Published : 09 Aug 2026, 01:41 PM
জুলাই আন্দোলন দমাতে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক শুনানির তৃতীয় দিনে একটি কল রেকর্ড দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, দাখিল করা কল রেকর্ডটি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের কথোপকথনের।
রোববার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ ‘প্রমাণ’ হিসেবে ওই কল রেকর্ড উপস্থাপন করা হয়।
সেই অডিওতে শোনা যায়, তৎকালীন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেটের গতি ধীর করার নির্দেশ দিচ্ছেন।
কথোপকথনে ওবায়দুল কাদেরকে বলতে শোনা যায়, “নেটটা একটু স্লো করে দাও... ইন্টারনেট।”
জবাবে সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, “একটু নেত্রীর পারমিশনটা (ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) নিয়ে নিই?”
ওবায়দুল কাদের সম্মতি দিয়ে বলেন, “নিয়ে নাও। অনেকে আমাকে বলতেছে তো বিষয়গুলো...।”
তখন পলক বলেন, “ওই যে মানে বলা আছে তো যে উনি না বললে... মানে...।”
জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, “না না, উনাকে জিজ্ঞেস করেই বলবা।”
এদিন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, সুলতান মাহমুদ ও প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও এ সময় ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ৬ অগাস্ট যুক্তিতর্কের দ্বিতীয় দিনে ট্রাইব্যুনালে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের একটি ফোনালাপ দাখিল করে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ আসামি মোট সাতজন। তাদের মধ্যে কেবল পলক কারাগারে আছেন।
পলাতক ছয় আসামি হলেন— আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।
তারা ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের আন্দোলন দমনে ‘সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন’ বলে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, তারা নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানানোসহ একাধিক বৈঠকে ‘সহিংসতার পরিকল্পনা’ করেন। কোথাও কোথাও ‘সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে’ আসামিরা ভূমিকা রাখেন।
মামলায় বলা হয়েছে, তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে ‘হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা’ হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।
এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। গত ৪ অগাস্ট থেকে ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়।
এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনাল আমলে নেয় এবং চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।