১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

জেল হত্যায় জিয়া ওতপ্রোতভাবে জড়িত: শেখ হাসিনা

জেল হত্যা দিবসে সংসদে একথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

জেল হত্যায় জিয়া ওতপ্রোতভাবে জড়িত: শেখ হাসিনা

জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার বনানী কবরস্থানে জাতীয় চার নেতার তিনজন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলীর কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা।

সংসদ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Nov 2022, 12:47 AM

Updated : 04 Nov 2022, 12:47 AM

পঁচাত্তরে কারাগারের ভেতরে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার জন্য তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জেল হত্যা দিবসে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এক অনির্ধারিত আলোচনায় তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় কারাগারের মতো একটি সুরক্ষিত জায়গায় কীভাবে হত্যাকাণ্ড চালানো সম্ভব? খুনি মোশতাক-জিয়া বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল। এরাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

“১৯৭৫ সালে ক্ষমতার পালা বদলের পর জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীতে থাকা মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তাদের হত্যা করেছেন। জাতির পিতার হত্যাকারীদের সাজা দেওয়ার বদলে পুরস্কৃত করেছেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অত্যাচার নির্যাতন হত্যা করেছেন। ৩ নভেম্বরের ঘটনায় জিয়াউর রহমান ওতপ্রোতভাবে জড়িত।”

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর বন্দি করা হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর চার ঘনিষ্ঠ সহচর সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে।

পরে ৩ নভেম্বর কারা অভ্যন্তরে তাদের হত্যা করা হয়, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হয়ে আছে।

শেখ হাসিনা বলেন, “বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর এ হত্যাকাণ্ডের বিচার যাতে না হয় সেজন্য দায় মুক্তি দিয়ে আইন করা হয়। ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে জেলহত্যার বিচার করেছে। বিচার কাজ চলার সময় ২০০১ সালে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে এই মামলার একজন আসামিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চাকরি দিয়ে বিদেশে পোস্টিং দেয়। তারা যে হত্যার সঙ্গে জড়িত, তাদের কর্মকাণ্ডে তা প্রমাণ হয়।”

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, “জিয়া যেমন খুনিদের পুরস্কৃত করেছিল, তেমনি এরশাদও একই কাজ করেছে। বঙ্গবন্ধুর খুনি ফারুককে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়ে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দিয়েছিল এরশাদ। অথচ ফারুক অবৈধ অস্ত্রসহ এনএসআইয়ের হাতে ধরা পড়েছিল।

“ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন অনেক বড় কথা বলেন। তিনিও খুনিদের নিয়ে রাজনৈতিক দল করেছেন।”

বঙ্গবন্ধুরন পলাতক খুনিদের বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

সংসদে এই আলোচনায় আওয়ামী লীগের আমির হোসেন আমু, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মতিয়া চৌধুরী, বেনজির আহমদ, মোছলেম উদ্দীন, নাহিদ ইজহার খান, তানভীর শাকিল, বিরোধীদল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, মসিউর রহমান অংশ নেন।

বিএনপির কোনো সংসদ সদস্য আলোচনায় অংশ নেননি।