Published : 29 Apr 2026, 10:38 PM
বারবার জাতীয় সংকটে বিএনপি নেতৃত্ব দিয়েছে দাবি করে জাতীয় সংসদে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, তাদের দল রাজনৈতিক, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় যুক্তি তর্ক ব্যবহার করেই তা করেছে।
বুধবার সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় মুক্তিযুদ্ধ, জুলাই আন্দোলন, শরিয়াহ আইন নিয়ে সংসদে চলা বিতর্কের বিষয় কথা বলতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও পরে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে এ দিনের অধিবেশন পরিচালিত হয়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল একদিকেই বিতর্ক চালিয়ে যাবে- তা সংবিধানের মধ্যে, সংসদের মধ্যে, গণতন্ত্রের মধ্যে এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্যে। এর বাইরে তা যেতে দেবে না। কিন্তু আপোষ করা হবে না।”
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, চব্বিশের জুলাই আন্দোলন, শরিয়াহ আইন নিয়ে বিতর্কে সংসদে তৈরি হওয়া উত্তাপের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এই রাজনৈতিক আচরণের সমস্যার গভীর উৎস হচ্ছে আদর্শগত সংকট।”
তিনি বলেন, “জুলাইয়ের সমস্ত রক্তের দাগ আওয়ামী লীগ মুছে না ফেলা পর্যন্ত এ বিতর্কের যেমন মীমাংসা হবে না, ‘৭১ এর গণহত্যার প্রশ্নেও একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থান তারা (বিরোধী দল) না নেওয়া পর্যন্ত এই বিতর্ক চলতেই থাকবে।”
তথ্যমন্ত্রী বলেন, এবারকার নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর ভোটের হার ও আসনের ফল এমন পর্যায়ে গেছে, যা একটা গবেষণার দাবি রাখে।
“জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ স্বতন্ত্রভাবে যতবার নির্বাচন করেছেন, ততবারই ৫ শতাংশের মধ্যেই কিন্তু তার ভোট সীমাবদ্ধ ছিল। এবারের নির্বাচনেই তার ভোটের পরিসংখ্যানটা পরিবর্তন হয়েছে।”
এবার আওয়ামী লীগের ভোটারদের বড় একটি অংশ ভোটে অংশ না নেওয়ার প্রেক্ষাপটে জামায়াতের ফল ভিন্ন হওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় এদিন মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই আন্দোলন নিয়ে কথা বলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে তুলনা করলে মহান মুক্তিযুদ্ধ ‘খাটো হয়ে যায়’।
“মুক্তিযুদ্ধ কোনো পলিটিক্যাল মেটাফর না। এটা আমাদের অস্তিত্ব। আর জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থান। এই বিপ্লবের ভিত্তি তৈরি করেছে বাংলাদেশের জনগণ। সাথে ছিল বিএনপি, পাশে ছিল বিএনপি।”
বিরোধী দলের উদ্দেশে তিনি বলেন, “ওভার কনফিডেন্স না দেখিয়ে সংসদের সৌন্দর্য বজায় রাখা উচিত।”
রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানানো নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনা করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আযম খান বলেন, যারা রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানাতে চান না, তারাও আবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা বক্তব্য দিচ্ছেন।
“কেন? এটা কি নিজেদের সাথে প্রতারণা নয়?”
বিরোধীদলীয় নেতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন পাসের সময় তিনি রাজাকার, আলবদর, আলশামসের প্রসঙ্গ থাকা সত্ত্বেও বিলটির বিরোধিতা না করে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, বিএনপি ৬০ লাখ নেতাকর্মীর নির্যাতন, হাজার হাজার গুম-খুন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই বর্তমান সংসদে এসেছে। তাই তারা আর ‘জ্বালো জ্বালো আগুন জ্বালো’ ধরনের রাজনীতি দেখতে চান না।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে জামায়াতকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আপনারা যে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেন, আপনার দলীয় গঠনতন্ত্রে কেন আপনারা গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ফিরিয়ে আনেন না?”
‘বেহেশতের টিকেট’ প্রসঙ্গেও কথা বলেন আযম খান। বলেন, বেহেশতের টিকেটের এখতিয়ার একমাত্র আল্লাহর কাছে, ‘শাফায়াতের’ বিষয়টি ছাড়া অন্য কারও হাতে তা নেই।
রাষ্ট্রপ্রতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদের আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের জামায়াতের ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম খান।