Published : 10 Dec 2025, 11:50 AM
বাংলাদেশে কারাবন্দি চার সাংবাদিকের পরিস্থিতি নিয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করে তাদের মুক্তি দিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)।
সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসের আগে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে লেখা এক চিঠিতে বলেছে, তাদের তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশে বর্তমানে চারজন সাংবাদিক হত্যা মামলায় আটক আছেন, যে অভিযোগগুলোর পক্ষে ‘বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই’ এবং তাদের ‘সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে’ তাদের এসব মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
চিঠিতে বলা হয়, ফারজানা রূপা, শাকিল আহমেদ, মজাম্মেল বাবু ও শ্যামল দত্ত—এই চার সাংবাদিককে নতুন নতুন ‘হত্যা’ মামলার মুখোমুখি হতে হচ্ছে এবং তাদের জামিন নিয়মিত নাকচ করা হচ্ছে। এমনকি তাদের পক্ষে কাজ করা আইনজীবী জেড আই খান পান্নাকেও মামলায় জড়ানো হয়েছে।
কাশিমপুর কারাগারে আটক এসব সাংবাদিকের পরিবার যে পরিস্থিতির কথা জানিয়েছে, তা ‘গুরুতর মানবাধিকার ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়’ বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সিপিজে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, “৩৬ বর্গফুটের ছোট ঘরে লোহার গ্রিলের ঘেরা কক্ষে ঠান্ডা, মশার উপদ্রব ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তারা দিন কাটাচ্ছেন। কংক্রিটের মেঝেতে বিছানা ছাড়া ঘুমাতে হয়; কারা কর্তৃপক্ষের দেওয়া খাবার অপ্রতুল ও অনেক সময় অখাদ্য। নিয়মিত চিকিৎসার সুবিধা নেই, কারাগারে কোনো স্থায়ী চিকিৎসকও নেই।
“ক্যানসার, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো গুরুতর রোগে আক্রান্তদের অনেকেই মাসের পর মাস চিকিৎসাবঞ্চিত বলে পরিবার জানিয়েছে।”
২০২৪ সালের নভেম্বরে ডেইলি স্টারকে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ ধরে সিপিজে চিঠিতে লিখেছে, “আপনি সেখানে স্বীকার করেছিলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ‘তড়িঘড়ি করে’ হত্যা মামলা করা হয়েছিল এবং সরকার এসব পদক্ষেপ থামিয়ে মামলাগুলো পর্যালোচনায় কমিটি গঠন করেছে।
“কিন্তু ২০২৪ সালের ৮ অগাস্ট আপনি দায়িত্ব নেওয়ার পর চারজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধেই নতুন হত্যা মামলা হয়েছে।”
বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যে সুরক্ষিত, বাংলাদেশ যে মানবাধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সনদেও পক্ষভুক্ত, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে সিপিজে চিঠিতে বলেছে, “বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে।”
সিপিজে লিখেছে, “মানবাধিকার দিবস সামনে রেখে আটক সাংবাদিকদের যাতে তাদের পরিবারের কাছে এবং নিজেদের পেশায় ফিরে যেতে পারেন, সেই পদক্ষেপ নিতে আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই। বাস্তব সংস্কার মানে অতীতের ভুলচর্চা থেকে বেরিয়ে আসা,সেগুলোর পুনরাবৃত্তি নয়।”
চিঠিতে বলা হয়, “আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশের অধিকারের প্রতি সম্মান দেখানো সব রাজনৈতিক দলের জন্যেই অপরিহার্য।”
প্রধান উপদেষ্টা দ্রুত এসব বিষয়ে নজর দেবেন-এমন প্রত্যাশা জানিয়ে সিপিজে বলেছে, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করতে তারা সবসময় প্রস্তুত।