Published : 16 Jul 2025, 09:28 PM
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাকর্মীদের উপর হামলার ঘটনায় ২৪ ঘন্টার মধ্যে গোপালগঞ্জসহ সারা দেশে ‘আওয়ামী সন্ত্রাসীদের’ গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
এ ছাড়া অবিলম্বে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ জারি দাবি তুলেছে সংগঠন।
বুধবার রাজধানীর শাহবাগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এই দাবিসহ তিন দফা দাবি জানায়।
সরকার এসব দাবি না মানলে কঠোর আন্দোনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি রিফাত রশিদ।
তিনি বলেন, “গোপালগঞ্জে যা শুরু হয়েছে, সেখানে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা এবং দিল্লি, এদের চক্রান্তে গোপালগঞ্জের মধ্যে একটি প্রক্সি স্টেট কায়েম করেছে।
“সেখানকার সার্বভৌমত্ব নিয়ন্ত্রণ করছে স্বৈরাচারী হাসিনা এবং দিল্লির মসনদে বসে থাকা ওই লুটেরারা, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বকে সবসময় ছিনিয়ে নিতে চায়। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এই প্রক্সি স্টেট খেলা আমরা হতে দিব না।”
সংগঠনের তরফে তিন দফা দাবি তুলে ধরে তিনি। দাবিগুলো হচ্ছে-
>> অবিলম্বে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ জারি করতে হবে।
>> ‘আওয়ামী পুলিশি’ কাঠামো ভেঙে ফেলে পুরো ব্যবস্থার সংস্কার করতে হবে।
>> আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গোপালগঞ্জসহ সারা দেশে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে সক্রিয় সকল আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে হবে।
বৈষম্যবিরোধীদের এসব দাবি সরকার মেনে না নিলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রিফাত রশিদ।
তিনি বলেন, “একটা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদেরকেও আমরা কাঠগড়ার বাইরে দেখাতে চাই না। আমরা ২৪ ঘন্টার আলটিমেটাম দিচ্ছি। এই আলটিমেটামের মধ্য দিয়ে আমাদের যে চলমান ব্লকেড কর্মসূচি তা তুলে নিচ্ছি এবং অভিযান পরিচালনার উপর আমরা কঠোর নজরদারি রাখবো।
“যদি যৌথ বাহিনী ব্যর্থ হয় তাহলে জুলাইয়ের ছাত্রজনতা এক বছর পর আবারও মাঠে নেমে কঠোর থেকে কঠোর কর্মসূচি পালন করবে এবং সারা বাংলাদেশ জুলাইয়ের মত আবারও অচল করে দেওয়া হবে।”
এদিন সকালে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি নেতারা গাড়িবহর নিয়ে গোপালগঞ্জ শহরে ঢোকার আগেই পুলিশের গাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে ইউএনওর গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।
এসবের মধ্যে বেলা দেড়টার দিকে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা মিছিল করে এসে জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে গোপালগঞ্জ শহরের পৌরপার্ক এলাকায় সমাবেশ মঞ্চে হামলা চালায়।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে নেতারা পুলিশি নিরাপত্তায় টেকেরহাট হয়ে মাদারীপুর যাওয়ার পথে দুপুর পৌনে ৩টার দিকে শহরের লঞ্চ ঘাট এলাকায় গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের সামনে ফের হামলা হয়।
এ সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীদের সংঘর্ষে গোপালগঞ্জ শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ ঘটনায় অন্তত চার জন নিহত হওয়ার খবর এসেছে।
এ পরিস্থিতিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। পরে তারা সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যানে করে পুলিশ সুপার কার্যালয় ছাড়েন।
দুপুরে জেলা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে স্থানীয় প্রশাসন। তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় সন্ধ্যায় কারফিউ জারির ঘোষণা আসে।