রাজপথে শক্তি না দেখিয়ে ভোটের মাঠে আসুন: সিইসি

সিইসি বলেন, “রাজপথে শক্তি প্রদর্শন করে, রাজপথে শক্তি দেখিয়ে সত্যিকারের যে গণতান্ত্রিক নির্বাচন সেটা হবে না। আপনাদেরকে নির্বাচনে আসতে হবে, নির্বাচনের মাঠে নির্বাচনের নীতি-বিধি অনুসারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।”

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 24 Nov 2022, 07:55 AM
Updated : 24 Nov 2022, 07:55 AM

রাজপথে শক্তি না দেখিয়ে নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী দলগুলোকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল।

বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “নির্বাচনী মাঠে ভারসাম্য আনতে হবে দল ও প্রার্থীর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে। কেন্দ্রে কেন্দ্রে দলগুলো প্রার্থী, এজেন্ট দিয়ে ভারসাম্য তৈরি না করলে পুলিশ-মিলিটারি দিয়ে সব সময় নির্বাচনকে সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন সম্ভব হবে না ।

“প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আমি বলব, রাজপথে শক্তি প্রদর্শন করে, রাজপথে শক্তি দেখিয়ে সত্যিকারের যে গণতান্ত্রিক নির্বাচন সেটা হবে না। আপনাদেরকে নির্বাচনে আসতে হবে, নির্বাচনের মাঠে নির্বাচনের নীতি-বিধি আছে সে অনুসারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।”

আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আর এক বছর বাকি; ইতোমধ্যে নিজেদের শক্তি আর অবস্থান জানান দিতে মাঠ দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো।

চট্টগ্রাম, খুলনা, রংপুর ও সিলেটে সমাবেশের পর আগামী ৩ ডিসেম্বর রাজশাহীতে সমাবেশের ঘোষণা রয়েছে বিএনপির। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও বসে নেই। চট্টগ্রামে বিএনপির পর তারাও মহাসমাবেশ করেছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যুবলীগের সম্মেলন ঘিরে গণসমাবেশ হয়েছে। আর বৃহস্পতিবার যশোরে আওয়ামী লীগের সভা হচ্ছে, সেখানে যোগ দিয়েছেন দলের সভানেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নির্বাচনের এক বছরের বেশি সময় হাতে থাকতে প্রধান দলগুলো বিভিন্ন সভা-সমাবেশে ‘শক্তি প্রদর্শন’ আর ‘খেলা হবে’ বক্তব্যের উত্তাপের মধ্যে সিইসির কাছ থেকে ‘নীতি-বিধান’ মানার পরামর্শ এলো।

হাবিবুল আউয়াল বলেন, “সরকারের তরফ থেকে সহযোগিতা না থাকলে নির্বাচনটাকে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় সফল হবে না। তাদের সহযোগিতা পেলে নির্বাচনটা আরও বেশি সফল হবে।  রাজনৈতিক দলের মধ্যে ডায়ালগ একেবারেই হচ্ছে না আমরা দেখছি। এটা হওয়া প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। কারণ, আমরা রাজনীতিতে জড়িত হতে চাই না। কিন্তু রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে, রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছ থেকে আমাদের আবশ্যক সহায়তা প্রত্যাশা করি।”

সিইসি বলেন, “আমাদের এই বক্তব্যটা যদি দলগুলোর কাছে যায়- রাজনৈতিক দলগুলোর প্রজ্ঞা রয়েছে, উনারা চিন্তা করবেন। রাজপথে শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে সুন্দর নির্বাচন হবে এটা আমি বিশ্বাস করি না। সব দলগুলো বলতে চাচ্ছে, রাজপথে দেখা হবে, রাজপথে শক্তি পরীক্ষা হবে।… রাজপথে শক্তি দেখিয়ে সত্যিকারের যে গণতান্ত্রিক নির্বাচন সেটা হবে না। দলগুলোকে ভোটের মাঠে এসে ভারসাম্য আনতে হবে।”

নির্বাচনে কার্যকর প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া গণতান্ত্রিক নির্বাচন হবে না জানিয়ে হাবিবুল আউয়াল বলেন, “কারণ, পুলিশ দিয়ে কিন্তু ব্যালেন্স তৈরি হবে না। ব্যালেন্সটা তৈরি হবে রাজনৈতিক দলের মধ্যে যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, তাদের ইলেকশন এজেন্ট, তাদের প্রার্থী, তাদেরই প্রতিটি কেন্দ্রে ব্যালেন্স তৈরি করতে হবে।

“তারা যদি সেই ভারসাম্য তৈরি না করেন, তাহলে পুলিশ-মিলিটারি দিয়ে সব সময় নির্বাচনকে সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য ও আস্থাভাজনভাবে উঠিয়ে আনা সম্ভব হবে না।”

১৮ থেকে ২২ নভেম্বর নেপালের ‘ইলেকশন অব হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভ ও প্রভিনশনাল এসেম্বলি’ পরিদর্শন শেষে দেশে ফিরার পর বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সিইসি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক