১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সাবেক এমপি ইকবালের কার্যালয় সিলগালা, তিনশর বেশি দলিল, চেক জব্দ

বনানীর ইকবাল সেন্টারে তার কার্যালয়ে চার দিন ধরে চলে এ অভিযান।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Aug 2026, 08:42 PM

Updated : 16 Sep 2026, 12:57 PM

আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এইচ বি এম ইকবালের কার্যালয়ে অভিযান শেষে সেটি সিলগালা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রাজধানীর বনানীর ইকবাল সেন্টারের ১৬ তলার এ কার্যালয়ে চার দিন ধরে চালানো এ অভিযানে তার সম্পদ সংক্রান্ত তিনশর বেশি দলিল জব্দ করা হয়েছে।

সেখানে কয়েকশ চেকবই, সাতটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং স্থায়ী আমানত-এফডিআর-সংক্রান্ত নথির পাশাপাশি নগদ প্রায় দেড় লাখ টাকা জব্দ করার তথ্য দিয়েছেন অনুসন্ধান দলের এক কর্মকর্তা।

প্রিমিয়ার গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদলের দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সংস্থার উপপরিচালক হোসাইন শরীফ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, পুরো ইকবাল সেন্টার সিলগালা করা হয়নি। ইকবালের চেম্বার ও একটি পরিচালক কক্ষ সিলগালা করা হয়েছে।

ইকবালের কার্যালয়ে অভিযান ও সিলগালার মধ্যেই সোমবার প্রিমিয়ার গ্রুপের তিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে দুদক।

তারা হলেন প্রিমিয়ার গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা তালুকদার, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ও মহাব্যবস্থাপক এ ডি এম নাজমুল ইসলাম।

সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। গত ৩ অগাস্ট তাদের তলব করা হয়েছিল। 

এইচ বি এম ইকবাল ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তাদের ডাকা হয়েছে। দুদকের উপপরিচালক মো. হোসাইন শরীফের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। 

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনার পরিবার ও ১০টি শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, প্রতারণা, জালিয়াতি, অর্থপাচার এবং কর ও শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু হয়। পরে যোগ হওয়া ওই শিল্পগ্রুপের একটি প্রিমিয়ার গ্রুপ।

চব্বিশের আন্দোলনের পর থেকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি এইচ বি এম ইকবালকে।

অভিযান কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত একজন কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, একাধিক দফায় চার দিন অভিযান চালানোর পর বুধবার কার্যালয়টি সিলগালা করা হয়। একজন বিচারিক হাকিমের উপস্থিতিতে তল্লাশি ও জব্দতালিকা করা হয়।

দুদকের কর্মকর্তারা বলছেন, কার্যালয়টি থেকে জব্দ করা জিনিসের পাঁচটি আলাদা তালিকা করা হয়েছে। এর মধ্যে সম্পদের দলিলের তালিকা হয়েছে প্রায় ৩৭ পৃষ্ঠা। ইকবালের সম্পদের তিনশর বেশি দলিল পাওয়া গেছে। সেখানে পাঁচশ থেকে ছয়শর বেশি চেকবই পাওয়া গেছে। 

জব্দ করা সাতটি ডিভাইসের মধ্যে একটি ম্যাকবুক, কয়েকটি মোবাইল ফোন, একটি নেক্সাস ট্যাব ও একটি আইপ্যাড রয়েছে। এর কয়েকটি ইকবালের ছেলেরা ব্যবহার করতেন। তল্লাশির সময় কক্ষের ভেতরে থাকা নথি যাতে সরানো না যায়, সেজন্য সেগুলো তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। পরে দরজাগুলো সিলগালা করা হয়।

দুদকের এক কর্মকর্তা বলেন, ইকবাল সেন্টারের পূর্ব পাশে একটি আলাদা লিফট রয়েছে। সেটি দিয়ে ১৬, ১৭ ও ২২ তলায় যাওয়া যায়। লিফটটি দিয়ে সরাসরি ইকবালের চেম্বারে প্রবেশ করা যেত। ১৬তলায় ইকবালের দুই ছেলে ও এক জামাই বসতেন। সেখানে একটি পরিচালক কক্ষও ছিল। ওই কক্ষটিও সিলগালা করা হয়েছে।

ইকবাল সেন্টারের কর্ণধার এইচ বি এম ইকবাল। ১৯৯৯ সালে লাইসেন্স পাওয়ার পর ২৬ বছর এ ভবনেই প্রিমিয়ার ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ছিল। গত ৩ অগাস্ট থেকে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের কার্যক্রম তেজগাঁওয়ের ‘শান্তা পিনাকলে’ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধান দলের তথ্য অনুযায়ী, প্রিমিয়ার গ্রুপের অনিয়মের অভিযোগে এখন পর্যন্ত ১৬টি মামলা হয়েছে। আরও পাঁচটি মামলার সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা রয়েছে। দুদকের চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের পদ শূন্য থাকায় সেগুলোর অনুমোদন হয়নি। নতুন কমিশন গঠনের পর অনুমোদন পেলে মামলাগুলো করা হবে।