Published : 02 Jul 2025, 04:15 PM
ঘরের ভেতরের রং নিয়ে চিন্তা ভাবনা চললেও বারান্দা বা বাইরের অংশও যে অতিথিদের চোখে প্রথম পড়ে, সেটা হয়ত খেয়াল থাকে না।
অথচ একটুখানি রংয়ের সান্নিধ্যেই বারান্দা হয়ে উঠতে পারে অতিথিপরায়ণ ও নান্দনিক এক আমন্ত্রণমঞ্চ।
তিন রংয়ের রঙিন কল্পনা
রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অন্দরসজ্জাকর লিন মর্গান একটি ঘরের কাঠের তৈরি খোপকাঠামো অংশে একসঙ্গে তিনটি সবুজ রং ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “একটি দেয়ালে হালকা সবুজ, কাঠামোয় মাঝারি সবুজ ও ট্রিম অংশে একটু উজ্জ্বল সবুজ ব্যবহার করে একটি প্রাণবন্ত বারান্দার ছাপ আনা যায়।”
কাঠের বারান্দা বা গ্রিল কাঠামোয়ও তিনটি ভিন্ন সবুজ, যেমন- পাতা সবুজ, খয়েরি-সবুজ ও পুদিনা রং ব্যবহার করে ঐতিহ্য আর আধুনিকতার সমন্বয় সম্ভব।
একই ধাঁচের রংয়ে নান্দনিকতা
মার্কিন অন্দরসজ্জাকর র্যাচেল হ্যালভারসন বারান্দার ছাদ, দেয়াল ও অন্যান্য অংশে একই ধরণের ঠাণ্ডা টোনের রং ব্যবহার করে ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরিতে গুরত্ব দিয়েছেন।
সাদা, ধূসর আর হালকা নীলের সংমিশ্রণ দেশীয় পরিবেশেও আরামদায়ক লাগে, বিশেষ করে যারা কংক্রিট পরিবেশে প্রশান্তির খোঁজ করেন।
প্যাটার্ন নিয়ে খেলা
মার্কিন প্রতিষ্ঠান ‘কাক্কুফোরডিজাইন’য়ের অন্দরসজ্জাকর জুলিয়া কনইয়া, ইটের বারান্দাকে সাদামাটা থেকে পরিবর্তন করতে পছন্দ করেন ইউরোপীয় ঘরানার চেক নকশায়।
অনেক সময় কংক্রিটের বারান্দা দেখা যায় যেখানে ঢালাই করা থাকে। সেখানে সাদা ও হালকা বাদামি রংয়ে চেক নকশা করলে তা হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত আধুনিক ও নজরকাড়া।
এক রংয়ে পুরোটা রাঙান
যদি এমন একটি বারান্দা চান যা সাহসী এবং চোখে পড়ার মত, তাহলে পুরো জায়গাটিকে একটি রংয়ে রাঙিয়ে ফেলা যায়।
যেমন- নীল রং পুরো দেয়াল ও কাঠামো রাঙাতে পারেন। আর ছাদ ও মেঝেতে হালকা সাদা রং দিয়ে আনতে পারেন ভারসাম্য।
গাঢ় নীল বা মাটির লাল ব্যবহার করে এই রকম একটি মোহময় বারান্দা তৈরি করা যায়, বিশেষ করে পুরোনো বাড়িতে।
ঘরের ভেতরের রংয়ে সঙ্গে মিল
মার্কিন অন্দরসজ্জাকর ল্যানিয়ার গাপটন বলেন, “বারান্দার রং নির্বাচন করতে পারেন ঘরের অভ্যন্তরীণ রং ও ইটের দেয়ালের উষ্ণতার সঙ্গে মিলিয়ে। বাসাগুলোর বারান্দা অনেক সময় বসার ঘরের সাথে সংযুক্ত থাকে, তাই ভেতরের রংয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাইরে ব্যবহার করলে দৃষ্টিময় ভারসাম্য বজায় থাকে।”
একটু ভিন্ন স্বাদের রংয়ে চমক
একটি হালকা গোলাপি রংয়ের বারান্দা, সঙ্গে ধূসর মেঝে। এটা যেমন মিষ্টি, তেমনি পরিমিত। গোলাপি রং ব্যবহার করে তৈরি এমন বারান্দা খুব প্রশান্তিকর।
ক্ল্যাসিক রংয়ের সমন্বয়
বিশাল বারান্দায় তিনটি রং একসঙ্গে ব্যবহার করা যায়। একটি সাদা-সবুজ ধাঁচের দেয়াল, হালকা ধূসর মেঝে ও একটি সবুজাভ-নীল ছাদ।
ঐতিহ্যবাহী টিন বা কাঠের ছাদেও নীলচে-সবুজ রংটি মানায়। কারণ এটি মশা বা কীটপতঙ্গ দূরে রাখে বলে অনেকে মনে করেন।
পুরানো দিনের ছোঁয়া
আগে হলুদ রং অনেক বেশি ব্যবহার হত বাড়ির বাইরে, এখন তা হারিয়ে যেতে বসেছে।
অন্দরসজ্জাকররা বলছেন, সেই রংয়ে ফিরে যাওয়া মানেই স্বকীয়তার প্রকাশ। যেমন- হলদে ও নীল রং একসঙ্গে ব্যবহার করলে এমন বারান্দা তৈরি হলে তা হবে একদম প্রাচীন ঘরানার, যা এখন আবার ফ্যাশনে ফিরে এসেছে।
প্রতিটি পৃষ্ঠে রংয়ে ছোঁয়া
বারান্দায় দরজা, দেয়াল, মেঝে সবকিছুতেই করতে পারেন রং। একটি সমুদ্রনীল রংয়ে পাশে চেক ডিজাইনে মেঝে রাঙানো যায় বাদামি ও মলিন বেগুনি রংয়ে।
পুরানো বারান্দার সিমেন্ট ফ্লোরেও এমন নকশা আনা সম্ভব, বিশেষ করে কাঠের ফ্রেম ও ফুলের টবের সঙ্গে মিলিয়ে নিলে তা হয়ে উঠবে সৌন্দর্যময় এক খোলা জগৎ।
প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে অনুপ্রেরণা
বারান্দা যদি গ্রামের পরিবেশে হয় অথবা সাগর-পাড়ে বা পাহাড় ঘেঁষা জায়গায় তাহলে বারান্দার রং হতে পারে সে জায়গার প্রতিবিম্ব।
যেমন- সামুদ্রিক ধূসর, ঝিনুক সাদা, কিংবা পাথুরে ছায়া। এসব রং শুধু সুন্দরই নয়, পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও চোখে লাগে শান্ত ও ভারসাম্যপূর্ণ।
আরও পড়ুন