১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

অনিশ্চিত সম্পর্কে আছেন কি-না, বুঝবেন যেভাবে

‘সিচুয়েশনশিপ’ থেকে বের হওয়ার রয়েছে উপায়।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Aug 2026, 04:20 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:46 PM

কারও প্রতি তীব্র ভালোলাগা তৈরি হওয়া, নিয়মিত কথা বলা বা একান্তে সময় কাটানোর পরও, সম্পর্কের কোনো ভবিষ্যৎ বা সুনির্দিষ্ট পরিচয় না থাকা যেন বর্তমান প্রজন্মের মাঝে নতুন সংকট তৈরি করেছে।

‘ডেইটিং’ বা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েও কোনো ‘লেবেল’ বা পরিচয় ব্যবহার না করার এই ধোঁয়াশাপূর্ণ প্রবণতাকে বলা হচ্ছে ‘সিচুয়েশনশিপ’ বা ‘অনির্দিষ্ট বা অনিশ্চিত সম্পর্ক’।

অনেকে প্রতিশ্রুতি বা দায়বদ্ধতা এড়াতে এই ধরনের সম্পর্ক পছন্দ করলেও, সঠিক বোঝাপড়ার অভাবে এটি এক সময় মানসিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

রিয়েলসিম্পল ডটকমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মনোবিদরা জানান, সিচুয়েশনশিপ হল এমন এক অবস্থা যেখানে শারীরিক বা মানসিক ঘনিষ্ঠতা থাকলেও সম্পর্কটি কোন দিকে এগোচ্ছে, সে বিষয়ে দুজনের মধ্যে কোনো স্পষ্ট আলোচনা বা পারস্পরিক বোঝাপড়া থাকে না।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘অল ইন সলিউশনস’ প্রতিষ্ঠানের পারিবারিক প্রোগ্রাম পরিচালক ডা. আলেকজান্দ্রা ফোগলিয়া এবং বিবাহ ও পরিবারবিষয়ক মার্কিন পরামর্শক ডা. দায়ায়ে কিম ওই প্রতিবেদনে মন্তব্য করেন, সম্পর্কের শুরুতে কিছুটা অনিশ্চয়তা স্বাভাবিক হলেও দীর্ঘ সময় ধরে যদি সম্পর্কের কোনো স্পষ্ট পরিচয় না থাকে, তবে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সিচুয়েশনশিপ বা নামহীন সম্পর্ক চেনার ৩ লক্ষণ

অনেকেই বুঝতে পারেন না তারা সাধারণ প্রেমের শুরুর ধাপে আছেন নাকি সিচুয়েশনশিপের ফাঁদে পড়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের ৩টি লক্ষণ দেখলে বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া সম্ভব।

ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা এড়িয়ে চলা

ডা. আলেকজান্দ্রা ফোগলিয়া বলেন, “এই ধরনের সম্পর্কের বড় লক্ষণ হল, সঙ্গী সবসময় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে যেকোনো প্রশ্ন এড়িয়ে চলেন বা প্রসঙ্গ বদলে ফেলেন।”

ডা. দায়ায়ে কিম ব্যাখ্যা করেন, “আমরা এখন কোন অবস্থানে আছি বা ‘আমাদের সম্পর্কটা কী’—এই প্রশ্নটি হয় কখনও উত্থাপনই করা হয় না, আর করা হলেও খুব অস্পষ্ট উত্তর দিয়ে তা উড়িয়ে দেওয়া হয়।”

এখানে দীর্ঘমেয়াদী কোনো পরিকল্পনা থাকে না, সব পরিকল্পনাই হঠাৎ বা তাৎক্ষণিকভাবে করা হয়।

সামাজিক পরিমণ্ডল থেকে আড়াল করে রাখা

সিচুয়েশনশিপে থাকা মানুষেরা সাধারণত তাদের সঙ্গীকে বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে দ্বিধাবোধ বা অনিচ্ছা প্রকাশ করেন।

ডা. কিমের মতে, “এই সম্পর্কের সমস্ত যোগাযোগ বা দেখা-সাক্ষাৎ ঘটে অত্যন্ত ব্যক্তিগত ও গোপন ‘ওয়ান-অন-ওয়ান’ পরিবেশে, যেখানে বাইরের কোনো চেনা মানুষের উপস্থিতির সুযোগ থাকে না।

অর্থ খোঁজার তাড়নায় থাকা

সম্পর্কের মধ্যে এক ধরনের স্থায়ী নিরাপত্তাহীনতা কাজ করার কারণে, সঙ্গীর প্রতিটি ছোট আচরণ বা ফোনের মেসেজের পেছনের গোপন অর্থ খুঁজতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় অপচয় করে।

পুরানো মেসেজ বারবার পড়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সঙ্গী সক্রিয় বা অনলাইন আছেন কি-না, এসব বিষয় সারাক্ষণ পরখ করা এবং শেষ আলাপে কোনো ভুল হলো কি-না, তা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করা সিচুয়েশনশিপের বড় মানসিক লক্ষণ।

এই অনির্দিষ্ট পরিস্থিতি থেকে মুক্তির উপায়

ডা. আলেকজান্দ্রা ফোগলিয়া স্পষ্ট করে বলেন, “একটি সুস্থ সম্পর্কের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল, সঙ্গী আসলে কী চান তা বোঝার জন্য সারাজীবন শুধু অনুমান বা আন্দাজ করে কাটিয়ে দিতে হবে না।”

যদি কোনো ব্যক্তি দীর্ঘমেয়াদী এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সম্পর্ক খুঁজে থাকেন, তবে সিচুয়েশনশিপ তাকে কখনই কাঙ্ক্ষিত মানসিক শান্তি দেবে না। এই বিভ্রান্তি থেকে বের হতে দুটি পদক্ষেপ নেওয়া উপকারী।

নিজের চাহিদার মুখোমুখি হওয়া: অন্যের ইচ্ছার ওপর সম্পর্ককে ছেড়ে দেওয়ার আগে, নিজের মনের সঙ্গে একটি কঠিন আলোচনা করা প্রয়োজন। এজন্য নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে, ‘আসলে বাস্তবে নিজের চাহিদাটা কী, আর এই নামহীন সম্পর্কটি কেবল সাময়িক ভালোলাগা নাকি এক ধরনের আশার ফাঁদ?

স্পষ্ট ও সৎ কথোপকথন: সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে খোলাখুলি কথা বলা যতটাই অস্বস্তিকর বা কঠিন মনে হোক না কেন, দীর্ঘ সময় ধরে একটি অনিশ্চিত সম্পর্কের মানসিক চাপ বয়ে বেড়ানোর চেয়ে এটি অনেক সহজ।

প্রত্যাশা নিয়ে সরাসরি কথা বললে, হয়ত সম্পর্কটি একটি সুন্দর পূর্ণতা পাবে, অন্যথায় অনর্থক কষ্ট পাওয়ার আগেই সেখান থেকে সম্মানজনকভাবে বের হয়ে আসা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন

সম্পর্কে যেভাবে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে ‘প্যারালাল লাইফ সিন্ড্রোম’

অসম বয়সের প্রেম: কেন তৈরি হয় এই আকর্ষণ?

সম্পর্কে নীরব দূরত্ব তৈরি করে ‘ড্রাই বেগিং’

পরিচিত হোন ‘পটকা মাছ’ চরিত্রের মানুষের সঙ্গে