২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

শরতে ঘরের সাজে আরামের ছোঁয়া

টাকা খরচ করে নতুন কিছু কেনার দরকার নেই। পুরানো আসবাব একটু এদিক-ওদিক করে নিলেই হয়।

রিফাত পারভীন

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 13 Sep 2026, 04:25 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:59 AM

প্রকৃতিতে এসেছে শরত। তবে ঘর থেকে বেরিয়ে সেই রূপ উপভোগের উপায় নেই।

শরতের আমেজ পেতে বরং বেশ আয়োজন করে যেতে হয় নিদিষ্ট কোনও স্থানে। তাই ঘরই সাজানো যায় শরতের আমেজে। আর এজন্য পুরো ঘর বদলানোর দরকার নেই, সামান্য কিছু পরিবর্তনেই ঘরে আসতে পারে শরতের উষ্ণতা।

শরৎ মানেই একটু নরম আলো, উষ্ণ আবহ, আর ঘরের আরাম। তাই এই সময়ে ঘর সাজাতে নতুন করে সবকিছু কেনার প্রয়োজন নেই।

“ঘরে থাকা আসবাব, আলো, পর্দা, ছবি কিংবা ছোটখাট সাজসজ্জার জিনিস একটু অন্যভাবে ব্যবহার করলেই বদলে যেতে পারে পুরো ঘরের আবহ”, বলেন ফ্যাশন ও ইন্টেরিয়র ডিজাইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রেডিয়েন্ট ইনস্টিটিউট অব ডিজাইন-এর প্রতিষ্ঠাতা অন্দরসজ্জাবিদ গুলশান নাসরিন।

তার মতে- রং, বুনট, আলো এবং সাজানোর ধরনে সামান্য কিছু সচেতন পরিবর্তনই ঘরকে শরতের আবহ দিতে যথেষ্ট।

ঘরের আলোয় উষ্ণতা

শরতের বিকেল দ্রুত গড়িয়ে সন্ধ্যা নামে। তাই ঘরের আলো এই ঋতুর সাজে প্রভাব রাখে। নতুন বাতি কেনার বদলে ঘরে থাকা টেবিল বাতিগুলোর জায়গা বদলে দেওয়া যেতে পারে।

যে ঘরে আলো একটু কম, সেখানে একটি দাঁড়ানো বা স্টান্ড বাতি রাখলেও বদলে যেতে পারে পরিবেশ।

এই অন্দরসজ্জাবিদ বলেন, “অন্ধকার কোণে একটি দাঁড়ানো বাতি রাখলে সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে তৈরি হয় আরামদায়ক আলোর আবহ। এর জন্য আলাদা করে ঋতুভিত্তিক কোনো সাজসজ্জার সামগ্রী কেনারও প্রয়োজন পড়ে না।”

বাতির আবরণ বদলেই নতুন চেহারা

ঘরের বাতির আবরণ অনেক সময় চোখ এড়িয়ে যায়। অথচ এটিই বদলে দিতে পারে ঘরের চেহারা। শরতের জন্য বাতির আবরণে সামান্য পরিবর্তন ঘরকে আরও আরামদায়ক করে তুলতে পারে।

গুলশান নাসরিনের পরামর্শ, “নকশা করা কাপড়, অলংকরণযুক্ত নকশা কিংবা ঝালর দেওয়া আবরণ ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে ঘরে বৈচিত্র্য যোগ হয়, আবার বাতির নরম আলোও বজায় থাকে। লণ্ঠনের মতো দেখতে বাতিও ব্যবহার করা যেতে পারে। এর সরল আকৃতি ঘরে নরম আলো দেওয়ার পাশাপাশি কিছুটা গ্রামীণ ও উষ্ণ অনুভূতিও তৈরি করে।”

দেয়ালের ছবিতেও ঋতুর রং

ঘরের দেয়ালে টাঙানো ছবিগুলোর জায়গা বদল করাও হতে পারে শরতের সাজের সহজ উপায়। নতুন ছবি কেনার দরকার নেই। বসার ঘর বা পরিবারের সদস্যরা যেখানে বেশি সময় কাটান, সেখানে ঘরে থাকা কিছু ছবি সরিয়ে এনে সাজিয়ে দেখতে পারেন।

শরতের সময়ে গাঢ় ও উষ্ণ রংয়ের ছবি বেছে নেওয়া যেতে পারে। মরচে ধরা লাল, গাঢ় লাল কিংবা জলপাই সবুজের মতো রং ঘরের অন্যান্য সাজের সঙ্গে মিলিয়ে নিলে পুরো পরিবেশে শরতের আবহ তৈরি হয়।

একই ছবিকে অন্য দেয়ালে টাঙালেও অনেক সময় ঘরকে একেবারে নতুন মনে হয়।

কম জিনিসে টেবিলের সাজ

ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে বেশি জিনিস মানেই বেশি সুন্দর, এমনটা নয়। বরং শরতের আবহ আনতে টেবিলের ওপর থাকা কিছু জিনিস সরিয়ে অল্প কয়েকটি জিনিস দিয়ে সাজানো যেতে পারে।

গুলশান নাসরিন পরামর্শ দেন, “টেবিলের ওপর কয়েকটি বই একসঙ্গে রাখা, তার পাশে বুনটযুক্ত বা মসৃণ নয় এমন একটি পাত্র বা শোপিস এবং সঙ্গে মোমবাতি সাজিয়ে দেওয়া যেতে পারে।”

কাঠ, মাটির তৈরি সামগ্রী, পাথর কিংবা পুরানো ধাতুর মতো উপাদানের জিনিস ব্যবহার করলেও ঘরের সাজে আসে ভারী ও উষ্ণ অনুভূতি।

বেশি জিনিস দিয়ে টেবিল ভরাট না করে অল্প কিছু সুন্দর জিনিসকে গুরুত্ব দিলেই সাজটি বেশি শারদীয় আমেজ দেবে।

রান্নাঘরেও শরতের ছোঁয়া

ঘরের সাজ বলতে শুধু বসার ঘর বা শোবার ঘরকে বোঝায় না। রান্নাঘরেও আনা যায় ঋতুর পরিবর্তনের ছাপ।

রান্নাঘরে কাপড়ের হাত মোছার তোয়ালে, সাবান রাখার পাত্র, নকশা করা পানির গ্লাস বা থালা ব্যবহার করেও পরিবেশে পরিবর্তন আনা যায়।

ঋতুর সঙ্গে মানানসই কিছু ব্যবহারিক সামগ্রীও রান্নাঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে পারে।

ফুল আকৃতির রান্নার পাত্র, সাদা, আকাশি, নীল,কমলা রংয়ের নকশা করা খাবার পরিবেশনের থালা বাসন যা সারা বছরই ব্যবহার করা সম্ভব।

অর্থাৎ শরতের জন্য সাজালেও জিনিসগুলো যেন শুধু এক ঋতুতেই পড়ে না থাকে, সেদিকেও নজর দেওয়া যেতে পারে।

নতুন কিছু কেনার আগে ঘরেই দেখা

ঋতুভিত্তিক কিছু কেনার আগে নিজের ঘরের জিনিসপত্রই দেখা উচিত। যেহেতু শীত হালকা আমেজ শরতে শেষাংশে মেলে তাই শোবার ঘরের বিছানার পাশে রাখা মোটা চাদরটি এবার সোফার ওপর রাখা যেতে পারে।

মাটির তৈরি ফুলদানি বা হাতে খোদাই করা কাঠের পাত্রও বসার ঘরের টেবিলের সাজে ব্যবহার করা যায়। সঙ্গে কাশ, শিউলি ফুল থাকতে পারে।

মোটা বোনা কাপড়, পশমের কাপড়, মখমলের মতো উপাদান শরতের সঙ্গে মানানসই উষ্ণতা তৈরি করে।

আরও পড়ুন

ঘরে আসুক মাখন হলুদ উষ্ণতা

বাথরুমে যে চার রং ব্যবহার না করাই ভালো

ঘরের সাজে ঋতু বদলের ছোঁয়া