১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

গাছের উপকার করতে গিয়ে যে ভুলগুলো এড়ানো উচিত

হঠাৎ করে নতুন পদ্ধতি ব্যবহারে গাছের ক্ষতি হতে পারে।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Sep 2026, 04:02 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:53 AM

গাছের যত্ন নিতে গিয়ে এমন অনেক পদ্ধতিই অনুসরণ করা হয় যা সহজ ও কার্যকর মনে হয়। তবে শেষ পর্যন্ত  সেগুলো ক্ষতিই করে।

তবে বিশেষ কোনো কোনো পদ্ধতি সঠিকভাবে ব্যবহার করলে ভালো কাজ করতে পারে। আর ভুলভাবে প্রয়োগ করলে গাছের বৃদ্ধি থেমে যায়, পোকামাকড় বাড়ে, শিকড়ের ক্ষতি এমনকি গাছ মরেও যেতে পারে।

কলার খোসা দিয়ে সার তৈরি

প্রাকৃতিক সার হিসেবে কলার খোসা ব্যবহার বেশ পরিচিত।

তবে মার্কিন উদ্যান বিশেষজ্ঞ জেন ডবস রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “প্রাকৃতিক সারে গাছের প্রয়োজনীয় সব ধরনের পুষ্টি সব সময় সমানভাবে থাকে না। কলার খোসায় পটাসিয়াম থাকলেও নাইট্রোজেন থাকে না। ফলে শুধু কলার খোসার ওপর নির্ভর করলে গাছ প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হতে পারে।”

জেন ডবস আরও বলেন, “কৃত্রিম সারের তুলনায় প্রাকৃতিক উপাদান ধীরে ধীরে পচে এবং ধীরে ধীরে পুষ্টি ছাড়ে। ফলে গাছের দ্রুত পুষ্টির প্রয়োজন হলে এর প্রভাব পেতে দেরি হতে পারে।”

ঘরের ভেতর কলার খোসা পচতে দিলে দুর্গন্ধও তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি পচনশীল জৈব উপাদান ইঁদুর, মাছি ও অন্যান্য পোকা বাড়ায়।

এর বদলে ধীরে ধীরে পুষ্টি ছাড়ে এমন জৈব সার, হাড়ের গুঁড়া, পচা জৈব সার বা ভালোভাবে পচানো গোবর ব্যবহার করা যেতে পারে।

মাটিতে বেশি কফির গুঁড়া

মাটির উর্বরতা বাড়াতে কফির গুঁড়া ব্যবহার করার পরামর্শও পাওয়া যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘গ্রিনপাল’ প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার জিন কাবালেরো বলেন, “কফির গুঁড়ায় নাইট্রোজেন থাকে এবং এটি মাটির গঠন উন্নত করতে পারে। তবে অতিরিক্ত ব্যবহারে মাটির অম্লতা বেড়ে যেতে পারে। যেসব মাটি আগে থেকেই অম্লীয়, সেখানে এর অতিরিক্ত ব্যবহার কিছু গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত করতে পারে।”

এছাড়া মাটির ওপর খুব পুরু করে কফির গুঁড়া ছড়িয়ে দিলে, এক ধরনের আবরণ তৈরি করে। এতে মাটির ভেতরে পানি ও বাতাস পৌঁছাতে সমস্যা হতে পারে।

ফলে গাছকে উপকার করার বদলে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

শামুক ঠেকাতে ডিমের খোসা ও লবণ

গাছের পাতা খেয়ে শামুক ও নরমদেহী কীটপতঙ্গ অনেক সময় বাগানের ক্ষতি করে। এগুলো ঠেকাতে গাছের চারপাশে ভাঙা ডিমের খোসা ছড়িয়ে দেওয়ার কৌশল প্রচলিত।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার উদ্যানতত্ত্ববিদ নাথান হাইনরিখ বলেন, “এই পদ্ধতি কার্যকর নয়। শামুক ও এই ধরনের নরমদেহী প্রাণী ধারালো জিনিসের ওপর দিয়েও চলতে পারে। তাই ডিমের খোসা তাদের ঠেকাতে যথেষ্ট নয়।”

লবণ প্রয়োগে শামুক ও এই ধরনের প্রাণী, মারা যায় ঠিকই, তবে মাটিতে সরাসরি লবণ দিলে গাছেরও ক্ষতি হয়।

তিনি আরও বলেন, “বেশিরভাগ গাছ মাটিতে বেশি পরিমাণ সোডিয়াম সহ্য করতে পারে না। ফলে লবণ দিয়ে শামুক তাড়াতে গেলে গাছও লবণের ক্ষতি তৈরি হতে পারে এবং দ্রুত গাছ মারা যেতে পারে।”

ভুল সময়ে গাছে পানি দেওয়া

গাছে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রেও ভুল পদ্ধতি ক্ষতির কারণ হতে পারে।

জেন ডবস বলেন, “দিনের মাঝামাঝি সময়ে গাছের ওপর থেকে পানি দিলে, সেটা দ্রুত বাষ্প হয়ে যেতে পারে এবং পাতায় রোদের পোড়া দাগ তৈরি হতে পারে। আবার মাটির নিচে পানি দেওয়ার পাইপ ভুলভাবে ব্যবহার করলে কোথাও বেশি পানি, কোথাও কম পানি পৌঁছাতে পারে। অতিরিক্ত পানি শিকড় পচিয়ে দিতে পারে।”

তার পরামর্শ হল, “দিনের অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা সময়ে, যেমন ভোরে বা বিকেলের শেষ দিকে গাছে পানি দেওয়া ভালো। মাটির নিচে পানি পৌঁছানোর ব্যবস্থা করলে, সময় মেনে ব্যবহার করা এবং গাছ থেকে যথাযথ দূরত্বে রাখা জরুরি। এতে পানি সমানভাবে পৌঁছানোর পাশাপাশি শিকড় গভীরে বাড়ার সুযোগ পায়।”

গাছ খুব গভীরে লাগানো

একটি সাধারণ ভুল হল, গাছ খুব গভীরে মাটিতে পুঁতে দেওয়া।

নাথান হাইনরিখ বলেন, “মূল পাত্রে যে উচ্চতায় গাছ ছিল, সাধারণত তার চেয়ে বেশি গভীরে বেশির ভাগ গাছ লাগানো উচিত নয়। টমেটো গাছ এর একটি বড় ব্যতিক্রম, কারণ এটি তুলনামূলক গভীরে লাগালে উপকার পেতে পারে।”

গাছ, ঝোপজাতীয় উদ্ভিদ ও ফুলের গাছ অতিরিক্ত গভীরে লাগালে মাটির নিচে চাপা পড়া কাণ্ডের অংশ দিয়ে পুষ্টি পরিবহনে সমস্যা হতে পারে।

এমনকি গোড়ায় মাত্র এক-দুই ইঞ্চি অতিরিক্ত মাটি জমে গেলেও কাণ্ড পচে গাছ মারাও যেতে পারে।

মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখতে গাছের চারপাশে জৈব উপাদান দিয়ে আবরণ দেওয়া যেতে পারে। তবে সেই আবরণ যেন গাছের কাণ্ড বা নিচের শাখার সঙ্গে লেগে না থাকে।

ঘরোয়া কীটনাশক তৈরির চেষ্টা

সুগন্ধি তেলকে পোকামাকড় দমনের উপায় হিসেবে ব্যবহার করাও সব গাছের জন্য নিরাপদ নাও হতে পারে। অতিরিক্ত শক্তিশালী হওয়ায় এগুলো গাছের পাতায় ক্ষতি করতে পারে।

আবার থালা-বাসন পরিষ্কারের তরল পোকামাকড় মারতে পারলেও গাছের প্রাকৃতিক তেল ও মোমের স্তর নষ্ট করে দিতে পারে।

এতে পাতায় পোড়া দাগ পড়া কিংবা গাছের বৃদ্ধি কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

জেন ডবস, গাছের ওপর হালকা কাপড়ের আবরণ ব্যবহার করার পরামর্শ দেন।

এতে উড়ে আসা পোকামাকড় থেকে গাছকে রক্ষা করা যায়। রসুন বা পেঁয়াজ দিয়ে তৈরি কিছু ঘরোয়া স্প্রে পোকামাকড় দূরে রাখতেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে কোন পোকামাকড়ের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা কার্যকর হবে, তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।

আরও পড়ুন

ঘরের গাছ মরে যায় যে ভুলে

ঘরের গাছ পুনরায় পাত্রে বসানোর সঠিক সময়

ঘরে সুগন্ধ ছড়াবে যেসব গাছ