০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

প্রতিপক্ষের হামলায় আহত মোহাম্মদপুরের শ্রমিক দল নেতার মৃত্যু

হাসপাতাল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হামলার এ ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশের ধারণা।

প্রতিপক্ষের হামলায় আহত মোহাম্মদপুরের শ্রমিক দল নেতার মৃত্যু
আবু বকর সিদ্দীক রাসেল।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Aug 2026, 07:48 PM

Updated : 16 Sep 2026, 05:11 PM

রাজধানীর সোহ্‌রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় প্রতিপক্ষের হামলায় আহত মোহাম্মদপুরের শ্রমিক দল নেতা আবু বকর সিদ্দীক রাসেল সাত দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছেন।

হাসপাতাল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটেছিল বলে পুলিশের ধারণা।

গত ১৩ অগাস্ট হামলার শিকার হওয়ার পর থেকে রাসেল পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

শেরে বাংলা নগর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, “রাসেল যুবদলের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার কথা জানতে পেরেছি।”

তার ভাষ্য, হাসপাতাল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসার আধিপত্য নিয়ে দুই পক্ষের মারামারিতে সেদিন রাসেল আহন হন।

তবে রাসেলের স্ত্রী শিরিন আক্তারের দাবি তার স্বামী অ্যাম্বুলেন্সের কোনা ব্যবসা করতেন না। তিনি শ্রমিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। রাজনৈতিক কারণে তার ওপর হামলা হয়েছে।

“মোহাম্মদপুরের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি প্রার্থী হওয়াই তার দোষ ছিল।”

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পূর্ণবাসন কেন্দ্রে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হওয়ার তথ্য দিয়েছেন শেরে বাংলা নগর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম।

নিহত ব্যক্তি এবার মোহাম্মদপুর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রমিক দলের সভাপতি পদে প্রার্থী ছিলেন বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদপুর শ্রমিক দলের সভাপতি দাবি করা জাহাঙ্গীর আলম।

হামলার ঘটনার একদিন পর ১৫ অগাস্ট শেরে বাংলা নগর থানায় শিরিন আক্তার একটি মামলা করেন। 

এজাহারে তিনি মোহাম্মদপুরের জাহিদ হোসেন মোড়ল, মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পের পিচ্চি জুয়েল, শেরে বাংলা নগর এলাকার পিচ্চি রাকিব, জাহিরুল ইসলাম বিপ্লব, মনির হোসেনসহ ২২ জনকে আসামি করেছেন।

তার অভিযোগ, রাজনৈতিক ও ব্যবসার বিরোধের কারণে দীর্ঘদিন ধরে রাসেলের উপর জাহিদ হোসেন মোড়ল ক্ষিপ্ত ছিলেন এবং জীবননাশের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ অগাস্ট রাসেলের ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলার বিবরণ তুলে ধরে মামলায় দাবি করা হয়, ১৩ অগাস্ট রাত ৮টার দিকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের সামনে মোড়লের নির্দেশে অন্যরা সামুরাই, চাপাতি লোহার রড দিয়ে হামলা চালালে রাসেল গুরুতর জখম হন। পরে তাকে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।  

ওসি বলেন, প্রথমে মামলাটি হত্যাচেষ্টার মামলা ছিল। এখন এটি হত্যা মামলায় রূপান্তর হবে।

মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে, যোগ করেন তিনি।