Published : 04 Aug 2026, 11:05 PM
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর ২২ সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও উদ্বেগ জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) দুই অংশ।
সংগঠনগুলো অবিলম্বে চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের পুনর্বহাল এবং তাদের আইনসম্মত অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
মঙ্গলবার পৃথক বিবৃতিতে ডিআরইউ, ডিইউজের শহিদুল ইসলাম-খুরশীদ আলম নেতৃত্বাধীন অংশ এবং সাজ্জাদ আলম খান তপু-আকতার হোসেন নেতৃত্বাধীন অংশ এ দাবি জানায়।
ডিআরইউ
ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিকদের প্রতি এ ধরনের আকস্মিক গণহারে চাকরিচ্যুতি শুধু ‘অমানবিকই নয়’, এটি শ্রম আইন, পেশাগত মর্যাদা এবং গণমাধ্যমের কর্মপরিবেশের জন্যও ‘উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত’।
তারা বলেন, চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের অধিকাংশই এক যুগের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ প্রতিদিনে কর্মরত ছিলেন। ‘আইনসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না করে’ তাদের চাকরিচ্যুত করায় অন্য সাংবাদিকদের মধ্যেও উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন কর্মরত সাংবাদিকদের সরিয়ে নতুন জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়ে থাকলে তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, পেশাগত স্থিতিশীলতা ও কর্মপরিবেশের জন্য ‘উদ্বেগের’ বিষয়।
ডিআরইউ নেতারা দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়ে চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের পুনর্বহালের আহ্বান জানিয়েছেন। তা না হলে সাংবাদিকদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে তারা সতর্ক করেছেন।
ডিইউজের শহিদুল-খুরশীদ অংশ
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, একটি সংবাদমাধ্যমের প্রাণশক্তি সাংবাদিকরা। তাদের শ্রম, মেধা, ত্যাগ ও পেশাদারিত্বের ওপরই একটি সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা ও সাফল্য নির্ভর করে।
তারা বলেন, “কোনো গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এবং শ্রম আইন ও সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার যথাযথভাবে বিবেচনা না করেই” বিপুলসংখ্যক সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, যা “অমানবিক, অন্যায্য এবং শ্রম অধিকারবিরোধী।”
ডিইউজে নেতারা বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত শুধু সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের জীবন-জীবিকাকেই অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেয় না, বরং গোটা গণমাধ্যম শিল্পে ভয়, অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতার পরিবেশ তৈরি করে।
তারা অবিলম্বে চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের পুনর্বহাল, চাকরির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং সব আইনগত ও আর্থিক অধিকার নিশ্চিত করতে বসুন্ধরা গ্রুপের কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিকদের চাকরির নিরাপত্তা, মর্যাদা ও শ্রম অধিকার রক্ষার প্রশ্নে ডিইউজে কোনো আপস করবে না। ভবিষ্যতে নতুন করে কোনো সাংবাদিককে চাকরিচ্যুতির চেষ্টা হলে সাংবাদিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে তা ‘প্রতিহত’ করা হবে।
ডিইউজের তপু-আকতার অংশ
ডিইউজের অন্য অংশের সভাপতি সাজ্জাদ আলম খান তপু ও সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেনের বিবৃতিতেও চাকরিচ্যুত ২২ সাংবাদিককে দ্রুত পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়।
তারা বলেন, “আইনসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত করা” শ্রম আইন, পেশাগত মর্যাদা এবং কর্মপরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত। এতে গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সাংবাদিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এমন সিদ্ধান্ত “অন্যায্য ও অমানবিক” বলেও মন্তব্য করেন তারা।
তপু-আকতার নেতৃত্বাধীন ডিইউজে অংশ সতর্ক করে বলেছে, অবিলম্বে চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের পুনর্বহাল না করা হলে ন্যায্য অধিকার আদায়ে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথে আন্দোলনের কর্মসূচিও বিবেচনা করা হবে।