কর্মক্ষেত্রে ওজন বাড়ার ৭ কারণ

ওজন কমানোর জন্য যাবতীয় পরিকল্পনা মাঠে মারা যেতে পারে, যদি না কর্মক্ষেত্রে বা অফিসেও সাবধান না হন।

লাইফস্টাইল ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 18 Dec 2017, 12:04 PM
Updated : 18 Dec 2017, 12:04 PM

ব্যায়াম ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করে দেহেরবাড়তি ওজন কমানো যায়। তবে অফিসে গিয়ে যদি কয়েকটি বিষয়ে নজরে না রাখেন তবে বৃথা যেতেপারে ওজন কমানোর সমস্ত চেষ্টা।

স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে এই বিষয়েরউপর প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে কোন কোন ব্যাপারের উপর নজর দেবেন সেগুলো জানানো হলএই প্রতিবেদনে

মনরক্ষার্থে খাওয়া: কর্মীদের কর্মস্পৃহা ধরে রাখতে অফিসের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতায় ভারী খাওয়া-দাওয়ারআয়োজন থাকে। এই ছোটখাট আয়োজনগুলো হরহামেশাই ঘটে। আর ওজনের লাগাম টেনে রাখতে না পারারএটা অন্যতম কারণ।

অনুষ্ঠানে বাফেটের আয়োজন থাকলে বিভিন্নপদের মজাদার খাবারের পসরা দেখে ওজন কমানোর প্রতিশ্রুতি ধরে রাখা কষ্টকরই বটে। তবে কষ্টেইকেষ্ট মেলে, তাই এসব ক্ষেত্রে সালাদের উপর বেশি জোর দিতে হবে।

ভাবিয়া খান, খাইয়া ভাবিয়েন না: দুপুর বেলা রেস্তোরাঁয় না খেয়ে ঘরে রান্না করা খাবার খেলে স্বাস্থ্যভালো থাকবে, একথা সবাই জানেন। হয়ত আপনি সেটাই করেছেন, তবে বিকেল বেলা কাজের চাপে যখনমাথা খারাপ হওয়ার যোগাড়, তখন চাই হালকা স্ন্যাকস বা নাস্তা। আর সেজন্য বেছে নিলেন ফাস্টফুডকিংবা ভাজাপোড়া। ফলে ঘরে তৈরি খাবার খেয়েও কোনো লাভ হল না। তাই দুপুরের খাবারের সঙ্গেবিকেলের নাস্তাও ঘর থেকে আনার চেষ্টা করতে হবে।

অফিসের পরিবেশ: গবেষণায় দেখা গেছে, অফিস কক্ষে আলো যদি কম থাকে তবে উজ্জ্বল আলোকিত পরিবেশেরতুলনায় আপনার খাওয়ার মাত্রা বাড়ে। কক্ষ তাপমাত্রার ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। অফিসেরআলো ও তাপমাত্রা যদি কম হয়, তবে কিছুক্ষণ পর পর বাইরে থেকে হেঁটে আসতে পারেন।

অফিসের সময়:অফিসে যেতে হবে নয়টার মধ্যে, কিন্তু বের হওয়ার সময় ছয়টা বলা হলেও সেটা আটটা থেকে নয়টাপর্যন্ত গড়ায় প্রায়ই। ফলে নিজের জন্যই সময় থাকে না। দিন শেষ মন বলে, চুলোয় যাক ব্যায়াম,ঘুমই যেন স্বর্গ। আবার এই দীর্ঘসময় অফিস আপনার হরমোনকেও প্রভাবিত করে, ফলে ক্ষুধা পায়ঘন ঘন। এর সমাধান হতে পারে শারীরিক নড়াচড়া। লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করা, কিছুক্ষণপরপর চেয়ার ছেড়ে একটু হাঁটাহাঁটি করা ইত্যাদির মাধ্যমে সমস্যা কিছুটা এড়াতে পারবেন।

কাজের চাপে খাওয়া:
পদমর্যাদায় আপনি যতই নিচে কিংবা উপরে থাকুন না কেনো, কাজের চাপ আছেই। আর এইচাপ থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে খাবারকেই বেছে নেন কমবেশি সবাই। মানসিক চাপের সময় শরীরেনিঃসৃত হয় ‘কর্টিসল’ হরমোন যা ক্ষুধার অনুভূতি জাগায় সময়ে-অসময়ে, ফলাফল- অতিরিক্ত খাওয়া।পর্যাপ্ত ঘুম এবং ভারী ব্যায়াম এর সমাধান হতে পারে।

একসঙ্গে একাধিক কাজ: গবেষণা বলছে, মানুষের শরীর একসঙ্গে একাধিক কাজ করতে সক্ষম, তবে তা সৃষ্টিকরে মানসিক চাপ, সেই সঙ্গে ক্ষুধাও। শরীর ও মন সারাদিন বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকার পরদিন শেষে অত্যন্ত ক্লান্ত হয়ে পড়ে, ফলে সস্তির আশায় খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়তে চায়। এজন্যসঙ্গে রাখতে পারেন বিভিন্ন ধরনের বাদাম। ফলে অন্যান্য জাঙ্কফুড থেকে দূরে থাকা সহজহবে।

পানির অভাব: পানিপান করতে ভুলে যাওয়া সকলেরই সাধারণ সমস্যা। আর কাজের চাপে থাকলে তো কথাই নেই। পানিকম আর চা-কফি বেশি পান করার কারণে ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ফলে বাড়তে পারে ওজন,কমতে পারে আপনার কর্মস্পৃহা। তাই অফিসে নিজের টেবিলে অবশ্যই একটি পানি ভর্তি বোতল রাখতেহবে। আর দিনে সেটা তিনবার শেষ করার চেষ্টা করুন।

ছবি: রয়টার্স।

আরও পড়ুন

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক