জানলে অবাক হবেন, দাঁত যেভাবে ঘুমের বারোটা বাজায়
রাতের ভাঙা ভাঙা ঘুম ও অতিরিক্ত ক্লান্তির নেপথ্যে কি দাঁতের রোগ?
রাতে দীর্ঘ সময় বিছানায় কাটিয়েও পরদিন সকালে চরম ক্লান্তি অনুভব করা বা রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার পেছনে অনেকেই মানসিক চাপ বা অনিয়মিত জীবনযাত্রাকে দায়ী করেন।
তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, গভীর ও আরামদায়ক ঘুমের সঙ্গে মুখগহ্বর এবং দাঁতের স্বাস্থ্য সরাসরি যুক্ত।
স্বাস্থ্য ও জীবনধারা-বিষয়ক ওয়েবসাইট রিয়েল সিম্পল-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়- মাড়ির প্রদাহ, মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া বা দাঁতের অবহেলিত ‘ক্যাভিটি’ বা ক্ষয় শরীরের স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রকে উত্তেজিত রেখে গভীর ঘুমের স্তরগুলোকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
টেক্সাসের ‘স্লিপ বেটার অস্টিন’-এর প্রধান দন্তচিকিৎসক ডা. ম্যাক্স কার এই ক্ষেত্রে ব্যাখ্যা করেন, “মুখগহ্বর মূলত রাতের বেলা শ্বাসনালী ও স্নায়ুতন্ত্রের সার্বিক কার্যক্রম বোঝার একটি প্রাকৃতিক আয়না হিসেবে কাজ করে।”
যখন ঘুমের মধ্যে স্বাভাবিক শ্বাসপ্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, তখন মস্তিষ্ক শ্বাসনালীকে সচল করতে অবচেতনভাবেই চোয়ালের পেশিগুলোকে সক্রিয় করে তোলে, ফলে ঘুমের মধ্যে অজান্তেই দাঁতে দাঁত ঘষে বা কামড়ায়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘স্লিপ ব্রুক্সিজম’ বলা হয়।
এই ক্রমাগত দাঁত ঘষার ফলে এনামেল ক্ষয় হওয়া, দাঁত শিরশির করা এবং সকালে মাথা ব্যথার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, যা আসলে রাতে বারবার ঘুম ভাঙার প্রত্যক্ষ সংকেত।
এছাড়া নাকের পরিবর্তে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার কারণে লালা শুকিয়ে যায়, যা মাড়ির রোগ ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণকে বাড়িয়ে দিয়ে ঘুমের পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নষ্ট করে।
মার্কিন দন্তচিকিৎসা ও দীর্ঘায়ু বিশেষজ্ঞ ডা. জোনাথন বি. লেভিন, এর সঙ্গে আরও জানান, দিনের তুলনায় রাতের বেলা মানুষের ব্যথা সহ্য করার ক্ষমতা অনেক কমে যায়।
তার কথায়, “ফলে দিনের বেলা যে ‘ক্যাভিটি’ বা দাঁতের ক্ষয়ে কোনও তীব্র অস্বস্তি হয় না, রাতে একাগ্র ও শান্ত পরিবেশে শুয়ে থাকার সময় সেই মৃদু প্রদাহই তীব্র আকার ধারণ করে।”
ডা. লেভিনের মতে, “এই মৃদু দাঁতের ব্যথা শরীরের ‘প্যারাসিমপ্যাথেটিক’ স্নায়ুতন্ত্রকে শিথিল হতে বাধা দেয়, ফলে শরীর প্রয়োজনীয় গভীর ঘুম বা ‘রেস্টোরেটিভ স্লিপ’-এর স্তরে পৌঁছাতে পারে না।”
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের দন্তচিকিৎসা-বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘পিডিএস হেলথ’-এর বিশেষজ্ঞ ডা. অ্যাশলে স্পুনার সতর্ক করে বলেন, “দীর্ঘদিন মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া এবং রাতে ঘনঘন অক্সিজেন কমে যাওয়া ‘অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া’-র মতো গুরুতর রোগের কারণ হতে পারে। যা উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও বিষণ্ণতার ঝুঁকি বাড়ায়।”
এই সমস্যা প্রতিরোধে রাতে ঘুমানোর আগে ‘ফ্লসিং’ করা, পর্যাপ্ত পানি পান করে মুখ আর্দ্র রাখা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ‘মাউথ টেপ’ বা ‘ওরাল অ্যাপ্লায়েন্স’ ব্যবহার করা কার্যকর সমাধান হতে পারে।
