জেল-জুলুম উপেক্ষা করে আন্দোলন সফল করতে হবে: ফখরুল

তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ ১০ দফা দাবি আদায়ে অবিচল থাকার কথা জানান বিএনপি মহাসচিব।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 19 Jan 2023, 03:16 PM
Updated : 19 Jan 2023, 03:16 PM

দলের নেতা-কর্মীদের জেল-জুলুম উপেক্ষা করে আন্দোলন সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার দলের এক আলোচনায় তিনি বলেন, “আমাদের জেগে উঠতে হবে। আমার মকবুল ভাই (ঢাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত মকবুল হোসেন) যিনি ৭ ডিসেম্বর প্রাণ দিয়েছেন, আমার সেই নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ভোলার ভাইয়েরা যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের রক্ত ছুঁয়ে শপথ নিয়েছি আমরা যে, আমরা বাংলাদেশকে একটা উদার রাষ্ট্র তৈরি না করে আমরা ঘরে ফিরব না, বিজয় অর্জন না করার পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না।”

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে এই আলোচনা সভা করে বিএনপি।

ফখরুল বলেন, “জেল-জুলুম যাই আসুক আমাদের সামনে, আমরা সেইগুলো উপেক্ষা করে সামনে দিকে এগিয়ে যাব। আজকে আমাদের নেতা জিয়াউর রহমানের জন্মদিনে আসুন আমরা সেই শপথ গ্রহণ করি, আমরা শপথ গ্রহণ করি, আমরা যে ১০ দফা দাবি দিয়েছি, সেই দাবি আমরা আদায় করব। 

“আমরা অবশ্যই বাধ্য করব এই সরকারকে পদত্যাগ করতে এবং অবশ্যই সংসদ বিলুপ্ত করে নতুন কেয়ারটেকার সরকারের মাধ্যমে আমরা নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে সেভাবে একটা জাতীয় নির্বাচন করতে বাধ্য করব।”

জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি ১৭ জানুয়ারি থেকে ১০ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। বৃহস্পতিবার সকালে শেরে বাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিএনপি মহাসচিবসহ নেতা-কর্মীরা।

‘বিজয় কী বোর্ড প্রসঙ্গে’

মির্জা ফখরুল বলেন, “এদের (সরকার) অপকীর্তির কথা বলে শেষ করা যায় না। আজকের পত্রিকায় দেখুন- বিজয় কী বোর্ড আত্মগোপন ও তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন। আমাদের যে মোবাইল স্মার্ট ফোনসেট, এই স্মার্ট সেটে বিজয় কীবোর্ড কম্পালসারি (বাধ্যতামূলক) করা হচ্ছে। কারণ এই বিজয় কীবোর্ডের মালিকানা হচ্ছে মন্ত্রী মোস্তফা জব্বারের, যিনি তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী (ডাক, টেলিযোগাযোগমন্ত্রী)।

“কত বড় ভয়ংকর কথা। দুর্নীতি কী পরিমাণ হতে পারে? কখনই একজন মন্ত্রী নিজের কোম্পানিকে সরকারের কোনো লাভজনক কাজের মধ্যে জড়াতে পারে না এটাই হচ্ছে নিয়ম-নীতি-আইন। সেখানে তারা প্রকাশ্যে এই কাজটা করছে সরকারি ঘোষণা দিয়ে।”

‘নব্য আওয়ামী লীগাররা বিদেশে বাড়ি কিনছে’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “গতকাল টেলিভিশনে দেখলাম যে, বিদেশে, বিশেষ করে লন্ডনেও সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশিরা বাড়ি কিনছে। এরা কারা? এরা হচ্ছে নব্য আওয়ামী লীগাররা, যারা দেশের সম্পদ লুট করেছে তারা এসব বাড়ি কিনছে। এখানেই বিএনপির সাথে আওয়ামী লীগের পার্থক্য। সেখানেই জিয়াউর রহমান সাথে আওয়ামী লীগের পার্থক্য।

“জিয়াউর রহমান সাধারণ জীবনযাপন করতেন। আমার মনে আছে, তার শাহাদাতের পরে যখন, তার মরদেহ পুরনো সংসদ ভবন এখন যেটা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সেখানে, লাশ নিয়ে আসা হলে জনসাধারণকে দেখানোর জন্য, স্রোতের মতো মানুষজন আসতে থাকল।  

“তখন একটু দূরে দুইজন বিদেশে দাঁড়িয়ে দেখছেন তার কফিনের দিকে তাকিয়ে।

আমি তখন তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম তোমরা তো বিদেশি। তোমরা কেনো এসেছো শ্রদ্ধা জানাতে। তারা বললেন, ‘আমরা বিশ্ব ব্যাংকে কাজ করি, আমরা অনেক দেশের প্রধানমন্ত্রী দেখেছি, রাষ্ট্রপতি দেখেছি, সরকার প্রধান দেখেছি, কিন্তু এরকম একজন সৎ প্রেসিডেন্ট আমরা কখনও দেখি নাই’। এখানেই পার্থক্য।”

তিনি বলেন, “সারাদেশের মানুষ জানে আপনারা (আওয়ামী সরকার) সম্পদ লুণ্ঠন করছেন, সারাদেশের মানুষ জানে যে, আপনারা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছেন। যাদের পায়ে চম্পল ছিল না তারা এখন গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এটাই বাস্তবতা।”

আলোচনা সভার প্রধান অতিথি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “এই আন্দোলনে যারা ভয় পাচ্ছেন, তাদের নেতারা বলছেন, এমনকি গায়ের জোরের প্রধানমন্ত্রী সেদিন বলেছেন যে গণতন্ত্রের জন্য না কি বিএনপি কথা বলতে পারে না।

“অথচ এই আওয়ামী লীগ সেই ১৯৭৫ সালে বাকশাল করে গণতন্ত্র হত্যা করেছে, বর্তমানে দিনের ভোট রাত্রে ডাকাতি করে এবং বয়কট নির্বাচনে তারা গায়ের জোরে ক্ষমতায় আছে, গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। শুধু জাতীয় নির্বাচন হয়, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ব্যবস্থাকে তারা ধ্বংস করে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র একসাথে যায় না, আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র সাংঘর্ষিক।”

দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘‘জিয়াউর রহমানের কথা শুনলে এদেশের কিছু লোকের গাত্রদাহ হয়। বিএনপির শক্তি এই দেশের জনগণ। বিএনপির পক্ষে জনস্রোত দেখে আওয়ামী লীগ ও তাদের সরকারের এতো গাত্রদাহ যে তারা বিএনপিকে নিয়ে মিথ্যাচার করে, মিথ্যা বানোয়াট কথা বলে। আমি বলতে চাই, কোনো লাভ নেই।”

বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও সহপ্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিমের সঞ্চালনায় আলোচনায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, শাহজাহান ওমর, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ বক্তব্য রাখেন। 

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, মীর নাসির, আহমেদ আজম খান, জেডএম জাহিদ হোসেন, যুগ্মমহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক