সমান ৫০ নম্বর রাখার সিদ্ধান্ত ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে মনে করছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। 

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ বিষয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “সরকারের বড় আকারে ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রশাসনকে দলীয়করণের সুদূরপ্রসারী ষড়যন্তের নগ্ন হাতিয়ার। লিখিত পরীক্ষা একজন প্রার্থীর জ্ঞান, মেধা, বিশ্লেষণী সক্ষমতা ও প্রস্তুতিকে তুলনামূলকভাবে বস্তুনিষ্ঠভাবে যাচাই করার সুযোগ দেয়। লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র সংরক্ষণ, পুনর্মূল্যায়ন ও অডিট করা সম্ভব।

“কিন্তু মৌখিক পরীক্ষার মূল্যায়ন অনেকাংশেই বোর্ডের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ ও বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল।”

বৃহস্পতিবার দলের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিবৃতির বিষয়ে তুলে ধরা হয়।

সম্প্রতি সরকারি চাকরিতে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এ নিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।   

বিবৃতিতে জামায়াতের এই নেতা বলেন, “ভাইভার নম্বরের ওজন অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হলে মেধার ব্যবধান কৃত্রিমভাবে পরিবর্তন করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফলে লিখিত পরীক্ষায় অর্জিত মেধা ও যোগ্যতার অবমূল্যায়ন ঘটবে এবং যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।”

সরকারি চাকরির নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বিএনপি সরকারের নির্লজ্জ দলীয়করণের ‘অশুভ ইঙ্গিত’ বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, “বর্তমান সরকার রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে চরম দলীয়করণ শুরু করেছে। তারা ইতোমধ্যেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসনসহ সচিবালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে দলীয় বিবেচনায় মেধাহীন, অযোগ্য এবং বিতর্কিত লোকদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে। এসব গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে অন্ধ দলীয় লোকদের নিয়োগ দিয়ে সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।”

সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের পদগুলোতে দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী প্রতিযোগিতা করেন তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রক্সি, জালিয়াতি ও পরীক্ষায় অনিয়ম প্রতিরোধ করা অবশ্যই জরুরি।

“কিন্তু জালিয়াতি বন্ধের অজুহাতে ভাইভার নম্বর বাড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য সমাধান হতে পারে না।”

তার ভাষ্য, “প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষাব্যবস্থা, বায়োমেট্রিক যাচাই, পরীক্ষাকেন্দ্রে কঠোর নজরদারি, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, ডিজিটাল মনিটরিং এবং কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে অনিয়ম প্রতিরোধ করা সম্ভব।”