১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

রাজস্ব অর্থের অগ্রাধিকার—বিশ্ববিদ্যালয়ের ভোজ নাকি জনকল্যাণ?

প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব উদ্যোগে বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল করে সংযমের বার্তা দেওয়ার পরেও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজস্ব অর্থে ব্যাপক ভোজের আয়োজন স্পষ্টত আর্থিক শৃঙ্খলার পরিপন্থি।

রাজস্ব অর্থের অগ্রাধিকার—বিশ্ববিদ্যালয়ের ভোজ নাকি জনকল্যাণ?
বিলাসী ভোজের পেছনে লক্ষ লক্ষ টাকা অপচয় না করে সেই অর্থ গবেষণাগারের মানোন্নয়নে ব্যয় করা অনেক বেশি অর্থবহ। প্রতীকী ছবি

খালিদুর রহমান খালিদুর রহমান

Published : 01 Aug 2026, 06:06 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:46 PM

রাষ্ট্র পরিচালনায় আর্থিক শৃঙ্খলা, ব্যয়সংযম ও জবাবদিহি সুশাসিত অর্থনীতির মৌলিক ভিত্তি। কোনো রাষ্ট্রের উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো নির্মাণ, প্রবৃদ্ধির হার অথবা দৃশ্যমান প্রকল্পের মাধ্যমে বিচার করা যায় না; সেই উন্নয়নের প্রকৃত মান নির্ভর করে সরকারি অর্থ কতটা দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, জনগণের করের অর্থ কতটা স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যয় হচ্ছে এবং প্রতিটি ব্যয়ের ক্ষেত্রে জনস্বার্থ কতটা অগ্রাধিকার পাচ্ছে তার ওপর। যখন রাষ্ট্রের অর্থ অপচয়, বিলাসিতা এবং অপ্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতার পেছনে ব্যয় হয়, তখন তা শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয় না, জনগণের আস্থাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা এই বাস্তবতাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

বিগত আওয়ামী সরকারের সময় দেশের অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে কিছু দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা গেলেও একই সময়ে আর্থিক অব্যবস্থাপনা, অপচয় ও দুর্নীতির অসংখ্য অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, শেখ হাসিনার সরকারি খাবার ও আপ্যায়ন বাবদ বার্ষিক ব্যয় ছিল প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা শুধুমাত্র আপ্যায়নের জন্য ব্যয় হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশের বাস্তবতায় এই পরিমাণ ব্যয় স্বাভাবিকভাবেই বিস্ময়ের জন্ম দেয়। কারণ সরকারি অর্থের প্রতিটি টাকাই আসে জনগণের কর, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের আয় এবং বিভিন্ন উৎস থেকে সংগৃহীত সম্পদ থেকে। সেই অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সংযম, প্রয়োজনীয়তা ও জনকল্যাণের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়ার কথা। অথচ যখন সরকারি আপ্যায়নের মতো খাতে বিপুল অর্থ ব্যয়ের তথ্য প্রকাশিত হয়, তখন রাষ্ট্রের আর্থিক শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় অপচয় কখনোই বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এই নেতিবাচক চর্চা ধীরে ধীরে সাংগঠনিক সংস্কৃতিতে পরিণত হলে তার প্রভাব প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে পড়ে। ওপরমহলে অপ্রয়োজনীয় ব্যয়কে স্বাভাবিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হলে নিচের স্তরেও একই ধরনের প্রবণতা জন্ম নেয়। ফলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অনেক সময় মনে করেন, রাজস্ব খাতের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে কঠোর জবাবদিহির প্রয়োজন নেই। এই মানসিকতা দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়।

জুলাই আন্দোলন ও ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। জনগণের প্রত্যাশা ছিল, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে শুধু রাজনৈতিক নেতৃত্বেই নয়, প্রশাসনিক সংস্কৃতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো জ্ঞানচর্চার প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আর্থিক শৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী হবে। তবে পরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন ধরনের অভিযোগও সামনে এসেছে।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বয়কদের সমর্থনে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরা নিজেদের পদ ধরে রাখার স্বার্থে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছেন। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি পূরণ করা অবশ্যই ইতিবাচক দায়িত্ব। তবে কোনো দাবি বাস্তবায়নের আগে তার আর্থিক সক্ষমতা, নীতিগত গ্রহণযোগ্যতা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করা অপরিহার্য। অভিযোগ অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে এসব বিষয় যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করেই রাজস্ব খাতের অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, যার আর্থিক ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হয় নির্দিষ্ট নীতিমালা, বাজেট কাঠামো ও জনস্বার্থের আলোকে। রাজস্ব খাতের অর্থের মূল উদ্দেশ্য শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা, গবেষণা, শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সুবিধা, অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যয় নির্বাহ করা। এই অর্থ যদি অগ্রাধিকার বিবেচনা ছাড়া ব্যয় হয়, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কার্যক্রমই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নতুন প্রশাসনের কাছে প্রত্যাশা ছিল, অতীতের অনিয়ম থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও দক্ষ, জবাবদিহিমূলক ও নীতিনিষ্ঠ প্রশাসনিক পরিবেশ গড়ে তোলা হবে। তবে কিছু ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে কম গ্রহণযোগ্য প্রশাসকদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগও উঠছে যে, নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় রাখার উদ্দেশ্যে তারা শিক্ষার্থীদের এমন কিছু দাবি মেনে নিচ্ছেন, যা সব সময় ন্যায়, নীতি অথবা আর্থিক শৃঙ্খলার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কখনো জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে নেওয়া উচিত নয়; তা হওয়া উচিত আইন, নীতিমালা, আর্থিক সক্ষমতা ও প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের ভিত্তিতে। অন্যথায় সাময়িকভাবে কিছু পক্ষ সন্তুষ্ট হলেও প্রতিষ্ঠান শেষ পর্যন্ত ক্ষতির মুখে পড়ে।

এই বাস্তবতার এমন উদাহরণ সামনে এসেছে যে ৫ অগাস্ট উদ্‌যাপনের জন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলিয়ে প্রায় ৯ হাজার মানুষের জন্য রাজস্ব খাতের অর্থে খাবারের আয়োজন করা হচ্ছে। জনপ্রতি ৩০০ টাকা হিসেবে এক বেলার এই আয়োজনেই ব্যয় হবে ২৭-৩০ লাখ টাকা। সংখ্যার বিচারে এটি হয়তো কোনো জাতীয় বাজেটের তুলনায় বড় অঙ্ক নয়, তবে নীতিগতভাবে তা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজস্ব অর্থ কি এ ধরনের ভোজের জন্য ব্যয় হওয়া উচিত? বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই ব্যয় কতটা যৌক্তিক? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে শুধু অর্থের পরিমাণ নয়, ব্যয়ের উদ্দেশ্য, প্রয়োজনীয়তা ও বিকল্প ব্যবহারের সম্ভাবনাও বিবেচনায় নিতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় দিবস পালন, স্মরণসভা, আলোচনা অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক আয়োজন অবশ্যই হতে পারে। এসব কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিহাসচেতনা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে সহায়ক। তবে স্মরণ সংস্কৃতির মূল উদ্দেশ্য যদি বিলাসী আপ্যায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়, তাহলে সেই কর্মসূচির প্রকৃত তাৎপর্য অনেকটাই ম্লান হয়ে পড়ে। স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের নানা উপায় রয়েছে। গবেষণা তহবিল গঠন, বৃত্তি প্রদান, বৃক্ষরোপণ, রক্তদান কর্মসূচি, গ্রন্থ প্রকাশ ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো উদ্যোগ অনেক বেশি অর্থবহ হতে পারে।

বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও ব্যয়সংযমের প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করেছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্য নিয়ে অনিশ্চয়তা, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাব, সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকি ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতির অস্থিরতা বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার ব্যয়সংকোচন ও সম্পদের সাশ্রয়ী ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করছে। প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব উদ্যোগে বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল করার সিদ্ধান্তও সেই নীতিরই প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাষ্ট্র যখন সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সংযমের বার্তা দেয়, তখন সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি স্তরেও সেই নীতির প্রতিফলন ঘটানো প্রত্যাশিত। ফলে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজস্ব অর্থে ব্যাপক ভোজের আয়োজন আর্থিক সংযমের নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলেই প্রতীয়মান হয়।

একটি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক শক্তি শুধু আয়ের ওপর নির্ভর করে না; ব্যয়ের গুণগত মানও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একই অর্থ যদি অধিকতর মানবিক, উৎপাদনশীল ও দীর্ঘমেয়াদি জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা যায়, তবে তার সামাজিক সুফল বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। উদাহরণস্বরূপ, ২৭-৩০ লাখ টাকা দিয়ে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য জরুরি সহায়তা তহবিল গঠন করা সম্ভব, গবেষণাগারের যন্ত্রপাতি কেনা সম্ভব, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করা সম্ভব, গ্রন্থাগারের সংগ্রহ সমৃদ্ধ করা সম্ভব। ক্যাম্পাসে প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণেও এই অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অর্থাৎ একই সম্পদ ভিন্নভাবে ব্যবহার করলে তার প্রভাব আরও দীর্ঘস্থায়ী ও জনকল্যাণমুখী হতে পারে।

আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, একই অর্থ যদি জুলাই আন্দোলনে নিহত বা আহত ব্যক্তিদের পরিবারকে সহায়তা প্রদানে ব্যবহার করা হতো, তবে সেটি শুধু আর্থিক সহায়তা হতো না; তা জাতীয় কৃতজ্ঞতারও বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারত। একইভাবে সমাজের দরিদ্র, অসহায় ও প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠতে পারত। জাতীয় সংকটের সময় সম্পদের মানবিক ব্যবহার নাগরিক সমাজে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ভবিষ্যতের নেতৃত্ব গড়ে তোলার প্রতিষ্ঠান বলা হয়। তাই এখানে শুধু পাঠদান নয়, সুশাসন, নৈতিকতা, জবাবদিহি ও সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহারের শিক্ষাও বাস্তবে প্রদর্শিত হওয়া প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত থেকে যেমন শিক্ষা গ্রহণ করে, তেমনি রাষ্ট্র পরিচালনার মূল্যবোধ সম্পর্কেও ধারণা লাভ করে। যদি তারা দেখে যে সীমিত সম্পদও যথাযথ পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা ও জনস্বার্থের ভিত্তিতে ব্যয় করা হচ্ছে, তাহলে ভবিষ্যতের নাগরিক ও প্রশাসক হিসেবেও তারা একই মূল্যবোধ ধারণ করবে।

অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়াই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি। যে অপচয়, অব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহির সংকট একসময় জনঅসন্তোষ সৃষ্টি করেছিল, সেই একই সংস্কৃতি নতুন রূপে ফিরে আসুক, তা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রকৃত সার্থকতা তখনই অর্জিত হবে, যখন প্রশাসনিক আচরণেও ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে। সরকারি অর্থের প্রতিটি ব্যয়কে জনস্বার্থ, ন্যায়নীতি, আর্থিক শৃঙ্খলা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার আলোকে মূল্যায়ন করতে হবে। কারণ জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণেই ব্যয় হওয়া উচিত। এই সহজ সত্যকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্যয়সংযম, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা আজ সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি।

খালিদুর রহমান শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক। ই-মেইল: khalid_sust@yahoo.com