Published : 27 Jul 2025, 02:53 PM
রাজধানীর গুলশানে চাঁদাবাজির অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাসহ গ্রেপ্তার পাঁচজনের ‘শেকড় অনেক গভীরে’ বলে মন্তব্য করেছেন সংগঠনটির সাবেক নেত্রী উমামা ফাতেমা।
এক ফেইসবুক পোস্টে ক্ষোভ ঝেড়ে উমামা বলেন, “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত ৫ জনের চাঁদাবাজির খবর শুনে আমার পরিচিত ব্যক্তিবর্গ এতটাই আশ্চর্যান্বিত হওয়ার অভিনয় করছেন যে, আমার মনে হচ্ছে আমিই সবথেকে কম আশ্চর্য হয়েছি।”
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা এতদিন নেতাদের পেছনে ‘প্রটোকল দিয়েছে’ দাবি করে উমামা বলেন, “সচিবালয় থেকে শুরু করে মিছিল-মিটিং, মারামারি সব জায়গাতেই সমন্বয়কদের ডান হাত, বাম হাত হিসেবে নির্বিঘ্নে প্রটোকল দিয়ে গেছে। গুলশান বনানী গ্যাং কালচারের অজস্র অভিযোগ অভ্যন্তরীণভাবে তাদের বিরুদ্ধে ছিল।”
শনিবার সন্ধ্যার পর গুলশান ২ নম্বরে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তারের বাসার সামনে থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে গুলশান থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. সাকাদাউন সিয়াম, সাদমান সাদার, মো. ইব্রাহিম হোসেন ও আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদ। অন্যজন শিশু হওয়ায় তার নাম, পরিচয় ও ছবি দেয়নি পুলিশ।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিয়াদ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম আহ্বায়কদের একজন।
রিয়াদের বিরুদ্ধে ‘উশৃঙ্খল আচরণের’ অভিযোগ এনে উমামা বলেন, “এই ছবির রিয়াদ নামের ছেলেটা গত ডিসেম্বর মাসে রূপায়ন টাওয়ারে আমার সামনে অত্যন্ত উশৃঙ্খল আচরণ করেছিল। আমরা মেয়েরা তাকে থামানোর চেষ্টা করলে আমাদের উপর পাল্টা চড়াও হয়।
“ওই ঘটনার পর ছেলেটার ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে হুমকি, মারামারি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ আছে।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে এ ধরনের মানুষের আনাগোনা ‘টের পাওয়া যেত’ মন্তব্য করে উমামা বলেন, “আমি জেনে তখন মোটেও অবাক হইনি, কারণ ততদিনে বৈষম্যবিরোধীতে এই ধরনের মানুষজনের আনাগোনাই সর্বত্র টের পাওয়া যেত। ঠিকই তারা রূপায়ন টাওয়ারে অবাধে আসা যাওয়া করত।
“কারো দুর্নীতি বা অসততার ব্যাপারে অভিযোগ জানালে উত্তরে পিনড্রপ সাইলেন্স উপহার পেতে হবে। আর আমি চোখের সামনে দেখতাম এসব লোকজনই কীভাবে দিনেশেষে এক্সেস করে নেয়। আজকে এতমাস পর এই প্ল্যাটফর্মের দিকে তাকালে বলার ভাষা পাই না কোন?! যে যেভাবে পারছে এই প্ল্যাটফর্মকে নষ্ট করেছে।”
অভিযোগের তীর ছুড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ছাড়লেন উমামা
তিনি বলেন, “আজকের এই চাঁদাবাজির খবর দেখে আশপাশের সবাই এত অবাক হওয়ার ভান করছেন বিষয়টা কিছুটা হাস্যকর বটে!
“ইশ! মানুষ কত নিষ্পাপ! সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুর মত তারা আবিষ্কার করেছেন এই ছেলেগুলো আজ কীভাবে চাঁদাবাজি করল?!
“অত্যন্ত দুঃখিত বন্ধুরা, বলতে হবে এই প্রথম কোনো চাঁদাবাজি করতে গিয়ে তারা পুলিশের হাতে ধরা খেল। ঠিকমত খোঁজ নিলে বুঝবেন, এদের শেকড় অনেক গভীরে।”
এ ঘটনার পর সংগঠনটির ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন মুন্না, সদস্য মো. সাকাদাউন সিয়াম ও সাদাবকে স্থায়ীভাবে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এক সময় ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করা উমামা ফাতেমা গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র ছিলেন। গত জুন মাসের শেষে ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে তিনি সরে দাঁড়ানোর কথা জানান।
দীর্ঘ ওই পোস্টে সংগঠনের কমিটি দেওয়া নিয়ে নানা ‘অনিয়ম’, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ‘অনিয়ম’, সবশেষ দলের কাউন্সিলে ‘অনিয়মের’ অভিযোগ করেন তিনি।