প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে বিশেষ কিছু নেই: জি এম কাদের

সফরের ফলাফল যেটুকু প্রকাশ হয়েছে তা গতানুগতিক, বলেন এ বিরোধী দলীয় নেতা।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 10 Sept 2022, 11:12 AM
Updated : 10 Sept 2022, 11:12 AM

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর ‘গতানুগতিক’ মন্তব্য করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, এই সফরে বিশেষ কিছু ছিল না।

শনিবার ঢাকায় দলীয় এক সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জি এম কাদের বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের যে তথ্য আমরা পেয়েছি তাতে বিশেষ কিছু নেই। এই সফরের ফলাফল যেটুকু প্রকাশ হয়েছে তা গতানুগতিক।”

জাতীয় পার্টির নেতা এ সময় আরও বলেন, “সরকারের জনসমর্থন না থাকায় যেনতেন নির্বাচন করতে মাতামাতি করছে নির্বাচন কমিশন।

“নির্বাচন কমিশন আগে থেকেই দায় এড়াতে বিভিন্ন ধরনের কথা বলছে। কখনও বলছে রাজনৈতিক দলগুলো সহায়তা না করলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে না। আবার কখনও বলছে, কাউকে নির্বাচনে নেওয়া নির্বাচন কমিশনের কাজ না।”

কাদের বলেন, তাদের বুঝতে হবে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা নেই বলেই রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে যেতে চাচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনের উচিৎ সবার আস্থা অর্জনে চেষ্টা করা।

“শুধু আওয়ামী লীগ ও তাদের কিছু মিত্র ছাড়া কেউই নির্বাচনে ইভিএম চায়নি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন হঠাৎ করেই ইভিএমে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে। দেশের মানুষ নির্বাচনে ইভিএম চায় না। আর এসব কারণেই দেশের মানুষ নির্বাচনের ওপর আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।

দেশে প্রজাতন্ত্র নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষই হচ্ছেন দেশের মালিক, তারা ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন। প্রতিনিধি অপছন্দ হলে আবার ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি পরির্বতন করতে পারবেন।

“কিন্তু এখন সাধারণ মানুষের মালিকানা ছিনতাই হয়ে গেছে। দেশের মানুষ এখন আর প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে না। পছন্দ না হলে প্রতিনিধি পরিবর্তনও করতে পারে না সাধারণ মানুষ। এখন আর ‘প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ নেই, ‘শুধু বাংলাদেশ’ আছে। প্রজাতন্ত্র আছে শুধু অলংকার হয়ে। দেশে চলছে শাসক ও প্রশাসক দিয়ে।“

সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা বলেন, “একটি সরকার বারবার ক্ষমতাসীন হওয়ার মানে দেশের স্থিতিশীলতা নয়। দেশের স্থিতিশিলতা থাকলে ক্ষমতায় কে এলো আর কে গেলো তাতে কোন সমস্যা হয় না। দেশে আসলে স্থিতিশীলতা নেই, কেউ ক্ষমতা ছাড়লে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে।

“এখন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সবাই শত্রু মনে করে। এমনটি হওয়া উচিৎ নয়। আমরা চাই সহনশীল পরিবেশে। সবাই যার যার রাজনীতি করবেন, কেউ কাউকে শত্রু ভাববেন না। আমরা কোন ব্যক্তি নয়, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন চাই।”

বিদ্যুতের নামে লুটপাট হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “অর্থনৈতিক সংকটের কারণে এলএনজি আমদানি করতে পারছে না সরকার। কিন্তু আরও দুটি এলএনজি স্টেশন স্থাপন করতে চাচ্ছে।

“এলএনজি আমদানি করতে না পারলে সেগুলোকে বসিয়ে বসিয়ে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে কোটি কোটি টাকা দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। বিনা টেন্ডারে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য অসংখ্য পাওয়ারপ্লান্ট তৈরি করা হয়েছে কিন্তু উৎপাদন নেই। সেগুলোকে প্রতি মাসে বসিয়ে বসিয়ে ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুতের নামে লুটপাট চলছে।”

নরসিংদীর পলাশ উপজেলার দলীয় নেতাদের সঙ্গে বনানীর নিজের কার্যালয়ে মতবিনিময় করেন জি এম কাদের।

এএনএম রফিকুল ইসলাম সেলিমের সভাপতিত্বে সভায় প্রেসিডিয়াম সদস্য শফিকুল ইসলাম সেন্টু, রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, দপ্তর সম্পাদক এম এ রাজ্জাক খান বক্তব্য দেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক