Published : 10 Apr 2026, 08:08 PM
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তিকে ‘দাসত্বের চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করে অবিলম্বে সব ‘গোপন’ ও ‘অসম’ চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছে তিনটি সংগঠন।
একইসঙ্গে দেশের কৌশলগত সম্পদ—চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের ইজারা না দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে তারা।
শুক্রবার ঢাকার শাহবাগে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী যৌথ বিক্ষোভ সমাবেশে এসব দাবি জানিয়েছে বলে তাদের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে ৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে ‘রিসিপ্রোকাল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট-আরটিএ’ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
সে বিষয়টি তুলে ধরে সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ বলেন, দেশের মানুষকে ‘অন্ধকারে’ রেখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি গোপন বাণিজ্য চুক্তি করেছে।
তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের জনগণের মতামত উপেক্ষা করে আমাদের কৌশলগত সম্পদ বন্দর ইজারা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। আমাদের প্রতিরোধে সাময়িকভাবে তারা পিছু হটেছিল। কিন্তু সেই চক্র পুনরায় সক্রিয় হয়েছে।”
তিনি বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তি করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত করেছে; তার নমুনা আমরা দেখেছি রাশিয়া থেকে তেল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।”
যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম বলেন, “একটা রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের পর ড. ইউনূস তথাকথিত আশীর্বাদ হিসেবে আমাদের দেশে এসেছিলেন। এসেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করেছেন। তিনি তার প্রভু যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ নিশ্চিত করতেই মূলত ১৮ মাস সময় নিয়েছেন।
“দায়িত্ব নিয়েই তার প্রতিষ্ঠানের ৬০০ কোটির টাকার উপর কর মওকুফ করে নিয়েছেন। আর যাওয়ার আগে দিয়ে দেশের জনগণকে সাম্রাজ্যবাদের অধীনস্থ করে গিয়েছেন।”
এই চুক্তি বাতিলের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “নতুবা আমরা রাজপথে থেকেই তা বাতিল করতে সরকারকে বাধ্য করব।”
সভাপতির বক্তব্যে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১৮ মাসে ১৪টি চুক্তি করেছে, যা দেশের জনগণের স্বার্থবিরোধী।”
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির নেতিবাচক দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের বেশি দাম দিয়ে নিম্নমানের যুক্তরাষ্ট্রের গম কিনতে হচ্ছে। আমাদের জ্বালানি কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি নিতে হচ্ছে। এটি যদি দাসত্ব না হয় তবে আরকি হতে পারে!”