Published : 13 Mar 2026, 07:20 PM
অন্তবর্তী সরকারের শেষ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশ যে বাণিজ্য চুক্তি করেছে, তা স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছে নতুন রাজনৈতিক সংগঠন নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন-এনপিএ।
শুক্রবার এই দাবিতে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন।
জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজার সামনে এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনার এনপিএ কেন্দ্রীয় পরিষদের সদস্য অনিক রায়।
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষের দিন কয়েক আগে ৯ ফেব্রুয়ারি সই হয় ‘এগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) নামের ঢাকা-ওয়াশিংটন বাণিজ্য চুক্তিটি। ভোটের ডামাডোলের কারণে এ নিয়ে আলোচনা কিছুটা আড়ালেই ছিল।
ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকরা এ চুক্তির বিভিন্ন দিক চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে শুরু করেন। তারা দেখতে পান, এটি বাংলাদেশের জন্য ‘কঠোর’ এক চুক্তি। কেউ কেউ এতে বাণিজ্যের চেয়ে ‘রাজনৈতিক উপাদান’ বেশি থাকার কথাও বলেছেন।
এনপিএর সমাবেশ থেকে চলতি জাতীয় সংসদ অধিবেশনেই চুক্তিটি নিয়ে আলোচনা করে তা স্থগিতের দাবিসহ চার দফা দাবি তোলা হয়।
তারা বলেছে, চুক্তি এখনো সংসদে অনুমোদিত হয়নি। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ব্যাপক আইনি পর্যালোচনার দাবি করতে হবে এবং ৪৫০০ মার্কিন পণ্যে তাৎক্ষণিক শূন্য শুল্কের মতো সবচেয়ে ক্ষতিকর ধারাগুলোর বাস্তবায়ন কার্যকরভাবে স্থগিত রাখতে হবে।
তাদের দ্বিতীয় দাবি হচ্ছে, মালয়েশিয়া ও কম্বোডিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের করা বাণিজ্য চুক্তির সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তির আনুষ্ঠানিক তুলনামূলক বিশ্লেষণ সরকারকে প্রকাশ করতে হবে।
নতুন এই রাজনৈতিক সংগঠনটি বলছে, মালয়েশিয়া কৃষি জৈবপ্রযুক্তি ও ভর্তুকি তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে যে স্বায়ত্তশাসন রক্ষা করেছে, বাংলাদেশও তা দাবি করতে পারে। কম্বোডিয়ার মতো স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি সুবিধা বাংলাদেশকেও দিতে হবে।
তৃতীয় দাবি হচ্ছে, ভূরাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন খর্ব করা ধারাগুলো প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
এনপিএ মনে করে, খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় আধুনিক জৈব প্রযুক্তির বীজ বা খাদ্যশস্য আমদানির বিরুদ্ধে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা-ডব্লিউটিওর কাঠামো ব্যবহার করতে হবে।
বাণিজ্য আলোচনাকে জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফোরমেশন অ্যাগ্রিমেন্ট বা জিএসওএমআইএ ও অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড ক্রস-সার্ভিসিং অ্যাগ্রিমেন্ট বা এসিএসএ এর মতো প্রতিরক্ষা চুক্তির দাবি থেকে আলাদা রাখতে হবে।
বহুমেরু বিশ্বে বাংলাদেশের কূটনৈতিক নমনীয়তা অক্ষুণ্ণ রাখা অপরিহার্য বলে মনে করেন সংগঠনটি।
তাদের চতুর্থ দাবি হচ্ছে, ৩০ দিনের মধ্যে চুক্তির স্বাধীন অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন সম্পন্ন করতে হবে। একটি স্বাধীন ও বহুবিভাগীয় কমিশন গঠন করতে হবে, যারা রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ, ১৫ বিলিয়ন ডলারের এলএনজি ও ২.৮৬ বিলিয়ন ডলারের বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার দীর্ঘমেয়াদী সাশ্রয়ী যৌক্তিকতা মূল্যায়ন করবে। ২৪ মাসের জৈবপ্রযুক্তি বাধ্যবাধকতা থেকে দেশীয় কৃষির উপর সুনির্দিষ্ট হুমকির মাত্রা মূল্যায়ন করবে।
‘দেশবিরোধী বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি (আরটিএ) স্থগিত করা এবং অনতিবিলম্বে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে এই চুক্তির জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও দেশীয় শিল্পবিরোধী শর্তগুলো বাতিলের দাবি’ শীর্ষক এই কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন এনপিএর মুখপাত্র নাজিফা জান্নাত।
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় পরিষদ সদস্য মেঘমাল্লার বসু ও কৌশিক আহমেদ। সমাবেশ পরিচালনা করেন এনপিএর কেন্দ্রীয় পরিষদ সদস্য শামীম আরা নীপা।