ত্বকে থাকুক শরতের শুভ্রতা
শরতের বাতাসে যখন হালকা শীতের আমেজ তখন পোশাকের সঙ্গে বদলাতে হয় ত্বকের যত্ন।
গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় যে হালকা প্রসাধনী ত্বকের জন্য আরামদায়ক ছিল, শরতের শুষ্ক আবহাওয়ায় সেটিই হয়ত ত্বককে আগের মতো আর্দ্র রাখতে পারছে না।
ফলে ত্বক টানটান লাগা, শুষ্ক হয়ে যাওয়া, নিষ্প্রভ দেখানো বা আগের উজ্জ্বলতা হারানোর মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তাই ঋতু বদলের এই সময়ে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা এবং ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষা ঠিক রাখা জরুরি।
বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ারের প্রধান ও রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচি এই ক্ষেত্রে বলেন, “শরতের শুরুতেই ত্বকের যত্নের নিয়মে কিছু পরিবর্তন আনা যেতে পারে। তবে এর জন্য পুরোপুরি নতুন পরিচর্যা অভ্যাস তৈরি করার প্রয়োজন নেই। বরং গরমের সময় ব্যবহৃত হালকা ধরনের ময়েশ্চারাইজারের বদলে এমন ক্রিম বেছে নেওয়া যেতে পারে, যা ত্বকের সুরক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনে ভালো কাজ করবে।”
হালকা ময়েশ্চারাইজারের বদলে ঘন ক্রিম
গরমের সময়ে ত্বকে ভারী কিছু ব্যবহার করলে অনেকের অস্বস্তি হয়। তাই তখন হালকা লোশন, পানির মতো ময়েশ্চারাইজার বা জেলধর্মী উপাদান ব্যবহার করা স্বাভাবিক।
তবে আবহাওয়া ঠান্ডা ও শুষ্ক হতে শুরু করলে ত্বক আগের মতো সহজে আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে না। তখন একটু ঘন ধরনের ক্রিম প্রয়োজন হতে পারে।
এই রূপবিশারদ ত্বকের বাইরের সুরক্ষাস্তরকে শক্তিশালী করতে এবং ত্বকের ভেতরের আর্দ্রতা ধরে রাখতে একটু ভারী ক্রিম ব্যবহারে জোড় দেন।
শরতের প্রথম দিকে ত্বক যদি আগের তুলনায় টানটান বা শুষ্ক মনে হয়, সেটি ময়েশ্চারাইজার পরিবর্তনের একটি ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে গোসলের পর ত্বক টানটান লাগলে বা সকালে ঘুম থেকে উঠে ত্বক শুষ্ক মনে হলে বিষয়টি খেয়াল করা দরকার।
প্রয়োজন অনুযায়ী সকালে ও রাতে ক্রিম ব্যবহার করা যায়। দিনের বেলায় ঘন ক্রিম বেশি ভারী মনে হলে শুধু রাতে ব্যবহার করলেও উপকার পাওয়া যেতে পারে।
ত্বকের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিক আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষমতাতেও পরিবর্তন আসতে পারে।
তাই চল্লিশ ও পঞ্চাশের বয়সে ত্বকের যত্নে আর্দ্রতা ধরে রাখার বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেতে পারে। পর্যাপ্ত আর্দ্রতা ত্বককে শুধু আরামদায়ক রাখে না, ত্বককে তুলনামূলকভাবে কোমল ও উজ্জ্বল দেখাতেও কাজ করে।
গরমের দাগ যেন শরতে থেকে না যায়
গ্রীষ্মের প্রচণ্ড রোদ ত্বকে শুধু সাময়িক কালচেভাব তৈরি করে না, সূর্যের আলো থেকে তৈরি হওয়া বিবর্ণতা অনেক সময় গরমের সময় শেষ হওয়ার পরও থেকে যায়।
মুখের পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন অংশেও এমন দাগ দেখা দিতে পারে।
তবে বিবর্ণতা কমানোর কোনও উপাদান ব্যবহার করলেই দ্রুত পরিবর্তন আশা করা ঠিক নয়। নিয়মিত ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ।
একই সঙ্গে শরীরের যে অংশগুলো সূর্যের আলোতে খোলা থাকে, সেসব জায়গায় সূর্যরোধী প্রসাধনী ব্যবহার করাও জরুরি।
“কারণ পুরানো ত্বকের দাগ কমানোর চেষ্টা করলেও নতুন করে অতিরিক্ত সূর্যালোকের সংস্পর্শে এলে বিবর্ণতা আরও গাঢ় হতে পারে”, বলেন শারমিন কচি।
গরমে ক্লান্ত ত্বকে এবার ওটস
শরতের ত্বকের যত্নে এমন একটি উপাদানও কাজে লাগতে পারে, যা ঘরেই থাকে। সেটি হলো ওটস।
শারমিন কচি, গরমের পর ত্বকের জন্য ওটসকে প্রশান্তিদায়ক একটি উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
গরম, ঘাম ও অতিরিক্ত সূর্যের সংস্পর্শে ত্বকে অনেক সময় অস্বস্তি ও সংবেদনশীলতা তৈরি হতে পারে। শরতের ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাস শুরু হলে সেই ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে উঠতে পারে।
এসময় ওটস-ভিত্তিক ত্বক পরিচর্যার উপাদান ত্বকের অস্বস্তি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
ত্বকের যত্নে ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে মিহি করা ওটস ত্বকের জ্বালা ও অস্বস্তি প্রশমিত করতে, ত্বকের সুরক্ষাস্তরকে সহায়তা করতে এবং ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে।
ত্বক পরিষ্কার করলেও অতিরিক্ত নয়
খুব শক্তিশালী পরিষ্কারক বারবার ব্যবহার করলে ত্বকের স্বাভাবিক তেল কমে যেতে পারে। ফলে ত্বক আরও শুষ্ক ও টানটান হয়ে উঠতে পারে।
শরতের শুষ্ক আবহাওয়ায় তাই কোমল পরিষ্কারক ব্যবহার করা যেতে পারে। মুখ ধোয়ার পর ত্বক একেবারে শুকিয়ে যাওয়ার অপেক্ষা না করে প্রয়োজনীয় ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সুবিধা হয়।
খুব গরম পানি দিয়ে দীর্ঘ সময় মুখ বা শরীর ধোয়ার অভ্যাসও কমানো ভালো।
ত্বকের যত্নে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার, ত্বক তৈলাক্ত হলেই যে আর্দ্রতা পর্যাপ্ত, তা ঠিক নয়।
একইভাবে ত্বক শুষ্ক হলেই শুধু তেল ব্যবহার করতে হবে, এমনও নয়। ত্বকের ধরন ও ঋতুর পরিবর্তন অনুযায়ী পরিচর্যার উপাদান বেছে নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
শরৎ এলেও সূর্যরোধী প্রসাধনী বাদ নয়
গরম কমে গেলে সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাবও কমে যায় তা নয়। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সূর্যের আলো থেকে ত্বকের সুরক্ষার প্রয়োজন শেষ হয় না।
বাইরে বের হলে উন্মুক্ত ত্বকে সূর্যরোধী প্রসাধনী ব্যবহার করার অভ্যাস বজায় রাখা উচিত।
