হালকা রংয়ের ঘরে আভিজাত্যের ছোঁয়া দেওয়ার কৌশল
ঘরের একঘেয়ে-ভাব কাটাতে হালকার পাশাপাশি উজ্জ্বল রংয়ের উপাদান ব্যবহারের কৌশল জানা থাকা চাই।
অন্দরসজ্জা বা ইন্টেরিয়র ডিজাইনে ‘বেইজ’ বা হালকা বাদামি ঘরানার রংগুলোর জনপ্রিয়তা চিরন্তন। এটি ঘরে শান্ত, ছিমছাম এবং মার্জিত আবহ তৈরি করে।
তবে এই রংয়ের সঠিক ব্যবহার না জানলে একটি সুন্দর ঘরও একঘেয়ে এবং সস্তা দেখাতে পারে।
অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে পুরো ঘর ক্রিম বা ওটমিল রংয়ে সাজিয়ে ফেলেন। তবে দিনশেষে সেই ঘর দেখতে অনেকটা হাসপাতালের ওয়েটিং রুমের মতো প্রাণহীন লাগে।
জীবনধারা ও গৃহসজ্জা-বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘রিয়েল সিম্পল’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে অন্দরসজ্জাবিদরা জানিয়েছেন, বেইজ রংয়ের আভিজাত্য ও উষ্ণতা বজায় রাখতে ৫টি ভুল এড়িয়ে চলা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের নর্দার্ন ভার্জিনিয়ার আর্কিটেকচার ও ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং প্রতিষ্ঠান ‘গ্রুভার কুলি’র প্রধান ইন্টেরিয়র ডিজাইনার ক্যাথলিন গ্রুভার বলেন, “হালকা রং ব্যবহারে বৈচিত্র্য না থাকলে, ঘরের নিজস্ব ব্যক্তিত্ব হারিয়ে ফেলে।”
ডিজাইনারদের মতে ঘর সাজানোর সময় বেইজ রঙের প্রধান ৫টি ভুল এবং এর সমাধান নিচে দেওয়া হলো:
রংয়ের ‘আন্ডারটোন’ উপেক্ষা করা
অনেকেই মনে করেন ‘বেইজ’ মানে একটি নির্দিষ্ট রং। তবে বাস্তবতা হল, প্রতিটি বেইজ রংয়ের পেছনে একটি নির্দিষ্ট আন্ডারটোন থাকে— যেমন কোনটি একটু গোলাপি, কোনটি হলুদ, কোনটি সবুজ আবার কোনটি ধূসর ঘরানার।
ক্যাথলিন গ্রুভারের মতে, “যদি এই আন্ডারটোনগুলোর মধ্যে অমিল বা সংঘর্ষ হয়, তবে পুরো ঘরের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়। যেমন, একটি গোলাপি আন্ডারটোনের দেয়ালের পাশে যদি হলুদ আন্ডারটোনের সোফা রাখা হয়, তবে দুটিকেই খুব মলিন বা নোংরা দেখাবে।”
সমাধান: দেয়ালে চূড়ান্ত রং করার আগে বড় স্যাম্পল বোর্ডে রং মেখে তা সকাল, দুপুর ও রাতে বিভিন্ন আলোতে পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত।
সব আসবাবপত্রের রং একই মাপে মেলানো
ঘরের দেয়াল, সোফা, কার্পেট ও জানালার পর্দা— সবকিছুই যদি হুবহু এক শেইডের বেইজ রংয়ের হয়, তবে ঘরটি পুরোপুরি ফ্ল্যাট বা প্রাণহীন দেখাবে। টোনাল বা নিউট্রাল রংয়ের ঘর তখনই সুন্দর লাগে, যখন রংয়ের একটি নির্দিষ্ট বিন্যাস থাকে।
সমাধান: ঘরে হালকা, মাঝারি ও গাঢ় শেইডের সংমিশ্রণ রাখতে হবে। যেমন হালকা ক্রিম রংয়ের দেয়ালের সঙ্গে মাঝারি ওটমিল রংয়ের সোফা রাখা যেতে পারে। তবে জরুরি হল একটি ‘ডিপ অ্যাঙ্কর’ বা গাঢ় রংয়ের বৈপরীত্য তৈরি করা। এজন্য ঘরে আখরোট কাঠের টেবিল, তামাক রংয়ের সোফা বা কালো লোহার তৈরি স্ট্যান্ড ল্যাম্প বা শো-পিস রাখা যেতে পারে।
টেক্সচার বা উপাদানের বৈচিত্র্য বাদ দেওয়া
হালকা রংয়ের ঘরকে সস্তা দেখানোর হাত থেকে বাঁচানোর বড় চাবিকাঠি হল ‘টেক্সচার’ বা বিভিন্ন উপাদানের স্তর বিন্যাস। এটা না থাকলে ঘর তার গভীরতা হারায়।
সমাধান: ডিজাইনার ক্যাথলিন গ্রুভার, ঘরে বিভিন্ন উপাদানের লেয়ার বা স্তর তৈরির পরামর্শ দেন।
দেয়ালের জন্য লাইমওয়াশ বা প্লাস্টার, সোফার কাপড়ে লিনেন বা পশমি উল, মেঝের জন্য সিসাল বা হাতে বোনা উলের কার্পেট এবং বেতের বা বাঁশের তৈরি বসার চেয়ার ব্যবহার করলে ঘর আকর্ষণীয় দেখায়।
বাচ্চাদের সুরক্ষায় সোফায় উন্নতমানের টেক্সচার্ড ফেব্রিকও ব্যবহার করা যেতে পারে।
ভুল লাইট বাল্ব বা আলোর নির্বাচন
হালকা রং আলোর প্রতি সংবেদনশীল। ভুল আলোর কারণে ঘরের আসল সৌন্দর্য ঢাকা পড়তে পারে।
যেমন, ঘরের উত্তরমুখী জানালা দিয়ে আসা আলো বা ঘরের শীতল সাদা এলইডি লাইটের নিচে হালকা রং অনেক সময় কাদাটে বা ধূসর দেখায়।
আবার তীব্র দক্ষিণমুখী আলোতে হলুদ ধাঁচের হালকা রং, অস্বস্তিকর কমলা রং ধারণ করতে পারে।
সমাধান: ঘরের আলোর মুখের ওপর ভিত্তি করে, রংয়ের শেইড বেছে নিতে হবে। উত্তরমুখী ঘরের জন্য কিছুটা উষ্ণ এবং উজ্জ্বল দক্ষিণমুখী ঘরের জন্য কিছুটা শীতল বা ‘গ্রেইজ’ টোন উপযুক্ত। এ
ছাড়া ঘরের ভেতরে সুন্দর আবহ তৈরি করতে হলুদ ঘরানার উষ্ণ বাল্ব ব্যবহার করা উচিত এবং ল্যাম্পশেইড বা স্কোন্সের মাধ্যমে আলোর স্তর তৈরি করা ভালো।
বেইজ রংকে ‘নিরাপদ’ মনে করে ব্যক্তিত্বহীন করা
অনেকেই ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে কোনও ঝুঁকি নিতে চান না, যে কারণে চোখ বন্ধ করে হালকা রং বেছে নেন। কোনও সিদ্ধান্ত না নিয়ে শুধু এড়িয়ে যাওয়ার জন্য এই রং ব্যবহার করলে ঘর দেখতে মলিন লাগে।
সমাধান: ‘মিনিমাল’ বা ছিমছাম ডিজাইন পছন্দ করলেও ঘরের এক কোণায় বা সোফার কুশনে একটি আত্মবিশ্বাসী উজ্জ্বল রংয়ের ছোঁয়া রাখা উচিত, যার বিপরীতে হালকা রংটি আরও সুন্দরভাবে ফুটে উঠবে।
ঘরে কিছুটা বৈচিত্র্য আনতে একটি প্রাচীন ধাঁচের ভিন্টেজ কার্পেট, ব্লক-প্রিন্টের কুশন বা স্ট্রাইপড কাপড়ের ব্যবহার করা যেতে পারে।
ঘরে কিছু শিল্পকর্ম যুক্ত করলে হালকা রংকে একঘেয়ে না দেখিয়ে কালজয়ী ও আভিজাত্যপূর্ণ মনে হবে।
