Published : 05 Aug 2026, 05:28 PM
ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতির রূপ যেমন বদলে যায়, তেমনি ঘরের ভেতরেও সেই বদলের ছোঁয়া থাকা মানসিক প্রফুল্লতার জন্য জরুরি।
অনেকেই ভাবেন ঘর সাজানো মানেই অনেক বড় কোনো সংস্কার বা বিপুল অর্থ ব্যয়।
তবে অন্দরসজ্জাবিদদের মতে, সামান্য কিছু পরিবর্তন বা ‘মিনি আপডেট’ ঘরের পুরো আবহ বদলে দিতে পারে। আর এই পরিবর্তনগুলো কেবল দেখানোর জন্য বা দায়সারা হওয়া উচিত নয়, বরং হতে হবে উদ্দেশ্যপূর্ণ ও নান্দনিক।
জীবনযাপন বিষয়ক ওয়েবসাইট রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে অন্দরসজ্জাবিদরা মন্তব্য করেন, ঘরের প্রতিটি কোণ বদলানোর প্রয়োজন নেই; প্রতিটি ঋতুতে ঘরের নির্দিষ্ট ৫টি স্থান পরিবর্তন করাই যথেষ্ট।
বসার ঘর বা লিভিং রুম
বসার ঘরের রূপ সহজে পরিবর্তন করার সেরা এবং সাশ্রয়ী মাধ্যম হল কুশন বা বালিশের কভার বদলে ফেলা।
কৌশল: যুক্তরাষ্ট্রের ‘সার্ফ রোড ইন্টেরিয়রস’-এর লিজ কার্বি বলেন, “গরমের দিনে বসার ঘরের সোফায় হালকা রংয়ের বা প্যাস্টেল শেইডের কুশন কভার ব্যবহার করা আরামদায়ক। তবে শীত বা শরতের আবহ তৈরি করতে উজ্জ্বল রংয়ের পরিবর্তে গাঢ় ও উষ্ণ রংয়ের কভার বেছে নেওয়া ভালো। যেমন: জলপাই সবুজ, নেভি ব্লু কিংবা ক্র্যানবেরি লাল কুশন ঘরের ভেতর এক ধরনের ওম বা ওষ্ণতা এনে দেয়।”
ছোট ওয়াশরুম বা পাউডার রুম
পাউডার রুম বা ছোট ওয়াশরুমগুলোতে সাধারণত অতিথিদের যাতায়াত বেশি থাকে, তাই এটিকে চটজলদি পরিবর্তন করা উপকারী।
কৌশল: মার্কিন অন্দরসজ্জাবিদ কেটি উলফ, এই ছোট জায়গাটিকে দৃষ্টিনন্দন রাখতে ভারী কোনো আসবাব বা শোপিস যোগ না করার পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, “এর বদলে ঋতুর সঙ্গে মিলিয়ে একটি সুগন্ধি হ্যান্ড সোপ, রঙিন বা স্ট্রাইপড নরম হ্যান্ড টাওয়েল এবং একটি পাত্রে তাজা ফুল রেখে দিলে নিমেষেই পুরো বাথরুমের পরিবেশ স্নিগ্ধ ও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।”
শোবার ঘর বা বেডরুম
শোবার ঘরে ঋতু বদলের ছোঁয়া নিয়ে আসা বেশ সহজ হয়, যদি বেডিং বা বিছানার চাদরে পরিবর্তন আনা যায়।
কৌশল: যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টেরিয়র ডিজাইনার লরা বেনসন বলেন, “শীতের দিনগুলোতে কিছুটা গাঢ় রংয়ের এবং প্রিন্টেড চাদর ব্যবহার করা ভালো। আর গরমের দিনে বিছানায় একদম হালকা ও উজ্জ্বল একরঙা চাদর ব্যবহার করা চোখের জন্য আরামদায়ক।”
মার্কিন ডিজাইনার মারা সিলবার, মেঝের ঠাণ্ডা ভাব দূর করতে এবং ঘরে আরামদায়ক আবহ তৈরি করতে কার্পেটের ওপর অন্য একটি ছোট নরম গালিচা বা রাগ লেয়ারিং করার পরামর্শ দেন।
এছাড়া ল্যাম্পশেইড পরিবর্তন বা দেয়ালের আর্টওয়ার্ক বদলে দিলেও ঘরের মেজাজ সুন্দর থাকে।
খাবার ঘর বা ডাইনিং রুম
মার্কিন অন্দরসজ্জাবিদ কেলি ক্লিয়ার-ক্লার্কের মতে, “রান্নাঘর যদি বাড়ির হৃদয় হয়, তবে ডাইনিং রুম হল তার স্পন্দন। তাই খাবার টেবিলের সাজে ঋতুভিত্তিক উৎসবের আমেজ থাকা উচিত।”
কৌশল: খাবার টেবিলের সৌন্দর্য বাড়াতে প্রতি ঋতুতে ভিন্ন রংয়ের রানার বা প্লেসম্যাট ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া টেবিলের ঠিক মাঝখানের ‘সেন্টারপিস’টির বদলে সেখানে ঋতুভিত্তিক ফল বা ফুল রাখলে পুরো ঘরের মেজাজ বদলে যায়।
ছোট ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা সহজেই এই লিনেন ও ছোট অনুসঙ্গগুলো একটি ঝুরিতে গুছিয়ে রাখতে পারেন।
বাড়ির প্রবেশপথ ও বারান্দা
বাড়ির প্রধান প্রবেশপথ হল, প্রথম মনোভাব তৈরি করার জায়গা। তাই এই স্থানকে ঋতু অনুযায়ী সাজানো হতে পারে বেশ উপভোগ্য
কৌশল: কৃত্রিম শোপিস বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদানের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন, কেটি উলফ।
ঋতুভিত্তিক টবের ইনডোর প্ল্যান্ট, ফুলের তোড়া, শুকনো ফুল বা ঘাস দিয়ে সাজানো একটি প্রবেশপথ পুরো বাড়িকে কোনো বড় সংস্কার ছাড়াই সতেজ ও উজ্জ্বল করে তোলে।
পরামর্শ
ঘর সাজানোর প্রধান উদ্দেশ্য হল, নিজের মনে আনন্দ ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনা। কোনো জটিল নিয়মের বেড়াজালে জড়ানো নয়।
তাই প্রতিটি ঋতু পরিবর্তনের সময় ঘরের এই সুনির্দিষ্ট কোণগুলোতে ছোট ছোট প্রাকৃতিক ও নান্দনিক পরিবর্তন আনলে ঘর সবসময় সতেজ এবং বাসযোগ্য থাকে।
আরও পড়ুন