Published : 12 Jan 2026, 02:22 AM
জুলাই আন্দোলনের পর তরুণরা যেমন দল গড়েছে, ভোটের মাঠেও তাদের নিয়ে আলোচনা বেশি; এক মাস বাদে যে সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে, তাতে তরুণ ভোটারদের প্রভাব কতটা পড়বে, তা সামনে এসেছে।
জাতীয় নির্বাচনের আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংসদের নির্বাচনে সবাইকে চমকে দিয়ে ডানপন্থি একটি ছাত্র সংগঠনের জয়জয়াকার ক্ষমতার পালাবদলের কোনো বার্তা কি না, তা নিয়েও জনপরিসর ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
কারো কারো চোখে যেই তরুণরা ‘নতুন ধরনের রাজনীতিকে স্বাগত’ জানাচ্ছে, সেই তরুণরা ভোটের মাঠে নামা দলগুলোর জয়-পরাজয়ে বড় নিয়ামক হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন অনেকেই।
তাদের ভাষ্য, এবারের নির্বাচনে আছে পৌনে ১৩ কোটি ভোটার, যাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই তরুণ।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার তরুণ ভোটাররা ‘বেশি সচেতন’, তাই নির্বাচনে ভোট পড়ার হার বেশি হতে পারে।
নির্বাচন বিশ্লেষক আব্দুল আলীম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জাতীয় নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের ভালো একটা প্রভাব পড়বে। এদের অনেকেই প্রথমবার ভোটার, জীবনে কখনো ভোট দিতে পারে নাই। কাজেই তারা কিন্তু এই সবকিছু বিবেচনা করেই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে।
“কাজেই তাদের এই ভোটটা এবার খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, তারা যেদিকে ভোট দেবে সেই প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা অনেকটা বেড়ে যাবে।”
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনের প্রভাব জাতীয় নির্বাচনে পড়বে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের এই সদস্যের।
আগের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রসংসদ নির্বাচনের পর জাতীয় নির্বাচনে তার প্রভাব না পড়ার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “এটা হলপ করে বা একদম নিশ্চিত করে বলা যাবে না যে ডাকসু নির্বাচনে যারা জিতছে, তারাই জাতীয় নির্বাচনে জিতবে। এ ধরনের কথা কিন্তু বলার কোনো সুযোগ নাই।”
তবে তরুণদের ভোট যে জাতীয় নির্বাচনে জয়-পরাজয়ে নির্ধারক হয়ে উঠবে, এ ব্যাপারে তার কোনো ‘সন্দেহ নেই’।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে দেড় দশকে তিনটি নির্বাচনে একতরফা, কারচুপির ভোট, ভোট ডাকাতি, রাতে ভোট দেওয়াসহ নানা অভিযোগ ছিল, ভোটাররা আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন, এমন আলোচনাই ছিল সর্বত্র।
জুলাই আন্দোলনে সসিংসতার জেরে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে তরুণদের বিপুল সংখ্যায় রাস্তায় নামতে দেখা গেছে, যার ধারাবাহিকতায় গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে।
প্রথমবার ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নের পর ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোটার ছিল ৮ কোটি ১০ লাখ ৮৭ হাজার।
গেল ১৭ বছরে মৃতদের বাদ এবং নতুন-বাদ পড়াদের যুক্ত করে এখন ভোটার রয়েছে ১২ কোটি ৭৭ লাখের মতো। হালনাগাদে গড়ে ৩-৫ শতাংশ ভোটার বৃদ্ধি এবং ১.৪৫ শতাংশের মতো মৃত্যুহার সাধারণ হয়ে থাকে। নবম থেকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এসে ভোটার সংখ্যা বেড়েছে ৪ কোটি ৬৭ লাখের বেশি।
যুব নীতিমালা অনুযায়ী ১৮ থেকে ৩৫ বয়সীরা তরুণ, এ কথা তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলছেন, মোট ভোটারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই তরুণ ভোটার থাকে; তারা এবার খুব সচেতন।
“যেহেতু এ গ্রুপের ভোটের ‘কাস্টিং’ আমরা মনে করি ভালো হবে এবং তাদের ভোটার উপস্থিতিতে ‘টার্নআউট’ ভালো হবে।”
এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, “প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের মধ্যে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়স গ্রুপের সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশ হিসাব করলে ৪ কোটির বেশি।
“তাদের ভালো একটা অংশ যদি ভোট দেয়, তাহলে তাদের ভোট যেদিকে যাবে, সেদিকে একটা ভালো প্রভাব ফেলবে।”
ভোটে তরুণরাই সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রাজ্জাকও।
“বহু বছর ধরে সমাজের প্রায় সব বয়সের মানুষই ভোটদান থেকে বিরত আছে বা বিরত থাকতে হয়েছে। বর্তমান সময়ে চব্বিশের যে ছাত্র জনআন্দোলন হয়েছে, সেখান থেকে এটা প্রতীয়মান হয় যে—বাংলাদেশের সরকার কীভাবে চলবে, কীভাবে রাষ্ট্রগঠন হবে—এ বিষয়ে অন্য যেকোনো বয়সের চেয়ে তরুণ সমাজের মধ্যে আগ্রহ উদ্দীপনা অনেক বেশি। সেক্ষেত্রে ৩০ বছরের কম বয়সী গ্রুপ আছে, তারা ‘মোস্ট ইনফ্লুয়েন্সিয়াল’।”
সব মিলিয়ে ১৮ বছর ও তদুর্ধ্ব নাগরিক এখন ১২ কোটি ৭৬ লাখের বেশি। তাদের মধ্যে সাড়ে ৪ কোটি ভোটারের বয়স ১৮-৩৫ বছরের মধ্যে।
|
বয়স |
মোট |
|
১৮-২১ |
৮৫ লাখ ৩১ হাজারেরও বেশি |
|
২২-২৫ |
১ কোটি ১৯ লাখের বেশি |
|
২৬-২৯ |
১ কোটি ২১ লাখের বেশি |
|
৩০-৩৩ |
১ কোটি ৬ লাখের বেশি |
|
৩৪-৩৭ |
১ কোটি ২৩ লাখের বেশি |
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর জনগণের মতামত নিতে গণভোটও হবে।
শিক্ষার্থী নাজিম বলেন, “জীবনের প্রথম ভোট—সেটাও যদি গণতান্ত্রিক পদযাত্রার এক দৃষ্টান্ত হয়…আশা করি, সরকার নিরাশ করবে না।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কারিব চৌধুরী বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে এই দেশের মানুষ নামমাত্র ‘ডামি’ নির্বাচন দেখেছে, যেখানে নির্বাচন কমিশনের মতো একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, নিজেই সেই ফ্যাসিস্ট সরকারকে ফ্যাসিস্ট হতে সহায়তা করেছে এবং তাদের অন্যায়-অনিয়মকে বৈধতা দিয়েছে।
“আমরা আশা রাখব, এই নির্বাচন কমিশন হবে পক্ষপাতহীন ও একটি স্বচ্ছ নির্বাচন কমিশন। ভোটার হওয়ার পর বিগত নির্বাচনে আমি আমার ভোট প্রদান করতে পারিনি, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে ছাব্বিশের এই ভোটই হবে আমার প্রথম ভোট।”
‘এবার আগ্রহ দেখিয়ে ভোটার হয়েছে’
যারা সবে ১৮ পেরিয়ে ভোটার হয়েছে, আর যারা দেড় দশকে ভোটার হয়েও ভোটকেন্দ্র বিমুখ ছিল—তাদের সবারই ভোটাধিকার নিশ্চিতের কথা বলেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার-সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন।
তিনি গত বছরের শুরুতে বলেছিলেন, “ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত ১৮ কোটি মানুষ। …আমরা দায়িত্ব নিয়েছি, ইনশাআল্লাহ তাদের (নাগরিকদের) বঞ্চনা যেন ঘোচাতে পারি। তারা যে বঞ্চিত হয়েছে, যে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে—সেটা ঘোচাতে চাই।”
নাসির উদ্দিন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম হালনাগাদ ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হয় গত বছরের ২ মার্চ।
এরপর দ্বিতীয় ধাপে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হালনাগাদ ভোটার তালিকা করার কাজ শুরু করে ইসি। এটি চূড়ান্ত হয় অগাস্টে। সবশেষ তৃতীয় দফায় নতুন ভোটারদের যুক্ত করতে সময় দেওয়া হয় ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। সব মিলিয়ে নভেম্বরে ভোটার দাঁড়ায় ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন।
চূড়ান্ত তালিকায় পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন এবং হিজড়া ১ হাজার ২৩৪ জন ভোটার রয়েছেন।
২০০৭-২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে ভোট হয় নবম সংসদের; ২০১৪ সালে অনেকে ভোটার তালিকাভুক্ত হলেও দেশের অর্ধেক ভোটারকে (১৫৩ আসনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায়) কেন্দ্রে যেতে হয়নি। ২০১৮ সাল ও ২০২৪ সালের ভোট নিয়েও রয়েছে বিতর্ক।
এ প্রসঙ্গ টেনে নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এএসএম হুমায়ুন কবীর শুক্রবার বলেন, “‘প্র্যাকটিক্যালি’ ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নবম সংসদ নির্বাচনের পরে যাদের ১৮ বছর হয়েছে, তারা তো ভোট দিতে পারেনি। সেক্ষেত্রে ১৭ বছরে যারা ভোট দিতে পারেনি, তাদের বয়স ৩৫ হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ১৮ বছর থেকে ৩৫ বছর বয়সী ভোটাররাই এখন উন্মুখ হয়ে আছে ভোট দেওয়ার জন্য।
“পৌনে ১৩ কোটি ভোটার এখন; এর মধ্যে নারী-পুরুষের ভোটারের তারতম্যও তুলনামূলকভাবে কমে এসেছে। বিশেষ করে গত কিছু বছরে গ্রামে-গঞ্জে অনেক নারী ভোটাররা এনআইডি ও ভোটার তালিকায় সম্পৃক্ত হননি। অনেক বছর পরে তারা ভোট দেওয়ার উৎসব পাচ্ছে, পরিবর্তন এসেছে; মনে করছে ভোটটা দিতে পারবে। ১৭ বছর নিষ্ক্রিয় থাকলেও এবার আগ্রহ দেখিয়ে ভোটার হয়েছে-এটা আমার মনে হয়েছে।”
বাদ পড়া ভোটার ও অন্যদের যুক্ত করার উদ্যোগে এবার ৬৩ লাখ যুক্ত হয়েছে জানান তিনি।
‘নির্বাচিত সরকার খুব প্রয়োজন’
মাগুরা-১ আসনের তরুণ ভোটার পার্থ প্রতীম মন্ডল শুভ রাজধানীর একটি কলেজে দর্শন বিভাগে স্নাতকে পড়ছেন।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ক্ষমতায় আসার পর প্রথম দু-বছর সকল সরকারই ভালো থাকে; কিন্তু বিপত্তি ঘটে পরবর্তী তিন বছরে। যে সরকার ক্ষমতায় গেলে, পুরো এক মেয়াদে জনগণকে সাথে নিয়ে ভালো থাকবে, আমি তাকে ক্ষমতায় চাই।
“যে সরকার ক্ষমতায় আসলে জনগণের নিরাপত্তা অটুট থাকবে, বাক স্বাধীনতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা বজায় থাকবে কিংবা সংখ্যালঘু জনসাধারণ নির্ভয়ে জীবনযাপন করতে পারবে; আমি সে-ই দলকে সমর্থন দেব।”
মৌলভীবাজার-২ আসনের নতুন ভোটার নাদিয়া জেরিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রথমবার ভোট দেব, এটাই আনন্দের। তবে আনন্দের মাঝে আছে সংশয়ও। কারণ অন্তর্বর্তীকালীন দেশটি পদে পদে হোঁচট খাচ্ছে।
“আমাদের মতো যারা উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ যেতে চায় তাদের জন্য তো দুঃসংবাদ। বিভিন্ন দেশ আমাদের ভিসার আনুপাতিক হার কমিয়ে দিয়েছে।”
নাদিয়া জেরিয়া বলেন, “বর্তমানে দেশের যে ভয়াবহ পরিস্থিতি, তাতে একটি নির্বাচিত সরকার খুব প্রয়োজন; তবে সে সরকার যেন এসব পরিস্থিতি মোকাবিলা করে বহির্বিশ্বে আমাদের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে পারে। তাই যারা দেশের ও দেশের জনগণের কথা ভাববে, আমরা তাদেরকেই নির্বাচিত করব।”
জাতীয় নির্বাচন, যে প্রশ্ন সবার মনে
গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর ছাত্র সংসদে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রায় একচেটিয়া জয়ের পর জাতীয় রাজনীতিতে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছিল। জাতীয় নির্বাচনে শিক্ষায়তনের ভোটের প্রভাব কী হতে পারে, সে বিশ্লেষণও এসেছিল।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মতিউর রহমান আকন্দ তখন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “তারা (শিক্ষার্থীরা) ভোটের মাধ্যমে বিবর্তনের পূর্বাভাস দিয়েছে। এর প্রভাব গোটা বাংলাদেশের মানুষের উপর এবং নির্বাচনের উপর পড়বে।”
তবে বিএনপি নেতা নাজিমুদ্দিন আলম বলেছিলেন, এ নির্বাচন থেকে বিএনপি শিক্ষা নিলে আর তাদের নেতা তারেক রহমান সাংগঠনিকভাবে কঠোর অবস্থান নিলে, এ সংকট জাতীয় নির্বাচনের আগেই কেটে যাবে।
কিন্তু তারেক রহমান দেশে ফেরার পর গেল ৬ জানুয়ারি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনেও ছাত্রশিবিরের জয় পেয়েছে শীর্ষ পদসহ বেশিরভাগ পদে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতের জোট সঙ্গী হওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডট্কমকে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনগুলোর মধ্য দিয়ে তারা (তরুণ ভোটাররা) আসলে জুলাইয়ের পক্ষে রাজনীতিটা চায় এবং যারা জুলাই কেন্দ্রিক, একটা গঠনমূলক পরিচ্ছন্ন রাজনীতি করবে, তাদেরকেই সমর্থন করবে, এটা প্রমাণ করেছে।
“যারা বলছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের ফলাফল জাতীয় নির্বাচনে পড়বে না, তারা ভুল বলতেছেন। অবশ্যই পড়বে, যে ভোটার সে আসলে জাতীয় নির্বাচনেরও ভোটার এবং তাদের প্রত্যেকের একটা পরিবার আছে। পরিবারের কাছে তাদের মতামত খুবই গুরুত্বপূর্ণ মতামত, পরিবারে তারা ভোটে ভূমিকা পালন করবে।”
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, “ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের যে বিজয়, যাই বলি সেটা জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে না। জাতীয় রাজনীতি সম্পূর্ণ অন্য বিষয়। কারণ এখানে মানুষের গত তিনটা নির্বাচনে তারা ভোট দিতে পারে নাই, মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে, এটাই মানুষের কাছে বড় আগ্রহ।
“আর অতীতের ইতিহাস থেকে যদি শিক্ষা নেওয়া যায়। স্বাধীনতার পরে ডাকসু, চাকসুসহ সব ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্র ইউনিয়ন (সিপিবি সমর্থিত ছাত্র সংগঠন) জয় পেয়েছিল। কিন্তু ৭৩ সালের জাতীয় নির্বাচনে কিন্তু তারা প্রভাব ফেলতে পারে নাই। তাছাড়া তরুণ প্রজন্ম খুবই সচেতন এবং তারা নিশ্চয়ই বিবেক আছে তাদের বুদ্ধি আছে তারা সেইভাবেই অগ্রসর হবে।”
[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি অনুপম মল্লিক আদিত্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরফাতুল ইসলাম নাইম]
আরও পড়ুন:
ভোটের হার ৪১.৮ শতাংশ, সন্দেহ হলে চ্যালেঞ্জ করতে বললেন সিইসি
ভোটারদের বঞ্চনা ঘোচাতে চাই: সিইসি