১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ধানমন্ডিতে ফুল দিতে যাওয়া অর্ণব সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় কারাগারে

তাকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের সক্রিয় কর্মী দাবি করেছে পুলিশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Aug 2026, 07:16 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:50 PM

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর থেকে গ্রেপ্তার হওয়া অর্ণব দাসকে (৩২) কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার  ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেয়।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবুল বাসার এ তথ্য দিয়েছেন। 

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অর্ণবের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন ধানমন্ডি মডেল থানার এসআই বাবন উদ্দিন।

তাকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের সক্রিয় কর্মী দাবি করেছে পুলিশ।

শনিবার সকাল ১০টার দিকে অর্ণবকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বিকালে তাকে আদালতে নিয়ে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি মডেল থানার এসআই মো. আরিফুল ইসলাম। 

আবেদনে তিনি বলেন, মামলার তদন্তের স্বার্থে আসামিকে রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

অর্ণবের পক্ষে তার আইনজীবী লিটন মিয়া, ডি কে গায়েন টিটোসহ কয়েকজন জামিন চান। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বিরোধিতা করা হয়। শুনানির সময় অর্নবকে এজলাসে ওঠানো হয়নি।

গ্রেপ্তারের পর অর্ণবকে যুবলীগের সক্রিয় কর্মী দাবি করে ধানমন্ডি থানার ওসি ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব বলেন, “তিনি ধানমন্ডিতে ফুল দিতে এসেছিলেন, তার বাড়ি টাঙ্গাইলে। নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা আটক করেছি।”

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে দিনটিকে জাতীয় শোক দিবস এবং সরকারি ছুটি ঘোষণা করে।

২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় জাতীয় শোক দিবস এবং সরকারি ছুটি বাতিল করা হয়।

এরপর ২০০৮ সালে একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের আদেশ বাতিল করে দেয় হাই কোর্ট। এরপর থেকে দিনটি জাতীয় শোক দিবস এবং সরকারি ছুটি হিসেবে পালন করা হচ্ছিল।

কিন্তু জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২০০৮ সালের হাই কোর্টের ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে লিভ টু আপিল করে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর হাই কোর্টের রায় স্থগিত করে দেয় তখনকার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। এতে ১৫ অগাস্টের জাতীয় শোক দিবস ও সরকারি ছুটি বাতিল হয়ে যায়।

কিন্তু ১৫ অগাস্ট উপলক্ষে গেল বছরের মতো এবারও একাধিক স্থানে ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা করেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ ও দলটির ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এসব মিছিল থেকে ধরপাকড়ও করার তথ্যও দিয়েছে পুলিশ।