বন্ধুদের মাঝে অবহেলিত কি-না, বোঝার রয়েছে উপায়
বন্ধু মহলে থেকেও নিজেকে একাকী ও গুরুত্বহীন মনে হলে, বন্ধুত্ব নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনার প্রয়োজন পড়বে।
একটি নির্দিষ্ট বন্ধুমহলের অংশ হওয়ার পরও, অনেক সময় মনে গভীর একাকিত্ব এবং নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হতে পারে।
চ্যাট গ্রুপে থাকা বা বড় কোনও আয়োজনের দাওয়াত পাওয়ার পরেও অবচেতনভাবে মনে হতে পারে— গ্রুপের বাকি সদস্যরা কেবল দয়া বা লৌকিকতা রক্ষার্থেই ডাকছেন।
মনস্তত্ত্বের ভাষায় এই মানসিক অবস্থাকে ‘ফ্রিঞ্জ ফ্রেন্ড’ বা ‘ব্যাকআপ ফ্রেন্ড’ বলা হয়।
স্বাস্থ্য ও জীবনধারা-বিষয়ক ওয়েবসাইট সেল্ফ-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে, যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি-ভিত্তিক ‘ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট’ ড. ক্রিস্টিনা ফেরারি বলেন, “বন্ধুত্বের এই স্তরবিন্যাসে কোনও সুনির্দিষ্ট শত্রু বা নাটকীয় কলহ থাকে না; বরং এটি অত্যন্ত নীরবে একজন মানুষের আত্মবিশ্বাসকে ভেতরে ভেতরে ক্ষয় করতে থাকে।”
বন্ধুমহলে নিজের অবস্থান বা শ্রেণিবিন্যাস বোঝার জন্য ৩টি সুনির্দিষ্ট লক্ষণের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
সবসময় শেষ মুহূর্তে আমন্ত্রণ পাওয়া
ডা. ফেরারির মতে, “কোনও পরিকল্পনার কথা নিয়মিতভাবে একদম শেষ মুহূর্তে বা একদম নির্দিষ্ট দিনে জানতে পারা ‘ফ্রিঞ্জ ফ্রেন্ড’ হওয়ার একটি বড় লক্ষণ।”
অনেক সময় বন্ধু মহলের প্রধান কোনও সদস্যের পরিকল্পনা বাতিল হওয়ার পর শূন্যস্থান পূরণের জন্য এই ধরনের ‘ব্যাকআপ ফ্রেন্ড’দের ডাকা হয়।
অবশ্য কেউ কেউ প্রাকৃতিকভাবেই অগোছালো পরিকল্পনাকারী হতে পারে, যা সবার ক্ষেত্রেই ঘটে।
তবে এই ঘটনা কোনও বিশেষ ব্যক্তির সঙ্গে ক্রমাগত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঘটতে থাকলে, বুঝতে হবে এটা বন্ধুত্বের দুর্বল ভিত্তি।
মূল চ্যাট গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত না থাকা
অনেক সময় দেখা যায় বন্ধুমহলের আড্ডা বা ঘোরাঘুরির মূল পরিকল্পনাগুলো অন্য কোনও গোপন বা মূল চ্যাট গ্রুপে আগেই নির্ধারিত হয়ে যায় এবং ‘ফ্রিঞ্জ ফ্রেন্ড’রা শুধু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি জানতে পারে।
আড্ডার সময় বাকি বন্ধুদের ভেতরের কোনও জোকস বা ‘মেম’ বা মজা নিয়ে কথা বলা হলে, সেটা ধরতে না পারার অর্থ হল, তারা সম্পর্কের একটি দেয়ালের ওপারে অবস্থান করছেন।
ডা. ফেরারির মতে, “সবার আলাদা বন্ধুত্ব বা চ্যাট গ্রুপ থাকা স্বাভাবিক, তবে ক্রমাগত এই ধরনের পরিস্থিতি মানুষের মনে বিচ্ছিন্নতার জন্ম দেয়।”
শুধুমাত্র নিজের উদ্যোগে যোগাযোগ হওয়া
ব্যস্ত জীবনে সাময়িক যোগাযোগহীনতা স্বাভাবিক, তবে বন্ধুমহলে সত্যিকারের গুরুত্ব থাকলে একজনের অনুপস্থিতি বাকিরা অবচেতনভাবেই অভাব বোধ করে।
যদি নিজের পক্ষ থেকে মেসেজ বা দেখা করার উদ্যোগ না নিলে মাসের পর মাস কোনো খোঁজখবর না আসে, তবে বুঝতে হবে সেই বৃত্তে ব্যক্তির উপস্থিতি অনাবশ্যক।
কেউ খোঁজ না নেওয়ার এই অনুভূতি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও দিশেহারা করে তোলে।
যেভাবে এই মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়
এই ধরনের পরিস্থিতিতে হীনমন্যতা বা ক্ষোভ প্রকাশ না করে ডা. ক্রিস্টিনা ফেরারি একটি মৃদু ও ইতিবাচক যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
যেমন বন্ধুদের বলা যেতে পারে, ‘তোমাদের সঙ্গে সময় কাটাতে আমার খুব ভালো লাগে। পরের পরিকল্পনায় আমাকেও একটু আগেভাগে যুক্ত করে নিও!’
তবে ডা. ফেরারির মতে, “আসল সমাধান হল নিজের মানসিক শক্তি ও সময় এমন জায়গায় বিনিয়োগ করা যেখানে নিজের গুরুত্ব রয়েছে।”
বর্তমান বৃত্তে জোর করে জায়গা খোঁজার চেয়ে কর্মক্ষেত্রের সহকর্মী, পুরানো সহপাঠী বা নতুন কোনও সামাজিক যোগাযোগ গড়ে তোলার মাধ্যমে নিজের বৃত্তকে বড় করাই হল এই একাকিত্ব ও অবহেলার দেয়াল ভাঙার কার্যকর উপায়।
