১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২ কার্তিক ১৪৩৩

সপ্তমীর সাজে স্নিগ্ধতা

ত্বকে প্রসাধনীর স্তর না বাড়িয়ে বরং অল্প কয়েকটি ধাপের মেইকআপে প্রাকৃতিক আভায় হতে পারে পূজার স্নিগ্ধ সাজ।

সপ্তমীর সাজে স্নিগ্ধতা

মুখের অতিরিক্ত তেলতেলেভাব কমাতে হালকা গুঁড়া প্রসাধনী ব্যবহার করা যায়। ছবি: লা রিভ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 17 Oct 2026, 05:38 PM

Updated : 17 Oct 2026, 05:38 PM

সপ্তমীতে চোখ ধাঁধানো সাজ বেছে না নিয়ে কপালে ছোট টিপ, চোখে হালকা কাজল, গালে গোলাপি আভা আর ঠোঁটে মিষ্টি লিপস্টিকে আসতে পারে অন্যনতা।

পূজার ভিড়ে, মণ্ডপের আলোয় বা ছবিতে এমন হালকা, সতেজ ও স্বাভাবিক সাজে মুখ দেখাবে উজ্জ্বল, চোখে থাকবে কোমলতা।

ত্বক প্রস্তুত করেই শুরু হোক সাজ

“ন্যাচারাল বা স্বাভাবিক সাজের প্রথম শর্ত হল ত্বককে সতেজ রাখা। তাই মেকইআপ শুরুর আগে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার বেছে নিতে হবে”, বলেন বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ারের প্রধান ও রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচি।

তিনি পরামর্শ দেন, “এরপরে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করা জরুরি, যাতে ত্বক আর্দ্র থাকে। দিনের বেলা বাইরে বের হলে অবশ্যই রোদ থেকে সুরক্ষা দেয় এমন প্রসাধনী ব্যবহার করতে হবে। ত্বক ভালোভাবে প্রস্তুত থাকলে পরের ধাপের প্রসাধনী সহজে বসবে, আর মুখেও আসবে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা।”

হালকা বেইজে ত্বকের সৌন্দর্য

সপ্তমীর সাজে ভারী ভিত্তির বা বেইজের প্রসাধনী না ব্যবহার করাই ভালো। ত্বকের রং ও ধরন অনুযায়ী হালকা বিবি ক্রিম অথবা অল্প পরিমাণ বেইজ প্রসাধনী ব্যবহার করা যেতে পারে।

আঙুল, স্পঞ্জ বা ব্রাশ দিয়ে মুখে মিশিয়ে নিতে হবে। ত্বকের স্বাভাবিক রং ঢেকে না ফেলা বরং ত্বককে সমান ও সতেজ দেখানোই যেন হয় উদ্দেশ্য।

চোখের নিচে কালচে দাগ বা মুখে ছোটখাটো দাগ থাকলে সেখানে অল্প পরিমাণ ‘কালার কারেক্ট’ বা ঢেকে দেওয়ার প্রসাধনী ব্যবহার করতে হবে।

“তবে পুরো মুখে অতিরিক্ত প্রসাধনী না লাগিয়ে প্রয়োজনীয় জায়গায় ব্যবহার করলেই সাজ থাকবে হালকা”, মত দেন শারমিন কচি।

গুঁড়া প্রসাধনী পরিমিতি

মুখের অতিরিক্ত তেলতেলেভাব কমাতে হালকা গুঁড়া প্রসাধনী ব্যবহার করা যায়। বিশেষ করে কপাল, নাক ও থুতনির মতো জায়গায় অল্প করে লাগালে সাজ দীর্ঘক্ষণ সতেজ দেখাতে পারে।

তবে পুরো মুখে বেশি গুঁড়া প্রসাধনী লাগালে ত্বকে শুষ্কতা বা কৃত্রিমতা আসবে। তাই ত্বকের প্রয়োজন বুঝে ব্যবহার করাই ভালো।

গালে গোলাপি আভা

স্বাভাবিক সাজে গালের হালকা ব্লাশই যথেষ্ট। গোলাপি কিংবা পিচ রংয়ের ব্লাশ সাজের মিষ্টতা বাড়াবে।

গালের উঁচু অংশে অল্প পরিমাণ আঙুল বা ব্রাশ দিয়ে ব্যবহার করতে হবে, যেন ত্বকের সঙ্গে মিশে যায়। তবে আলাদা করে যেন চোখে না পড়ে তাও খেয়াল করা প্রয়োজন।

এক্ষেত্রে চাইলে গালের রং ঠোঁটের লিপস্টিক বা পোশাকের সঙ্গেও মিলিয়ে নেওয়া যায়।

চোখে কোমলতা

সপ্তমীর সাজে চোখের মেইকআপ খুব বেশি গাঢ় না রাখে হালকা বাদামি, গোলাপি কিংবা মাটির রংয়ের চোখের প্রসাধনী ব্যবহার করা যেতে পারে। চোখের পাতায় সামান্য রং দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিলে চোখ দেখাবে উজ্জ্বল, কিন্তু সাজও ভারী হবে না।

কচি বলেন, “চোখের পাপড়ির গোড়ায় চিকন করে কাজল বা লাইনার টানা যায়। এতে চোখের আকৃতি ফুটে উঠবে। এরপর অল্প মাশকারায় চোখ আরও সতেজ দেখাবে।”

ঠোঁটে মিষ্টি রং

এই রূপ-বিশারদের কথায়, “ন্যাচারাল সাজের শেষ ধাপ ঠোঁটের লিপস্টিকের রং। হালকা গোলাপি, পিচ বা ঠোঁটের স্বাভাবিক রংয়ের কাছাকাছি কোনও আভা বেছে নেওয়া যায়।”

ঠোঁটে রঙিন আভা দিতে হালকা ঠোঁটের রং বা রঙিন লিপটিন্ট ব্যবহার করা যায়। ঠোঁটের মাঝখানে সামান্য লিপস্টিক লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও কোমল আভা পাওয়া যায়।

পুরনো খবর:

ত্বকে থাকুক শরতের শুভ্রতা
গালে ক্রিম না পাউডার ব্লাশ?
ত্বকের যত্নে ‘অ্যান্টি-এইজিং’ ধারণা পেরিয়ে দীর্ঘায়ুর সূচনা