প্রতিদিন ছোট ঘুম দেওয়ার অভ্যাস কি ভালো?
চাঙা বোধ করতে ‘ন্যাপ’ বা ছোট ঘুম দিতে গিয়ে, বেশি সময় পার করলেই কিন্তু বিপদের সম্ভাবনা বাড়ে।
অনেকেই ভাবেন, দিনের বেলা যখনই ক্লান্তি আসবে তখনই একটু ঘুমিয়ে নিলে বুঝি শরীরের সব ক্ষয় পূরণ হয়ে যায়, যা আধুনিক ‘স্লিপ মেডিসিন’-এর দৃষ্টিতে ভুল ধারণা।
ঘুম গবেষকদের মতে, এই ‘ন্যাপ’ নেওয়ার অভ্যাস কিছু ক্ষেত্রে ভালো। সূর্য আকাশে থাকা অবস্থায় প্রতিদিন ঘুম দেওয়ার অভ্যাসে শরীরের স্বাভাবিক মেটাবলিজম ও রাতের ঘুমের গুণগত মানকে কমিয়ে দিতে পারে।
জীবনযাপন ও স্বাস্থ্য-বিষয়ক পোর্টাল ‘রিয়েল সিম্পল’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, দুপুরের ঘুম কেবল তখনই উপকারী হবে যখন শরীর ক্লান্তির বদলে ‘ঘুমের ঘোরে’ আচ্ছন্ন থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের প্রখ্যাত স্লিপ থেরাপিস্ট জেসিকা ফিঙ্ক (Jessica Fink, LCSW-S) দুপুরের ঘুমের মনস্তাত্ত্বিক মেকানিজম এবং সুস্থ উপায়ে ঘুমানোর ২টি প্রধান বৈজ্ঞানিক নিয়ম বিস্তারিত আলোচনা করেছেন:
‘ক্লান্তি’ বনাম ‘ঘুমের ঘোর’ চেনার বৈজ্ঞানিক পার্থক্য
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের স্লিপ থেরাপিস্ট জেসিকা ফিঙ্ক প্রতিবেদনে বলেন, “অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাগত পার্থক্য রয়েছে ‘ন্যাপ’ নেওয়ার ক্ষেত্রে, তা হল ‘ক্লান্ত’ এবং ‘ঘুমের ঘোরে’ থাকার তফাত।
আসল সংকেত: যদি কাজের টেবিলে বসে থাকার সময় অনবরত চোখ বন্ধ হয়ে আসে, মাথা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে বা কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে পলকহীন শূন্য চোখে তাকিয়ে থাকতে হয়, তবে বুঝতে হবে মস্তিস্ক এখন ‘স্লিপ ক্র্যাশে’ বা ঘুমের ঘোরে ভুগছে।
কেবল এই পরিস্থিতিতেই দুপুরের একটি ছোট ঘুম মস্তিস্কের জন্য পরম প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে।
তবে শুধুই শারীরিক বা মানসিকভাবে ক্লান্ত লাগে কিন্তু চোখে ঘুম না থাকে, তবে আলসেমী কাটাতে সামান্য হাঁটাচলা বা কসরত করা উপকারী।
মগজের ‘অ্যাডেনোসিন’ ও ঘুমের চাহিদা বোঝার কৌশল
জেসিকা ফিঙ্ক সতর্ক করে বলেন, “রাতের ঘুমের গভীরতা ও পরিমাণের ওপর নির্ভর করে শরীরের নিজস্ব ‘স্লিপ ড্রাইভ’ বা ঘুমের প্রাকৃতিক চাহিদা।
মানুষ যতক্ষণ জেগে থাকে, মস্তিস্কের কোষে অনবরত ‘অ্যাডেনোসিন’ নামক এক বিশেষ রাসায়নিক উপাদান জমা হতে থাকে, যা রাতের বেলা গভীর ঘুম আনতে সাহায্য করে।
দুপুরে অতিরিক্ত ঘুমালে এই জমানো ক্ষতিকর বা উপকারী অ্যাডেনোসিন অসময়ে খরচ হয়ে যায়। ফলে রাতে ইনসোমনিয়া বা তীব্র অনিদ্রা রোগ দেখা দেয়।
তাই রাতে ভালো ঘুমাতে চাইলে দুপুরের অলস ঘুম বর্জন করে মগজে পর্যাপ্ত অ্যাডেনোসিন জমা রাখা উপকারী।
দুপুরের ঘুম বা ন্যাপ নেওয়ার ২টি নিয়ম
যদি শরীর অতিরিক্ত ঘুমের ঘোরে আচ্ছন্ন থাকে এবং ন্যাপ নেওয়া বাধ্যতামূলক হয়, তবে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ২টি কৌশল অবলম্বন করার পরামর্শ দেন, জেসিকা ফিঙ্ক।
২০ মিনিটের অ্যালার্ম সূত্র: দুপুরের আদর্শ ঘুমের পরিমাপ হতে হবে সর্বোচ্চ ২০ মিনিট। ঘুমানোর আগে মোবাইলে ঠিক ৩০ মিনিটের একটি অ্যালার্ম সেট করা উচিত, যেন মস্তিস্ক কোনোভাবেই ‘গভীর ঘুম’ বা ডিপ স্লিপ মোডে প্রবেশ করতে না পারে।
২০ মিনিটের বেশি ঘুমালে ঘুম ভাঙার পর মস্তিস্ক অতিরিক্ত অগোছালো ও বেশি ক্লান্ত বোধ করে।
৭ থেকে ৯ ঘণ্টার অভ্যাস: দুপুরের ঘুম মনগড়া সময়ে নেওয়া যাবে না। মানুষের শরীরের অভ্যন্তরীণ জৈবিক ঘড়ি বা ‘সারকাডিয়ান রিদমে’ প্রাকৃতিকভাবেই দুপুরের দিকে শক্তির একটি বড় পতন ঘটে।
প্রথানুযায়ী সকালে ঘুম থেকে ওঠার ঠিক ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা পর এই ফাঁকা সময়টি তৈরি হয়। এই নির্দিষ্ট সময়ের মাঝে ‘ন্যাপ’ বা ছোট ঘুম দিলে, তা হৃদ্-যন্ত্র ও লিভারের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন
