২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ঢাকায় যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত: নিহতদের স্মরণে বিএনপির দোয়া মাহফিল

“আমরা জানি, এ ধরনের প্রশিক্ষণ যেখানে হয়, সেখানে মানুষজন থাকে না। কিন্তু ঢাকা শহরের মত জনবসতিপূর্ণ এলাকায় কেন এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হল,” বলেন গয়েশ্বর।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Jul 2025, 05:25 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:25 PM

ঢাকায় বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নিহতদের স্মরণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল করেছে বিএনপি।

মঙ্গলবার সকালে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচ তলায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। 

এর আগে ভোরে রাষ্ট্রীয় শোকের অংশ হিসেবে দলের কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। কালো ব্যাজ পড়েন নেতাকর্মীরা।

সকালে জাতীয়তাবাদী যুব দলের উদ্যোগে কার্যালয়ের সামনে আহতদের জন্য রক্তদান কর্মসূচি শুরু হয়। 

বিশেষ দোয়া মাহফিলে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে দলের স্থায়ী কমিটি সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “সবাই আমরা শোকাহত, শান্তনা দেওয়ার কোনো ভাষা নেই। এই ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয়। 

“যারা বেঁচে থাকবে, তাদের সবাই সুস্থ জীবনযাপন করতে পারবে না। এই শিশুরা মরে গেল, ওদের মা-বাবার চোখের জল কী দিয়ে পূরণ করব?’’

তিনি বলেন, “আমরা সারা দেশে শোক পালন করছি, আমরা মাসব্যাপী বছরব্যাপী যদি শোক পালন করি, আমরা তো তাদের ফিরে পাব না। আমরা অন্তর থেকে সারা দেশবাসী ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি, তাদের আত্মা শান্তি কামনা করি।”

জনবসতিপূর্ণ শহরে বিমান প্রশিক্ষণের সমালোচনা করে বিএনপির এ নেতা বলেন, “আমার প্রশ্ন হলো, একটা প্রশিক্ষণ বিমান, তাও আবার যুদ্ধবিমান, এই বিমানের প্রশিক্ষণ এমন একটা জনবসতিপূর্ণ শহরে হয় কি না?

“আমরা জানি এ ধরনের প্রশিক্ষণ যেখানে জনগণ থাকে না, সেখানে দেওয়া হয়। কিন্তু এই প্রশিক্ষণ ঢাকা শহরের মতো জনবসতিপূর্ণ এলাকায় দেওয়া হলো কেন?”

গয়েশ্বর বলেন, “আমি আমার কথা বলছি না, জনগণের অনুভূতি, জনগণের প্রশ্নগুলে বলছি। আমার মনে হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়ই শুনতে পাচ্ছেন। 

“আমরা দেখতে চাই, এখানে আপনাদের কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি ছিল কিনা; আকাশে বিমানটি উড়ানোর আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে কিনা যথাযথভাবে এবং এই বিমানটা চলার মত সক্ষম ছিল কিনা? সেজন্যই আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জনগণের পক্ষ থেকে প্রশ্নের উত্তরগুলি খুঁজে বের করা এবং জানানোর দাবি করছি।”

অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

এতে অন্যদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আবদুস সালাম আজাদ, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, জাসাসের হেলাল খান, জাকির হোসেন রোকন ও ছাত্রদলের রাকিবুল ইসলাম রাকিব উপস্থিত ছিলেন।