Published : 06 Nov 2025, 11:58 AM
কয়েক মাসের প্রচারণা শেষে ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্য বিহারে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।
দুই পর্বে মোট ২৪৩টি আসনে ভোট হবে। বৃহস্পতিবার প্রথম দফায় বিধানসভার অর্ধেক আসনে, ১২১টিতে ভোট নেওয়া হচ্ছে।
বিরোধী জোটের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) রাজ্যে ক্ষমতা ধরে রাখার ব্যাপারে বেশ আশাবাদী, বলছে এনডিটিভি।
স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর ৯টা পর্যন্ত ১৩ দশমিক ১৩ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে নির্বাচন কমিশনের বরাতে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
শীর্ষ নেতাদের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার, উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী, রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) লালু যাদব ও তার ছেলে তেজস্বী যাদব এবং লোক জনশক্তি পার্টির (এলজেপি) চিরাগ পাসওয়ান এরই মধ্যে ভোট দিয়েছেন।
পরিবারের সদস্যদের আঙুলে ভোটের কালির দাগ সম্বলিত ছবি পোস্ট করে লালু যাদব লিখেছেন, “তাওয়ায় রুটি বারবার উল্টানো লাগে, না হয় পুড়ে যায়। ২০ বছর অনেক দীর্ঘ সময়। এখন সময় এসেছে তরুণদের সরকার ও নতুন বিহারের। তেজস্বী সরকার এখন খুব দরকার।”
ভোট দেওযার পর নীতিশ বলেছেন, “ভোট দিন এবং সবাইকে ভোট দিতে উৎসাহিত করুন।”
উপ-মুখ্যমন্ত্রী চৌধুরী জোরের সঙ্গে বলেছেন, বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে এনডিএ-ই ফের ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে।
তার জোট শরিক চিরাগ পাসওয়ান বলেছেন, তিনি প্রথম ধাপে রেকর্ড সংখ্যক ভোটার উপস্থিতি দেখতে চান। এলজেপির এই নেতা সবাইকে ভোটের অধিকার প্রয়োগ করারও আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিহারের ভোটারদের পূর্ণ উদ্দীপনা নিয়ে ‘গণতন্ত্রের উৎসবে’ শামিল হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। এনডিএ-র জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেছেন, ক্ষমতাসীন জোট এই নির্বাচনে নজিরবিহীন সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করবে।
ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগকে কাজে লাগিয়ে এবং মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী আরজেডির তেজস্বী যাদবের ‘প্রতি ঘরে চাকরির’ প্রতিশ্রুতির ওপর ভর করে এনডিএ-কে ছাড়িয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী বিরোধীদের মহাজোট।
২০২০ সালের নির্বাচনে দল হিসেবে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া আরজেডি এবার তরুণদের ভোট ব্যাগে ভরতে তেজস্বীর নেতৃত্বে আগ্রাসী প্রচারণা চালিয়েছে।
বিজেপির প্রচারণায় ছিল প্রতিবারের মতোই রথী-মহারথীদের ভিড়। প্রধানমন্ত্রী মোদী থেকে শুরু করে মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য ও বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোর মুখ্যমন্ত্রীরা বিহারে সমাবেশ-মিছিলে অংশ নিয়ে কর্মী-সমর্থকদের মনোবল চাঙা করতে ভূমিকা রেখেছেন।
দিনকয়েক আগে গুঞ্জন উঠেছিল, রাজ্যের ছয়বারের মুখ্যমন্ত্রী ৭৪ বছর বয়সী নীতিশ কুমারকে এবার আর রাজ্যের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী পদে রাখা হচ্ছে না। নীতিশের জনতা দল ইউনাইটেডের (জেডিইউ) চেয়ে জোটে বিজেপির প্রভাব-প্রতিপত্তিও বেশি। সব মিলিয়ে এ গুঞ্জন বেশ হাওয়াও পেয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও বিজেপিপ্রধান জেপি নড্ডা ওই জল্পনা হাওয়ায় উড়িয়ে দেন।
২০২০ সালের নির্বাচনে জোটসঙ্গী আরজেডির তুলনায় খুবই খারাপ ফল করা কংগ্রেস এবারও নড়বড়ে প্রচারণা চালিয়েছে।
শুরুতে রাহুল গান্ধী ও তেজস্বী যাদবের যৌথ পদযাত্রা জোরাল সূচনার ইঙ্গিত দিলেও দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে কংগ্রেস শীর্ষ নেতাকে বিহারের ব্যাপারে উদাসীন দেখা গেছে।
নতুন খোলা জান সুরাজ পার্টি নিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করা নির্বাচনী কৌশলবিদ প্রশান্ত কিশোর এই নির্বাচনে ‘এক্স ফ্যাক্টর’ হতে পারেন বলেও অনেকে মনে করছেন।
এই সময়ে তার নির্বাচনে অংশগ্রহণ নানা ধরনের প্রশ্নও তুলছে। কেউ কেউ বলছেন, বিজেপিবিরোধী ভোট ভাগ করার লক্ষ্যেই মাঠে নেমেছেন তিনি।
কিশোর বলছেন, তার দল এবারের নির্বাচনে হয় ১০টির কম আসন পাবে, নয়তো দেড়শর বেশি আসনে জিতবে।
তবে নির্বাচনের আগে-পরে তার দল কোনো জোটেই যাবে না। রাজ্যের প্রতিটি আসনে প্রার্থী দেওয়া জান সুরাজ দুর্নীতি ও জরুরি পরিষেবার দুর্দশাকে তাদের প্রচারণার হাতিয়ার বানিয়েছে।
ভারতের রাজনীতিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এ রাজ্যের এবারের নির্বাচনে বেকারত্ব, অভ্যন্তরীণ অভিবাসন, দুর্নীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক ইস্যুগুলোই প্রাধান্য পাচ্ছে।
তেজস্বী যাদব ‘প্রতি ঘরে চাকরির’ যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে এক কোটি ৩০ লাখ চাকরি দেওয়া লাগবে, যাকে অবাস্তব বলছে ক্ষমতাসীন এনডিএ। এদিকে তারাও এক কোটি চাকরি এবং নারীর ক্ষমতায়নের আশ্বাস দিয়েছে, বলেছে ক্ষমতায় গেলে তারা এক কোটি নারী লাখপতি বানানোর মিশন হাতে নেবে।
প্রথম ধাপে যে ১২১টি আসনে ভোট হচ্ছে তার বেশিরভাগই পড়েছে বিহারের মধ্যাঞ্চলে। ২০২০ সালে এসব আসনের বেশিরভাগই জিতেছিল বিরোধীরা, ১২১টির মধ্যে ৬৩টি। বিজেপি এবং নীতিশ কুমারের জেডিইউ একসঙ্গে জিততে পেরেছিল মোটে ৫৫টি আসন।