এক যুগ পর ঢাকায় ব্রিটিশ কারি উৎসব
২১ থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে খানাপিনার এ আয়োজন
ব্রিটিশ-বাঙালি রন্ধনপটিয়শীদের নানান স্বাদের ব্রিটিশ কারি পদের স্বাদ নেওয়া যাবে এই উৎসবে।
‘কারি’ অর্থাৎ ঝোল-ধরনের খাবারের নাম শুনলে এশিয়া বা ভারতীয় রসুইঘরের কথাই আগে মনে পড়ে। বিভিন্ন ধরনের মসলার মিশ্রণে তৈরি খাবারের ইতিহাস খ্রিস্টের জন্মের বহু আগে। অতীত যদি ঘটতেই হয়, তবে মহেঞ্জোদারো সভ্যতার সময় থেকেই ‘কারি’র খোঁজ মিলবে।
সেই সময় থেকে মুঘল আমল পর্যন্ত ঝোল ঝোল খাবারের স্বাদ এশিয়া অঞ্চলের মানুষের তৃপ্তি মিটিয়েছে। তারপর ব্রিটিশদের আগমনে এই পদের খাবারের জনপ্রিয়তা পেয়েছে ইউরোপজুড়ে।
তাই যুক্তরাজ্যে ‘কারি’ খ্যাত হয়েছে ‘অ্যাডোপটেড ন্যাশনাল ডিশ’ হিসেবে। আর তাই ব্রিটিশ কারি উৎসবের নাম শুনে চমকানোর কিছু নেই।
ভারতীয় ঘরানার ‘কারি’র সঙ্গে ব্রিটিশ ‘কারি’র অবশ্যই পার্খক্য মিলবে। আর সেই স্বাদের ভিন্নতা উপভোগ করতে ইচ্ছে জাগলে যুক্তরাজ্যে না গিয়ে ‘ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা’য় ঢুঁ দিলেও হবে।
দীর্ঘ এক যুগ পর কারি লাইফ ম্যাগাজিনের আয়োজনে এবং ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকার তত্ত্বাবধায়নে, সেখানে হতে যাচ্ছে ‘ব্রিটিশ ক্যুজিন’ ও ‘কারি’ প্রদর্শনী ‘ব্রিটিশ কারি ফেস্টিভল। এই উৎসবের টাইটেল স্পন্সর সিটি ব্যাংক-অ্যামেরিকান এক্সপ্রেস; সহ-স্পন্সর হালদা ভ্যালি।
এই উপলক্ষে বুধবার ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
যেখানে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি ও ইউকে হাউজ অব লর্ডসেরর সমস্য করণ বিলিমোরিয়া, সিটি ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মোহাম্মদ মারুফ, বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতিকুর রহমান, ব্রিটিশ হাই কমিশনের ‘ডিরেক্টর অব কমিউনিকেশনস’ ফ্রান্সেস জ্যাকস, কারি লাইফ ম্যাগাজিনের সম্পাদক সৈয়দ বেলাল আহমেদ ও প্রধান সম্পাদক সৈয়দ নাহাস পাশা এবং ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকার মহাব্যবস্থাপক অশ্বনী নায়ার।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত দুই দশকে ‘ব্রিটিশ কারি ফেস্টিভল’ বিশ্ব মঞ্চে শেফদের প্রতিভা প্রদর্শনের মাধ্যমে সেরা ব্রিটিশ কারি অভিজ্ঞতা পৌঁছে দিয়েছে ইউরোপ ও এশিয়াজুড়ে।
এবারের উৎসবে থাকছেন, মিশেলিন স্টার শেফ ডমিনিক চ্যাপম্যান। তিনি বার্কশায়ারের ‘দ্য বিহাইভ রেস্টুরেন্টে’ এর প্রধান শেফ এবং প্যাট্রন।
মূলত রেস্তোরাঁর গুণ-মান ও ধারাবাহিকতার ওপর ভিত্তি করে খাবার ও সেবার জন্য মিশেলিন স্টার দেওয়া হয়।
বিশ্ব ভ্রমণ এবং অনেক মিশেলিন স্টার শেফের সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে চ্যাপম্যান আন্তর্জাতিক খাবারের সমৃদ্ধ ও উপভোগ্য সব স্বাদের সঙ্গে বেশ পরিচিত। ২০১৪ সাল থেকে ‘দ্য বিহাইভ’য়ে থাকার পাশাপাশি চ্যাপম্যান সম্প্রতি বার্কশায়ারের ‘বারচেটস গ্রিন’য়ে ‘মিশেলিন স্টার গ্যাসট্রোপাব দ্য ক্রাউন’ অর্জন করেন।
চ্যাপম্যানের ঢাকায় আসার মাধ্যমে এই প্রথমবারের মত কোনো মিশেলিন স্টার শেফ বাংলাদেশে এসেছেন।
তিনি ছাড়াও আরও পাঁচ জন অ্যাওয়ার্ডজয়ী শেফ উপস্থিত থাকছেন। তারা হলেন কেন্টের ‘শোজনা’র মালিক ও শেফ জামাল উদ্দিন আহমেদ, ‘মেইডেনহেড’স দ্য ফ্যাট বুদ্ধা’র জাফর সোলিম উদ্দিন, ‘দ্য ক্যাপিটাল ডারহাম’ এর এক্সিকিউটিভ শেফ সৈয়দ জহুরুল ইসলাম, ‘হোটেল হিন্দুস্তান ইন্টারন্যাশনাল’ এর প্রাক্তন এক্সিকিউটিভ শেফ উৎপল কুমার মণ্ডল এবং স্পেশালিটি গ্রুপের এক্সিকিউটিভ শেফ মলয় হালদার।
অনুষ্ঠানে লর্ড করণ বিলিমোরিয়া বলেন, “কারি যুক্তরাজ্যের নিত্য জীবনযাত্রার একটি অপরিহার্য অংশ৷ গ্রাম কিংবা শহরে, সরকারি আবাসন কিংবা বাসাবাড়িতে সেখানে সবাই কারি খায় এবং খেতে বেশ পছন্দ করে। এই শিল্পের অগ্রগতি বেশ লক্ষণীয়, ১৯৮০’র দশকের মুষ্টিমেয় কিছু রেস্তোরাঁর সংখ্যা এখন ১২ হাজারেরও বেশি।”
তিনি নিজেই প্রশ্ন রেখে উত্তর দেন, “কেন এই কারি বিপ্লব? উত্তরটি বেশ সহজ। যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশিরা এবং সেরা বাংলাদেশি শেফ ও রেস্তোরাঁগুলোই এর প্রধান কারণ। যে কারণে আজকে আমাদের এখানে উপস্থিত থাকাটাও বেশ প্রাসঙ্গিক ও গুরুত্বপূর্ণ।”
এই উৎসব নিয়ে ব্রিটিশ হাই কমিশনার রবার্ট ডিকসন এক বিবৃতিতে বলেন, “আমি সত্যিই ভীষণ আনন্দিত যে ব্রিটিশ কারি ফেস্টিভলের মাধ্যমে সপ্তাহব্যাপী আয়োজনে বাংলাদেশে ঐতিহ্যবাহী ব্রিটিশ কারি প্রদর্শনী ও উদযাপন হচ্ছে। আমাদের কারি হাউজগুলো দুইশ বছরের বেশি সময় ধরে যুক্তরাজ্যের মানুষের জীবন জুড়ে আছে এবং বর্তমানে তা ব্রিটিশদের ফেভারিট। ব্রিটিশ কারির শুরুটা হয়েছিল বাঙালিদের হাত ধরে এবং এর ধারাবাহিক শক্তিশালী অগ্রগতি ব্রিটবাংলা বন্ধনেরেই প্রতীক।”
শেফ ডমিনিক চ্যাপম্যান বলেন, “বাংলাদেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি। রন্ধনশিল্পে অনন্য অভিজ্ঞতা অর্জন এবং দলের সঙ্গে কাজ করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। আমি তো অবশ্যই ব্রিটিশ রেসিপি দ্বারা অনুপ্রাণিত খাবার তৈরি করব, তবে আমি স্থানীয় রান্নার সর্বোচ্চ স্বাদও নিতে চাই।”
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কারি লাইফ ম্যাগাজিন ইউকের সৈয়দ বেলাল আহমেদ এবং সৈয়দ নাহাস পাশা দুই ভাই এই ব্রিটিশ কারি উৎসবের মাধ্যমে সর্বজনীন সুস্বাদু খাবারের স্বাদ পৌঁছে দিচ্ছেন বিশ্বজুড়ে।
ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের ব্যুফে ডিনার রেস্তোরাঁ ‘এলিমেন্টস-অল ডে ডাইনিং’য়ে ২১ থেকে ২৬ অক্টোবর এই উৎসব চলবে। আর বিভিন্ন পদের সুস্বাদু ‘কারি’ উপভোগ করা যাবে জনপ্রতি ৭ হাজার ৫০০ টাকায়। এছাড়া নির্দিষ্ট ব্যাংকের কার্ডের ব্যবহারে থাকছে ‘বাই ওয়ান গেট ওয়ান’ সুবিধা।
২০০১ সালে ঢাকায় প্রথমবারের মতো এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ আয়োজিত হয় ২০১১ সালে।
