জনপ্রিয় শিশু সাহিত্যিক ও ছড়াকার আনজীর লিটন কথা বলেছেন হ্যালোর সাথে।
Published : 20 Apr 2016, 05:53 AM
জানিয়েছেন ছোটকালের দূরন্তপনা থেকে জীবনের পথ খুঁজে নেওয়ার গল্প। অভিজ্ঞতা থেকে দিয়েছেন পরামর্শ।
হ্যালোঃ কেমন আছেন ?
আনজীর লিটনঃ এইতো ভালো। তোমার কি অবস্থা ?
হ্যালোঃ জ্বি ভালো। স্যার আপনি লেখালেখিতে যুক্ত হলেন কখন?
আনজীর লিটনঃ আমি ইন্টারমিডিয়েটে এসে লেখালেখিতে যুক্ত হয়েছি।
হ্যালোঃ কেমন সাপোর্ট পেতেন?
আনজীর লিটনঃ বেশ সাপোর্ট ছিল। আমার বাবা মা অনেক এনজয় করতেন। আমার লেখা যখন ছাপা হতো বাসার সবাই পড়তো। বাবা যত্ন করে রেখে দিতেন। একে ওকে দেখাতেন।
হ্যালোঃ লেখালেখিকে কতটুকু ভালোবাসেন?
আনজীর লিটনঃ লেখক হয়েই থাকতে চাই। আমি পরজনমেও লেখক হতে চাই।
হ্যালোঃ স্কুল পালানো হয়েছে ?
আনজীর লিটনঃ হুমম একদিন সিনেমার শ্যুটিং দেখার জন্য স্কুল পালিয়েছিলাম।
হ্যালোঃ তখন কোথায় পড়তেন ?
আনজীর লিটনঃ ময়মনসিংহ জেলা স্কুলে পড়তাম।
হ্যালোঃ স্যার এবার আপনার পরামর্শ নিতে চাই।
আনজীর লিটনঃ বল কি? চেষ্টা করি।
হ্যালোঃ আমাদের সারাদিন বইয়ের ব্যাগ টানতে হয়। পড়ার চাপে দিশেহারা থাকি। আমাদের মধ্যে থেকে কীভাবে রবীন্দ্র-নজরুল বের হয়ে আসবে? চিন্তা করার সামান্য সময়টুকুও পাই না।
আনজীর লিটনঃ তারা দার্শনিক হয়ে এসেছিলেন। জীবনের সব কিছু দেখতে পেয়েছেন। উপলব্ধি করতে পেরেছেন। ছোটদের মধ্য থেকে এখন একটা নজরুল হোক, একটা রবীন্দ্রনাথ হোক। সমস্যা নেই। তখন সেই যুগ এই যুগের যে পার্থক্য ভেঙে যাবে। প্রমাণ হয়ে যাবে আসলে কি দরকার।
হ্যালোঃ প্রযুক্তির এ সময়ে বই পড়া হয়ে উঠেনা। আগ্রহ হারিয়ে ফেলছি। আমিসহ এ প্রজন্মের বেশিরভাগই। কি করতে পারি আমরা?
আনজীর লিটনঃ প্রযুক্তির সাথে আমরা এগিয়ে যাব। প্রযুক্তিকে আমি গ্রহণ করব। আমি ফেইসবুকে থাকব। আমি ইন্টারনেটে থাকব, বিশ্বকে দেখব। পড়ার যে গন্ধ, বইয়ের যে গন্ধ এটাকে ভালোবাসলেই হবে। পড়াও তো একটা বিনোদন। গল্পের বই, ছড়ার বই। সারাদিন ১টা ঘন্টা হলেও তো রুটিনে রাখা যায়।
হ্যালোঃ বইয়ের প্রসঙ্গ যেহেতু আসলো তাহলে বলি আমি ভূত, অ্যাডভেঞ্চারে বেশ কৌতূহলী। আপনি ভূতের গল্প ও ছড়া দুটাই লিখেছেন। আপনার কাছে ভূতের ব্যাখ্যা কেমন? বিশ্বাস করেন কি?
আনজীর লিটনঃ ভূতে আমি বিশ্বাস করি না। দেখিওনি। ভূত একটা ইমাজিনেশন। ভূত মনের ভেতরে থাকে। আমি দৃশ্যটাকে যেভাবে চিন্তা করব সেটাই ভূত।
হ্যালোঃ আবার একটু সমসাময়িকতায় ফিরি। আপনার দৃষ্টিতে বর্তমান সময়ের শিশুরা কেমন আছে?
আনজীর লিটনঃ এখন যে বর্তমান। আজকের দিনে যদি তুমি প্রশ্নটা কর তাহলে আমি বলব ছোটরা খুব কষ্টে আছে। ছোটরা খুব ভয়াবহ দিন পার করছে। সামাজিক ভাবে, রাজনৈতিক কারণে, স্কুলে, পরিবারে সব মিলিয়ে একটা আতংক বিরাজ করছে। নিরাপত্তা যেন শিশুর প্রাপ্য নয়। যা আমাকে কষ্ট দেয়।
হ্যালোঃ সবশেষে আমাদের কাছে আপনি কি প্রত্যাশা করেন?
আনজীর লিটনঃ সৃজনশীলতাকে ধরে রাখবে। শিশু সাহিত্য পড়বে। নিজেকে তাহলে গড়ে তুলতেও সহজ হবে।
হ্যালোঃ ধন্যবাদ আপনাকে। আশা করি আপনাকে হ্যালোর পাশে পাব। শিশুদের পাশে পাব।
আনজীর লিটনঃ অবশ্যই। তোমাকেও ধন্যবাদ।