Published : 13 May 2026, 01:06 PM
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ইতিহাসে ২০২৬ সালের বসন্ত একটি অমোচনীয় কলঙ্ক হয়ে থাকবে। মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয়ে মে পর্যন্ত সরকারি হিসেবেই চারশোরও বেশি শিশু মারা গেছে হামে—এমন একটি রোগে, যার প্রতিষেধক দশকের বেশি সময় ধরে সহজলভ্য। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কয়েক দশকের মধ্যে হামে সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা। একটু পেছনে তাকালেই স্পষ্ট হয়, এই বিপর্যয় হঠাৎ আসেনি—এটি তৈরি হয়েছে বছরের পর বছর ধরে রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং আন্তর্জাতিক সতর্কতা উপেক্ষার সম্মিলিত ফলস্বরূপ।
বাংলাদেশ একসময় টিকাদান কর্মসূচিতে বিশ্বের কাছে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিচিত ছিল। পোলিও ও ধনুষ্টংকার নির্মূলে সাফল্যের পর ২০২৫ সালের মধ্যে হাম শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই লক্ষ্য পূরণ তো হয়ইনি, বরং দেশ এখন মুখোমুখি হয়েছে এমন এক সংক্রমণের, যা আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান মহল বাংলাদেশকে একটি সতর্কতামূলক উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছে।
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে রুটিন হামের টিকার কভারেজ ছিল ৯৯.৭ শতাংশ, ২০২২ সালে ৯৩.৮ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৯৭.৩ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে তা ছিল ৯৮.৯ শতাংশ। সংখ্যার বিচারে এই হার আপাতদৃষ্টিতে সন্তোষজনক মনে হলেও সংখ্যার আড়ালে একটি বিপজ্জনক ফাঁকি লুকিয়ে আছে। রুটিন কভারেজ উঁচুতে থাকলেও দ্বিতীয় ডোজের কভারেজ ২০১৯ সালের ৮৯ শতাংশ থেকে কমে ২০২৩ সালে ৮০.৭ শতাংশে নেমে এসেছে। এর পাশাপাশি সম্পূরক টিকাদান ক্যাম্পেইনগুলো নিয়মিত না হওয়ায় বছরের পর বছর ধরে প্রায় এক থেকে দুই কোটি শিশু অরক্ষিত থেকে গেছে। হামের ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া বাধা দিতে জনগোষ্ঠীর কমপক্ষে ৯৫ শতাংশের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকতে হয়। এই থ্রেশহোল্ড ভাঙলে যে কোনো সময় বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। বাংলাদেশে সেই বিস্ফোরণের জন্য মাটি তৈরি হচ্ছিল বহু বছর ধরেই।
মূল বিপর্যয়ের সূত্রপাত ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা কেনা বন্ধ করে দিয়ে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি চালু করে। এতদিন পর্যন্ত গ্যাভি ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে ইউনিসেফ নির্ভরযোগ্যভাবে টিকা সরবরাহ করে আসছিল—এটি ছিল পরীক্ষিত, নির্ভরযোগ্য এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ব্যবস্থা। ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স এই পরিবর্তনের তীব্র বিরোধিতা করে বারবার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে যাওয়ার পেছনে দুর্নীতি রোধের যুক্তি দেওয়া হলেও বাস্তবে তা টিকা সংগ্রহকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করে। ফলে কেন্দ্রীয় গুদামে টিকার মজুত শূন্যে নেমে আসে এবং হাম-রুবেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পূরক ক্যাম্পেইন বাতিল হয়ে যায়। ফলে ২০২৫ সালে মাত্র ৫৯ শতাংশ শিশু হামের টিকা পেয়েছে—যা আগের বছরের তুলনায় ৪১ শতাংশ কম।
পরিণতি হয়েছে মর্মান্তিক। ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে ৩৫০ জন এবং হাম নিশ্চিত হওয়ার পর ৬৫ শিশু মারা গেছে—সব মিলিয়ে মোট মৃত্যু ৪১৫ ছাড়িয়ে গেছে। ৫০ হাজারেরও বেশি শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে এবং আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৮২ শতাংশেরই বয় পাঁচ বছরের নিচে। ভৌগোলিকভাবে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে—ঢাকার মহাখালী থেকে ময়মনসিংহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহী ও পাবনা পর্যন্ত। দুর্গম এলাকা ও ঘনবসতিপূর্ণ বস্তিগুলোতে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক, কারণ সেখানে স্বাস্থ্যসেবার নাগাল এমনিতেই সীমিত এবং অপুষ্টিগ্রস্ত শিশুদের মধ্যে হাম মস্তিষ্কপ্রদাহ ও অন্ধত্বের মতো স্থায়ী জটিলতা তৈরি করতে পারে।
এই সংকট বুঝতে হলে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দেখাটাও জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে হামের টিকা বিশ্বজুড়ে প্রায় পাঁচ কোটি নব্বই লাখ জীবন বাঁচিয়েছে। তবু ২০২৪ সালে বিশ্বে প্রায় ৯৫ হাজার মানুষ—বেশিরভাগই পাঁচ বছরের নিচের শিশু—হামে মারা গেছে। ২০২৪ সালে মোট ৫৯টি দেশে বড় আকারের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে, যা ২০২১ সালের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি। আফগানিস্তান, কঙ্গো, সোমালিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোতে দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও সংঘাতের কারণে হামের বিস্তার ব্যাপক আকার নিয়েছে। এমনকি উন্নত বিশ্বেও ছাড় নেই—কানাডা ২০২৫ সালে হাম-মুক্ত দেশের মর্যাদা হারিয়েছে; যুক্তরাষ্ট্রেও ২০২৫ সালে দুই হাজারেরও বেশি কেস নথিভুক্ত হয়েছে।
তবে একই সঙ্গে উন্নয়নশীল বিশ্বের কিছু দেশ দেখিয়েছে যে, সঠিক রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক দক্ষতা থাকলে দারিদ্র্য হামের বিরুদ্ধে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। রুয়ান্ডা, যে দেশটি মাত্র তিন দশক আগে গণহত্যার ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে দাঁড়িয়েছিল, আজ তার টিকাদান কর্মসূচি বিশ্বের কাছে মডেল। কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কারদের মাধ্যমে গ্রামে গ্রামে টিকা পৌঁছে দেওয়ার এই কৌশল দেশটিকে হামের মতো রোগ নিয়ন্ত্রণে অসাধারণ সাফল্য দিয়েছে। শ্রীলঙ্কা ২০১৬ সালে দেশ থেকে হামের শেষ স্থানীয় কেস রিপোর্ট করার পর ২০২০ সালে মালদ্বীপের সঙ্গে একযোগে হাম ও রুবেলা নির্মূলের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে—এটি সম্ভব হয়েছে ধারাবাহিক, রাজনীতিমুক্ত ও বিজ্ঞানভিত্তিক টিকাদান নীতির কারণে। বাংলাদেশের প্রতিবেশী ভুটান এবং ভিয়েতনামও দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত অঙ্গীকারের মাধ্যমে হামের বিস্তার ব্যাপকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে। এই দেশগুলোর সাফল্যের একটিই মূল রহস্য: টিকাদান ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঊর্ধ্বে রাখা এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শকে সম্মান দেওয়া।
এই তুলনা বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে বেদনাদায়ক, কারণ বাংলাদেশ নিজেও এক সময় এই পথেই হাঁটছিল। পোলিও নির্মূলে বাংলাদেশের সাফল্য, মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু হার কমানোয় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি—এসব অর্জন এসেছিল দলীয় রাজনীতির বাইরে থেকে স্বাস্থ্যখাতকে একটি জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে দেখার কারণে। সেই ঐতিহ্য থেকে বিচ্যুতি ঘটেছে এবং এর মূল্য দিতে হচ্ছে শিশুদের জীবন দিয়ে।
এই সংকটের দায় বণ্টনের প্রশ্নটি জটিল, কিন্তু এড়ানো সম্ভব নয়। বর্তমান বিএনপি সরকার পূর্ববর্তী দুই সরকারকে দোষারোপ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হামের টিকা না দেওয়াকে বিগত দুই সরকারের 'জীবনবিনাশী ব্যর্থতা' ও ক্ষমাহীন অপরাধ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে সত্যিকারের জবাবদিহি দাবি করে একটু গভীরে তাকানো দরকার। আওয়ামী লীগ সরকার সাপ্লিমেন্টারি ক্যাম্পেইনে ধারাবাহিকতা রক্ষা করেনি এবং দ্বিতীয় ডোজের কভারেজ বছরের পর বছর ধরে কমতে দিয়েছে। ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার আন্তর্জাতিক সতর্কতা সত্ত্বেও টিকা সংগ্রহ ব্যবস্থা ভেঙে দিয়েছে এবং একটি জরুরি ক্যাম্পেইন বাতিল করেছে—এটি নিঃসন্দেহে সবচেয়ে সরাসরি ও তাৎক্ষণিক কারণ। আর বিএনপি সরকার প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে অনেক দেরিতে এবং এখনও পর্যন্ত পর্যাপ্তভাবে নয়।
বর্তমান সরকারের পদক্ষেপগুলো বিবেচনায় নেওয়া দরকার। এপ্রিলে আবার ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা কেনা শুরু হয়েছে এবং ৫ এপ্রিল ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি টিকাদান শুরু হয়, যা ২০ এপ্রিল সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বিএনপি দলীয়ভাবেও পৃথক টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করেছে। তবে রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রদর্শনী আর মাঠের বাস্তবতার মধ্যে এখনও বড় ফাঁক রয়ে গেছে। ইউনিসেফ বলছে, এখনো শহর এলাকায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ এবং গ্রাম এলাকায় ১৫ শতাংশ শিশু টিকা পায়নি। রোগ নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক বেনজির আহমেদ সতর্ক করে বলেছেন, এই গতিতে টিকা দিলে সংক্রমণ দ্রুত থামবে না। প্রচার ও জনসচেতনতার অভাব, মাঠ পর্যায়ে জনবল ঘাটতি এবং প্রত্যন্ত এলাকায় টিকা পৌঁছানোর লজিস্টিক দুর্বলতা এখনও কর্মসূচির পূর্ণ সাফল্যের পথে বাধা।
এই সংকট শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় হয়ে থাকেনি। যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞান জার্নাল 'সায়েন্স' বিশেষ প্রতিবেদনে টিকা সংগ্রহে অন্তর্বর্তী সরকারের পদক্ষেপকে বাংলাদেশে হামের ভয়াবহ বিস্তারের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উদ্বেগ জানিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিদরা প্রশ্ন তুলছেন। একটি দেশ যখন আন্তর্জাতিক মহলে সতর্কতামূলক উদাহরণ হিসেবে উঠে আসে, তখন সেটি শুধু স্বাস্থ্যগত ব্যর্থতা নয়, কূটনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ভাবমূর্তিরও ক্ষতি।
এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সামনে যে তাৎক্ষণিক প্রশ্নটি দাঁড়িয়ে আছে সেটি হলো, এই ধারা অব্যাহত থাকলে কী হবে। ইমিউনিটি গ্যাপ পূরণ না হলে বছরের পর বছর ধরে অরক্ষিত থাকা শিশুরা একের পর এক আক্রান্ত হতে থাকবে। হাম শুধু মেরে ফেলে না, এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে এবং অন্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও ঘনবসতিপূর্ণ শহরতলির মতো উচ্চঝুঁকির এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি বিশেষভাবে বিপজ্জনক, কারণ এই এলাকাগুলো থেকে সংক্রমণ নতুন তরঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
দীর্ঘমেয়াদি সংকটের সমাধান হতে হবে কাঠামোগত। প্রথমত, টিকা সংগ্রহ ও বিতরণ ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বাইরে একটি স্থায়ী ও স্বায়ত্তশাসিত কাঠামোয় পরিচালনা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ইউনিসেফ ও গ্যাভির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে, যাতে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন না হয়। তৃতীয়ত, রুয়ান্ডা ও ভিয়েতনামের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে টিকা পৌঁছে দেওয়ার কার্যকর মডেল তৈরি করতে হবে। চতুর্থত, জনসচেতনতার জন্য গণমাধ্যম, স্থানীয় নেতৃত্ব ও ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করতে হবে—কারণ টিকাবিরোধী গুজব এখন একটি উদ্বেগজনক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
হামের এই সংক্রমণ শেষ পর্যন্ত একটি প্রশ্নের দিকেই নিয়ে যায়: একটি রাষ্ট্র কতটা দায়িত্বশীল তার নাগরিকদের প্রতি, বিশেষত তার সবচেয়ে দুর্বল নাগরিকদের—শিশুদের—প্রতি? প্রতিটি মৃত শিশু এই বহুস্তরীয় ব্যর্থতার জীবন্ত সাক্ষী। এই সংকটের দায় কোনো একক সরকারের একার নয়, আবার কোনো সরকারই সম্পূর্ণ দায়মুক্তও নয়। তবু রাজনৈতিক দলগুলো যখন একে অপরের দিকে আঙুল তোলায় ব্যস্ত, তখন মনে রাখা দরকার যে, মৃত শিশুরা দলীয় পরিচয় বহন করে না; তারা শুধু বাংলাদেশের সন্তান। হাম একটি সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য রোগ। যে রাষ্ট্র জেনেশুনে, সতর্কতা পেয়েও তার শিশুকে রক্ষা করে না—সে রাষ্ট্র কেবল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থ হয় না, সে মানবিক দায়িত্বের মূলে আঘাত করে এবং সভ্যতার ন্যূনতম প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে। চারশোরও বেশি শিশুর মৃত্যু পরিসংখ্যান নয়—এটি একটি জাতির বিবেকের সামনে রাখা প্রশ্নপত্র, যার উত্তর এখনও বাকি।