Published : 05 Sep 2026, 02:23 PM
খাবার তৈরিতে ব্যবহারের পাশাপাশি চর্বি কাটতে, দুর্গন্ধ দূর বা জমে থাকা কঠিন ময়লা কাটাতে বেইকিং সোডার ব্যবহার প্রচলিত।
তবে সব ধরনের জিনিস পরিষ্কারের জন্য এটি নিরাপদ নয়।
গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও অন্ট্রাপ্রেনাশিপ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসমিয়া জান্নাত এই বিষয়ে বলেন, “কারণ কোথাও এটি সূক্ষ্ম আঁচড় ফেলতে পারে, কোথাও আবার চকচকে-ভাব নষ্ট করতে পারে বা কাঠের সুরক্ষা আবরণ নষ্ট করে দিতে পারে।”
তাই ছয় রকম জিনিস পরিষ্কারের ক্ষেত্রে বেইকিং সোডা এড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।
কাচ ও আয়নায় ক্ষুদ্র আঁচড়ের ঝুঁকি
জানালার কাচ, আয়না কিংবা ঘরের অন্য কোনও কাচের সামগ্রী পরিষ্কার করতে বেইকিং সোডা ব্যবহার হয়। বিশেষ করে হাতের ছাপ, ময়লা বা আঙুলের দাগ পরিষ্কার করতে এটি সহজ উপায় মনে হতে পারে।
তবে কাচ ও আয়নার জন্য এই পদ্ধতি উপযুক্ত নয়।
বেইকিং সোডা দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করা হয়। ফলে কাচ বা আয়নার ওপর এটি ব্যবহার করলে খুব সূক্ষ্ম আঁচড় তৈরি হতে পারে। প্রথমবার ব্যবহারের পর হয়ত, খালি চোখে বোঝাও যাবে না। তবে নিয়মিত ব্যবহারে সেই ক্ষুদ্র আঁচড় জমতে জমতে, অংশটি ঘোলা ও চকচকেহীন হয়ে পড়বে।
তাই কাচ পরিষ্কারের উপযোগী তরল কিংবা পানি ও ভিনেগারের মিশ্রণ ব্যবহার করে নরম মাইক্রোফাইবার কাপড় দিয়ে মুছে নিতে হবে।
কাঠের জিনিসের আবরণ নষ্ট হতে পারে
কাঠের চামচ বা কাঠের তৈরি রান্নাঘরের সামগ্রীতে রান্নার খাবার লেগে গেলে, তা পরিষ্কার করা বেশ ঝামেলার। অনেক সময় শক্ত হয়ে লেগে থাকা খাবার সরাতে বেইকিং সোডা দিয়ে ঘষার কথা মনে হতে পারে।
তবে কাঠের ক্ষেত্রে এই অভ্যাস ক্ষতির কারণ হতে পারে।
কাঠের ওপর থাকা সুরক্ষামূলক আবরণ ধীরে ধীরে ক্ষয় করে দিতে পারে বেইকিং সোডা। এই আবরণ দুর্বল হয়ে গেলে কাঠ আর্দ্রতা শুষে নিয়ে বিবর্ণ হয়ে পড়ে।
দীর্ঘদিন এমনভাবে পরিষ্কার করলে কাঠের স্বাভাবিক সৌন্দর্যও নষ্ট হতে পারে এবং দেখাতে পুরানো লাগে।
অর্থাৎ কাঠের কোনো জিনিসে খাবার শক্ত হয়ে লেগে থাকলে জোরে বেইকিং সোডা দিয়ে ঘষে ফেলার পরিবর্তে উপযুক্তভাবে পরিষ্কারক ব্যবহার করাই নিরাপদ।
কাঠের সৌন্দর্য ধরে রাখতে পরিষ্কার করার পাশাপাশি এর ওপরের সুরক্ষামূলক আবরণ ধরে রাখাও জরুরি।
অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি ও পাতিলে বিবর্ণতা
অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি বা পাতিলে রান্না করতে গিয়ে খাবার তলায় লেগে গেলে তা পরিষ্কার করা কষ্টকর। বেশি তাপে রান্না হলে এই সমস্যা আরও বাড়ে।
তখন জমে থাকা চর্বি বা খাবারের দাগ তুলতে বেইকিং সোডা ব্যবহার অনেক কাছেই স্বাভাবিক।
তবে অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে বেইকিং সোডা ব্যবহার করলে পাত্রের রং বদলে যেতে পারে এবং সেটি বিবর্ণ ও পুরানো দেখাতে পারে। অর্থাৎ খাবারের দাগ সরাতে গিয়ে পাত্রের স্বাভাবিক চেহারাই নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র পরিষ্কারের ক্ষেত্রে, তাই উপাদানটির প্রকৃতি বিবেচনা করা জরুরি। সব ধরনের ধাতব পাত্রের জন্য একই রকম পরিষ্কার করার পদ্ধতি নিরাপদ এমন ধারণা যথার্থ না।
মার্বেল পাথর
রান্নাঘর বা গোসলখানার মার্বেল পাথরের দেয়াল, মেঝেতে খাবারের দাগ, পানি বা অন্য ময়লা জমলে- পরিষ্কার করতে বেইকিং সোডা ব্যবহার করা সাধারণত ক্ষতিকারক মনে হয় না।
তবে এ ধরনের পাথরের উপরিভাগে বেইকিং সোডা ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন, এই অধ্যাপক।
বেইকিং সোডা পাথরের ওপর থাকা সুরক্ষামূলক আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সেই আবরণ উঠে গেলে উপরিভাগের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ও চকচকে ভাব কমে যায়। আর দেখতেও মলিন লাগে।
বিশেষ করে যে পাথরের উপরিভাগে আগে থেকেই সুরক্ষামূলক আবরণ দেওয়া থাকে, সেটি রক্ষার জন্য সাধারণ মৃদু সাবান পানি ব্যবহার করাই কার্যকর।
স্টেইনলেস স্টিলের সামগ্রী
রান্নাঘরের চুলা, ফ্রিজ, বাসন বা খাবার গরম করার স্টেইনলেস স্টিলের সামগ্রীর উপরিভাগে সহজেই তেল, ময়লা ও আঙুলের ছাপ পড়ে, যা পরিষ্কারে বেইকিং সোডা অনেকের ভরসা।
তবে স্টেইনলেস স্টিলের উপরিভাগে বেইকিং সোডা ব্যবহার করলে চকচকে-ভাব একেবারেই কমে যেতে পারে। আবার অতিরিক্ত ঘষাঘষির সঙ্গে এটি উপরের আবরণে ক্ষতি বা আঁচড় ফেলে।
তাই স্টেইনলেস স্টিলের জন্য তৈরি পরিষ্কার করার উপযোগী সামগ্রী ব্যবহার করাই নিরাপদ।
আরও পড়ুন
বেসিনের ড্রেনের দুর্গন্ধ দূর করতে বেইকিং সোডা ও ভিনেগার
ঘরের যেসব জিনিস প্রতি মাসেই পরিষ্কার করা উচিত