Published : 27 Jul 2025, 08:21 PM
যারা নির্বাচনকে ‘ভয়’ পায় তাদের রাজনীতি করা ‘উচিত নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার বিকালে ঢাকায় এক আলোচনা সভায় কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “যারা নির্বাচনকে ভয় পায়, তাদের রাজনীতির দরকার নেই। তারা প্রেসার গ্রুপ হিসেবে কাজ করুক, তারা এনজিও হিসেবে কাজ করতে পারে।
“আপনি রাজনীতিও করবেন, আবার নির্বাচনেও যাবেন না, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবেন, এটা তো হতে পারে না, এটা গ্রহণযোগ্য নয়।”
গণঅভুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে গত বছরের ৫ অগাস্ট।
তার পর অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিতর্কে জড়ায় বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিসহ বিভিন্ন দল।
আমীর খসরু বলেন, “যেসব দেশে এ ধরনের বিপ্লব হয়েছে এবং সে দেশগুলোর মধ্যে যেখানে নির্বাচনকে বিলম্বিত করার চেষ্টা হয়েছে, সেখানে বিভাজন হয়েছে, গৃহযুদ্ধ হয়েছে, ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।
“ওইসব দেশের মধ্যে যারা দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রে ফিরে যেতে পেরেছে, তারা আর্থিক, সামাজিক ও গণতান্ত্রিকভাবে ভালো করেছে।”
‘সব কিছুতে ঐকমত্য হবে না’
রাষ্ট্র সংস্কারের বিভিন্ন বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। কয়েকটি বিষয়ে ইতোমধ্যে ঐকমত্য হলেও বিভিন্ন মৌলিক বিষয়ে এখনো আলোচনা চলছে।
বিএনপির নেতা আমীর খসরু বলেন, “আমরা ভিন্ন ভিন্ন দল, সবকিছুতে ঐকমত্য হবে না। তবে জাতীয় ইস্যুতে আমাদের ঐকমত্য থাকতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক আদর্শ, চিন্তা, দর্শন আলাদা। ভিন্নমত থাকতে পারে, একে অপরের প্রতি সহনশীল হতে হবে।”
সাংঘর্ষিক রাজনীতি না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “দ্বিমত থাকবে, কিন্তু শ্রদ্ধা থাকতে হবে। ভিন্নমত বা মত পার্থক্য না থাকলে তো গণতন্ত্র হবে না। একদলীয় শাসন, বাকশাল করতে আমরা বসিনি।”
তিনি বলেন, “আমার কথা শুনলে নির্বাচন মানব, না শুনলে নির্বাচনে যাব না। এটা অগণতান্ত্রিক আচরণ। গণতন্ত্রের কথা বলে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার প্রক্রিয়া। শেখ হাসিনাও যা বলত, তা–ই মানতে হত। আমাদের কোনো অধিকার ছিল না।”
জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে যৌথভাবে এই আলোচনা সভা আয়োজন করে ভাসানী জনশক্তি পার্টি ও ভাসানী অনুসারী পরিষদ।
‘উত্তাল জুলাইয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে আহতসহ ছাত্র-জনতার অবদান এবং আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ভাসানী জনশক্তি পার্টির সভাপতি শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু।
দলটির সাধারণ সম্পাদক আবু ইউসুফ সেলিমের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) নেতা মোস্তফা জামাল হায়দার, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের শহীদুল্লাহ কায়সার, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, গণসংহতি আন্দোলনের মনির উদ্দিন পাপ্পু, ভাসানী জনশক্তি পার্টির আবদুল কাদের, পারভীন নাসের ভাসানী, আমিনুল ইসলাম সেলিম, মাহমুদ আলী, জান্নাতুল ফেরদৌস, হারুন অর রশিদ।