Published : 18 May 2026, 01:27 PM
এক টেলিভিশন চ্যানেল থেকে অন্যটিতে যেতে সবশেষ কর্মস্থলের ‘অনাপত্তিপত্র’ (এনওসি) বা ছাড়পত্র নেওয়ার যে বিধান করা হয়েছে, টিভি মালিকপক্ষের সেই নির্দেশনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরাম (এসআরএফ)।
সাংবাদিকদের সংগঠনটি বলছে, একতরফাভাবে এমন শর্ত আরোপ দেশের প্রচলিত শ্রম আইন ও সংবিধানের পরিপন্থি।
রোববার অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স-অ্যাটকোর সভাপতি অঞ্জন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এনওসি গ্রহণ বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনা জানানো হয়।
এতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকাকালীন অথবা অব্যাহতির পর যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনাপত্তিপত্র বা ছাড়পত্র গ্রহণ না করে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি গ্রহণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নতুন কর্মস্থলে যোগদানের আগে অবশ্যই বর্তমান কোম্পানি থেকে এই ছাড়পত্র নিতে হবে। অনাপত্তিপত্র ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি গ্রহণ করলে বা যোগ দিলে ওই কর্মী প্রতিষ্ঠানের নিয়ম ভঙ্গ করেছেন বলে গণ্য হবে এবং সে অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।
অ্যাটকোর এই নির্দেশনার পরপরই কড়া সমালোচনা করে সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের (এসআরএফ) সভাপতি মাসউদুর রহমান রানা ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ডালিম এক যৌথ বিবৃতিতে নিন্দা জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের কর্মস্থল পরিবর্তন, নিজের পছন্দ ও যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মস্থল বেছে নেওয়া এবং স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের অধিকার সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত। কোনো সংগঠন বা মালিকপক্ষ একতরফাভাবে এনওসি বাধ্যতামূলক করার মতো নির্দেশনা জারি করে সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা খর্ব করতে পারে না।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ অনুযায়ী কোনো কর্মীর চাকরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এমন বাধ্যবাধকতা আরোপের কোনো সুযোগ নেই। শ্রম আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বা কর্মীর অধিকার সীমিত করে এমন কোনো শর্ত আরোপ বেআইনি ও অগ্রহণযোগ্য। ফলে অ্যাটকোর এ নির্দেশনা দেশের প্রচলিত শ্রম আইন ও অধিকারের সুস্পষ্ট পরিপন্থি।
অ্যাটকোর এই সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমে স্বাধীন ও পেশাদার কর্মপরিবেশ নষ্ট করবে মন্তব্য করে এসআরএফের বিবৃতিতে বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত সাংবাদিকদের মধ্যে ভয়, অনিশ্চয়তা ও পেশাগত অস্থিরতা তৈরি করবে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মুক্ত গণমাধ্যম চর্চার জন্য হুমকিস্বরূপ।
অবিলম্বে অনাপত্তিপত্র সংক্রান্ত এই নির্দেশনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতাবিরোধী যেকোনো সিদ্ধান্ত থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত থাকার জোর দাবি জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরাম।