১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

সেহেরিতে সঠিক সময়ে ঘুম ভাঙার পন্থা

অভ্যস্ত হতে দুয়েকদিন সময় লাগলেও সঠিক কৌশলে সময় মতো সেহরিতে জেগে ওঠা সম্ভব।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Feb 2026, 04:39 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:01 PM

দীর্ঘ সময় রোজা রাখার আগে শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি ও পানি সরবরাহ করতে সেহেরি বাদ দেওয়া একেবারেই ঠিক নয়।

তবে অনেকের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হল- সেহরির জন্য ঠিক সময়ে ঘুম থেকে ওঠা। রাত জাগা, অনিয়মিত ঘুম ও ক্লান্তির কারণে অনেকেই সেহেরি খেতে পারেন না। যদিও কিছু সহজ অভ্যাসে এই সমস্যার সমাধানও সম্ভব।

ঘুমের সময় আগে এগিয়ে নেওয়া

রোজার সময় অনেকেই দেরিতে ঘুমাতে যান, ফলে ভোরে ওঠা কঠিন হয়ে যায়।

"চেষ্টা করতে হবে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে ঘুমাতে যেতে। এতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম হয় এবং ভোরে ওঠাও সহজ হয়” বলেন- হেলথ এইড হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আফিফ বাসার।

মোবাইল ও স্ক্রিন ব্যবহার কমান

ঘুমানোর আগে মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপ ব্যবহার করলে ঘুম দেরিতে আসে। স্ক্রিনের আলো মস্তিষ্ককে জাগিয়ে রাখে। তাই ঘুমানোর অন্তত আধা ঘণ্টা আগে স্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ করা ভালো।

একাধিক অ্যালার্ম ব্যবহার

শুধু একটি অ্যালার্মে ভরসা না করে কয়েক মিনিট পরপর একাধিক অ্যালার্ম সেট করতে পারেন।

অ্যালার্ম ফোন বা ঘড়িটি বিছানা থেকে একটু দূরে রাখলে বন্ধ করতে উঠতেই হবে, ফলে ঘুম ভাঙা সহজ হয়।

পরিবার বা সঙ্গীর সহায়তা

পরিবারে কেউ আগে উঠলে একে অন্যকে ডেকে তুলতে পারেন। একসঙ্গে সেহেরি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে সময়মতো ওঠার উৎসাহও বাড়ে।

ঘুমানোর আগে ভারী খাবার এড়িয়ে চলা

“রাতে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া বা ভারী খাবার খেলে ঘুমে অস্বস্তি হয় এবং সকালে উঠতে কষ্ট লাগে। তাই হালকা খাবার খেয়ে ঘুমানো ভালো”, বলেন এই চিকিৎসক।

সেহেরির জন্য আগেই প্রস্তুতি

রাতে খাবার প্রস্তুত করে রাখলে সকালে তাড়াহুড়া কম হয়। দ্রুত খাবার পরিবেশন করা যায় বলে সময়মতো ওঠার আগ্রহও বাড়ে।

পর্যাপ্ত পানি পান

দিনে পর্যাপ্ত পানি না খেলে ক্লান্তি বাড়ে, যা ঘুম ভাঙতে বাধা দেয়। তাই ইফতার থেকে ঘুমানোর আগে পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।

দুপুরে অতিরিক্ত ঘুম নয়

রোজার দিনে দুপুরে বেশি সময় ঘুমালে রাতে দেরিতে ঘুম আসে। ফলে ভোরে ওঠাও কঠিন হয়। তাই দিনের ঘুম সীমিত রাখাই ভালো।

মানসিক প্রস্তুতি জরুরি

ঘুমানোর আগে নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে হবে। সেহেরিতে ওঠা স্বাস্থ্য ও রোজার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই মানসিক প্রস্তুতি অনেক সময় অ্যালার্মের আগেই জাগিয়ে দেয়।

ধীরে ধীরে অভ্যাস তৈরি

প্রথম কয়েক দিন কষ্ট হতে পারে, তবে নিয়মিত চর্চায় শরীর নিজেই নির্দিষ্ট সময়ে জেগে উঠতে অভ্যস্ত হয়ে যায়।

কেন সেহেরি বাদ দেওয়া উচিত নয়

“সেহেরি বাদ দিলে সারাদিন দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, পানিশূন্যতা ও কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই সঠিক সময়ে ওঠার অভ্যাস তৈরি করা রোজা সহজ রাখতে সাহায্য করে” বলেন ডা. আফিফ বাসার।

আরও পড়ুন

ঘুম থেকে জেগে ওঠার সেরা সময়

যে কারণে সকালে ঘুম থেকে ওঠা কঠিন

ঘুম থেকে ওঠার পরও ক্লান্ত!