Published : 28 Dec 2025, 02:03 PM
গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্য আলাদা চেম্বার প্রস্তুত করে রাখা হয়েছিল আগে থেকেই। দেশের ফেরার দুদিন পর রোববার সেখানে অফিস শুরু করলেন তারেক রহমান।
এই কার্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আসা এই প্রথম, কারণ এক এগারোর পট পরিবর্তনের পরে বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্য এই কার্যালয় খোলা হয়।
দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের গাড়ি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে প্রবেশ করে। তিনি গুলশান অ্যাভেনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাড়ি থেকে অফিসে আসেন।
তারেক রহমান কার্যালয়ে এসে পৌঁছনোর পর দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান
ফুল দিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানান।
এ সময়ে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের কর্মকর্তারাসহ বগুড়ার জেলার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সবার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়পর্ব শেষ করে দোতলায় নিজের চেম্বারে গিয়ে বসেন তারেক রহমান।
তারেক রহমানের চেম্বার থেকে বেরিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজকে প্রথম অফিস করলেন। আমরা উনার সাথে নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করেছি। এটা আমাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক ছিল না।
‘‘ আমরা স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ছিলাম, অন্যরাও ছিলেন। আমরা সাংগঠনিক, দেশের আগামী দিনের গণতন্ত্র ও নির্বাচন নিয়ে আলাপ হয়েছে।”
নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের জন্য আলাদা চেম্বার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আলাদা চেম্বার রয়েছে।

এছাড়া গুলশানে আরেকটি বাসা ভাড়া নেওয়া হয়েছে, যেখান থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
যুক্তরাজ্যে দেড় যুগের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে বৃহস্পতিবার ঢাকায় নামার পর থেকে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপির এই নেতা। প্রথম দিন সংবর্ধনা, বক্তৃতা শেষে মা খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। সেখান থেকে রাতে তারেক এবং পরিবারের সদস্যরা পৌঁছান গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে। তারেকের বাবা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তার মাকে ১৯৬ নম্বরের এই বাড়িটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। মাস কয়েক আগে এ বাড়ির দলিলপত্র বিএনপি চেয়ারপারসনের কাছে হস্তান্তর করেন গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ও রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম রিজু।
গুলশান অ্যাভেনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাড়ির পাশেই ‘ফিরোজা’ নামের বাড়িটিতে বসবাস করেন তার মা, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

পরদিন শুক্রবার বিকালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তারেক।
শনিবার সকালে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্ববায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারত করেন। সেখানে মোনাজাত শেষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরে শ্রদ্ধা জানান তারেক রহমান
এরপর আগারগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনে গিয়ে আঙুলের ছাপ, আইরিশের প্রতিচ্ছবি আর বায়োমেট্রিক তথ্য দিয়ে ভোটার হওয়ার আনুষ্ঠানিকতা সারেন তিনি।
সেখান থেকে বনানী কবরস্থানে গিয়ে ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করেন। এছাড়া বনানীর সামরিক কবরস্থানে তার শ্বশুর সাবেক নৌপ্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের কবরও ও পিলখানায় হত্যার শিকার সেনা কর্মকর্তাদের কবর জিয়ারত করেছেন তারেক রহমান।