Published : 20 Jan 2026, 06:09 PM
একটি মহল ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করতে পারে’ বলে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে সর্তক করে দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।
মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “আপনি খেয়াল করে দেখেন এদের নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং প্রচারণা কত দুর্বল, নাই বললেই চলে। তারপরেও তারা হুংকার ছাড়ে তারাই ক্ষমতায় যাবে, তারাই জিতবে, তারা এই দেশ চালাবে।
“কি করে সম্ভব? যদি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং না করে তারা… আমি মনে করি, আমার দল এবং দেশবাসী এটা (ইঞ্জিনিয়ারিং) বিশেষভাবে নজর দেবেন। আমাদের নেতা এবং কর্মীরা বিশেষভাবে নজর দেবেন কোনরকম ইঞ্জিনিয়ারিং করতে যেন না পারে।”
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হবে।
এর মধ্যে আচরণবিধি ও ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’সহ বিভিন্ন বিষয় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ করা শুরু করেছে। তারা অভিযোগ নিয়ে কয়েক দফা নির্বাচন কমিশনে গেছে। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন দলগুলোর নেতারা।
এমন প্রেক্ষাপটে আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, “এখানে আমাদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক নজরুল ইসলাম খান আছেন, আমাদের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমি ওনাদের কাছে বলব আমার এই কথাগুলোকে দয়া করে অবজ্ঞা করবেন না, কাজে লাগবে।
“যদি কথাটা শোনেন, কাজে লাগবেন। না শুনলে কিন্তু ক্ষতি হয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে। আমি ‘সিরিয়াসলি’ একথা বললাম।”
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছিলেন মির্জা আব্বাস।
‘ভোট চাইতে দ্বারে দ্বারে যেতে হবে’
বিগত বিএনপি সরকারের এই মন্ত্রী বলেন, “সব চেয়ে সহজ কাজ সমাবেশ এবং স্লোগান দেওয়া, আর কঠিন কাজ হচ্ছে নির্বাচনে জয়লাভ করা। আমি যদি প্রশ্ন করি, আপনি কয়টা বাড়ি গেছেন, কজনের কাছে ভোট চেয়েছেন? বলতে পারবে না। প্রথমে খুব ধীরে ধীরে একজন একটা হাত তোলে, তারপর আস্তে আস্তে সবাই হাত তোলে, আসলে কেউ যায় নাই।
“ভাই আমরা তো রাজনীতি করে বড় হয়েছি, বহু নির্বাচন করেছি আমি জানি। তবে হ্যাঁ, ১৭/১৮ বছরে নির্বাচনের কোনো ‘প্র্যাকটিস’ আমাদের নাই। ফলে এটা হতেই পারে। আমি বলব, আপনারা দয়া করে যে যেখানে আছেন, যে যে এলাকায় আছেন দয়া করে আগের মতো হয়ত পারবেন না, তবে পারা যায়।
“বিশেষ করে আমার এলাকাতে অ্যাপার্টমেন্টের সংখ্যা এত বেশি, ‘ডোর টু ডোর’ যাওয়া মুশকিল। কিন্তু তারপরেও আমাদের জনবল এত বেশি আছে। ইনশাআল্লাহ আমরা চেষ্টা করি সবাই ডোর টু যেতে হবে।”
‘কিছু লোক আজে-বাজে কথা বলছে’
মির্জা আব্বাস বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে কিছু কিছু ছেলেপেলে আছে, যারা খুব আগে বাজে কথা বলতেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছেন, খুব আগে বাজে কথা বলতেছে। সব অপকর্ম করতেছে নিজেরা, চাপিয়ে দিছে বিএনপির ওপরে, চাঁদাবাজি করতেছে নিজেরা, চাপিয়ে দিচ্ছে বিএনপির ওপরে।”
অবিভক্ত ঢাকার সাবেক এই মেয়র বলেন, “ওদের সরকার ক্ষমতায় আর আপনারা বলেন যে, বিএনপি চাঁদাবাজি করে। সরকার কি করে? বিএনপির হাতে যে ক্ষমতা ছিল, সে ক্ষমতা দিয়ে এ পর্যন্ত কয়েক হাজারকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
“আমি জানতে চাই, কজন চাঁদাবাজকে সরকার গ্রেপ্তার করেছে? একজনকে চাঁদাবাজকেও গ্রেপ্তার করে নাই, কারণ তাদের সকলের চাঁদার পরিমাণ অনেক বেশি…আমি ‘বাই নেইম’ বলতে পারি কিন্তু বলবো না, নির্বাচনের আগে বলব না।”
‘একাত্তরে আপনাদেরকে দেখেছি’
জামায়াতের নাম না নিয়েই মির্জা আব্বাস বলেন, “অনেকে বলেন, আওয়ামী লীগকে ভোট দিলেন, বিএনপিকেও ভোট দিলেন… এবার আমাদের দেন, আমাদেরকে একবার দেখেন।
“কেন ভাই, একাত্তরে আপনাদের দেখেছি। কীভাবে দালালি করেছেন, কীভাবে আমার মা-বোনদের ইজ্জতহানি করেছেন, আমরা দেখি নাই?”
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, “আরেকজন বলেন, আমরা জুলাই যোদ্ধা।
“আমরা মুক্তিযোদ্ধা। আমরা তো মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। তোমরা কি স্বাধীন করেছো? তোমরা একটা অপশক্তিকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছো…ঠিক আছে…এটা আমি স্বীকার করি, কিন্তু আমরাও তোমাদের বয়সে একসময় এসে এরশাদের মতো, হাসিনার মতো অপশক্তির পতন আমরা ঘটিয়েছি। এজন্য আমরা বলি নাই যে, এইজন্য আমাদেরকে মন্ত্রী বানাতে হবে।”
তার নিজের ও বিএনপির বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচারে’ ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলার কথা তুলে ধরে মির্জা আব্বাস বলেন, “আর বলবো না। আজকেই শেষ আজকেই প্রথম, আজকেই শেষ। তোরা যা খুশি তা কর গিয়ে, আমি কোনো কথা কমু না।”
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে ও সহ-দপ্তর সম্পাদক তারিকুল ইসলাম তেনজিংয়ের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু বক্তব্য রাখেন।