শর্করা দেহের প্রধান চালিকা শক্তি হলেও রক্তে অতিরিক্ত চিনি বা শর্করা থাকা মোটেই সুখকর দিক না।
Published : 31 Aug 2022, 06:12 PM
‘হাউ সুইট!’ শুনতে বেশ লাগে, তবে রক্তের ক্ষেত্রে কথাটা মোটেই সুবিধার নয়।
সার্বিক সুস্বাস্থ্যের জন্য রক্তের শর্করা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে ভারসাম্যহীতার কারণে দেখা দিতে পারে নানান জটিল রোগ।
যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা’তে অবস্থিত ‘কার্বন হেল্থ অ্যান্ড সেইন্ট মেরি’স হাসপাতালের ‘আর্জেন্ট কেয়ার মেডিকেল ডিরেক্টর অ্যান্ড ফিজিশিয়ান’ ডা. বায়ো কারি উইনশল বলেন, “সাধারণভাবে চিন্তা করলে শর্করা দেহের শক্তির মূল উৎস, যা ছাড়া বাঁচা সম্ভব নয়।”
ইটদিস নটদ্যাট ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিনি আরও বলেন, “রক্তে শর্করা বৃদ্ধি পাওয়ার নানান লক্ষণ দেখা দেয়। যা এড়িয়ে গেলে নানান স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয়।”
রক্তের শর্করার সম্পর্কে যা জানা দরকার
ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক জানাচ্ছে, ইন্সুলিন হরমোন রক্তের গ্লুকোজ মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ‘হাইপারগ্লাইসেমিয়া’ বা রক্তের গ্লুকোজ বাড়ে যখন রক্তে শর্করার মাত্রা অতিরিক্ত বৃদ্ধি পায়। আর এটা হওয়ার কারণ হল ইন্সুলিন খুব কম উৎপাদন হওয়া বা দেহ ইন্সুলিন ব্যবহার না করতে পারা, যা ডায়াবেটিস হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।
উচ্চ শর্করার মাত্রা
ডা. কেরি উইনশল বলেন, “খাওয়ার দুয়েক ঘন্টা পরও রক্তের শর্করার মাত্রা ১৮০ হলে অতিরিক্ত ধরা হয়। যদি কমপক্ষে আট ঘন্টা খাওয়া না হয়ে থাকে তাহলে ১০০ থেকে ১২৫ কে অতিরিক্ত ধরা হয়ে থাকে।”
উচ্চ শর্করার প্রতিকার না করা হলে
ডা. কারি উইনশল বলেন, “দীর্ঘসময় রক্তের অতিরিক্ত শর্করা স্থায়ী হওয়া ধমনীতে চাপ সৃষ্টি করে এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেমন- হৃদপিণ্ড ও বৃক্কে রক্ত সরবারহে সমস্যা সৃষ্টি হয়।”
যে কারণে অনেকে বোঝে না
“অনেকেই রক্তের উচ্চ শর্করার লক্ষণ সম্পর্কে জানেন না। এর ফলে দুর্বলভাব ও ধীরে ধীরে তৃষ্ণাভাব বাড়ে,” বলেন ডা. কারি উইনশল।
ক্লান্তিভাব: তিনি আরও বলেন, “অতিরিক্ত শর্করা মানেই বেশি শক্তি নয়। বাড়তি কাজকর্ম বা দেহের চাহিদা পূরণের জন্য যে শর্করা প্রয়োজন যা জ্বালানি হিসেবে দেহ খরচ করতে পারছে না বলেই ক্লান্তি অনুভত হয়।”
প্রস্রাব ও তৃষ্ণা বৃদ্ধি: কিডনি বা বৃক্ক দেহের বাড়তি চিনি পরিশোধন করতে পারে না এবং দেহ থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। ফলে ঘন ঘন মূত্রের বেগ পায় এবং দেহে পানি শূন্যতা দেখা দেয়।
ওজন কমা: ডা. কারি উইনশল ব্যাখ্যা করে বলেন, “যদি খিদা বাড়ে বা একই রকম থাকে আর খাওয়ার পরও ওজন কমতে থাকে তাহলে ধরে নিতে হবে দেহের অতিরিক্ত গ্লুকোজের প্রতি ইন্সুলিন কাজ করছে না বা পর্যাপ্ত ইন্সুলিন তৈরি হচ্ছে না। ফলে শক্তির অভাব দেখা দেয়। আর শরীর জমিয়ে রাখা চর্বি খরচ করে শক্তি পাওয়ার জন্য। ফলাফল ওজন কমা।”
দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন: গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধির ফলে চোখের পেছনে রক্তনালীগুলোর পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে। এর মাত্রা বৃদ্ধি অন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
অসাড়তা ও কাঁপুনি: স্নায়ুর ক্ষয়ের কারণে স্নায়ুবিক দুর্বলতা দেখা দেয়। ফলে আঙুল, গোড়ালি হাত ও পায়ে কাঁপুনি, শিরশিরভাব ও অসাড়ভাব দেখা দেয় বলে জানান, ডা. কারি উইনশল।
আরও পড়ুন
ডায়াবেটিস সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা