কৈশোরে পাঠাভ্যাস গড়তে সাহায্য করবে যে বই

‘স্কুলদিনের বই পড়া’ শিরোনামে এ সংকলনে লিখেছেন ১৫ বিশিষ্ট লেখক।

কিডজ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 25 Feb 2024, 08:07 PM
Updated : 25 Feb 2024, 08:07 PM

শিশুকালেই মানুষের মানসিক বিকাশ শুরু হয়। আর শিশুর মানসিক বিকাশে বইয়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই ছেলেবেলাই ছোটদের হাতে ভালো ভালো শিশুতোষ বই তুলে দিতে হয়। সমস্যা হলো, কোনগুলো ভালো শিশুতোষ বই তা বুঝবো কী করে? অনেকেই সিদ্ধান্ত নিতে হিমশিম খেয়ে যান, যদি না তাদের ছেলেবেলায় আউট বইয়ের সঙ্গে পরিচয় ঘটে থাকে।

এই সমস্যার সমাধান খুঁজতে অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে ফয়জুল লতিফ চৌধুরী সম্পাদিত ‘স্কুলদিনের বই পড়া’ বইটি। আবু তৈয়ব আজাদ রানার প্রচ্ছদে বইটি প্রকাশ করেছে প্রতীক প্রকাশনা সংস্থা, মূল্য ৩৪০ টাকা।

এই বইটি পড়লে একদিকে যেমন জানা যাবে ১৫ লেখকের ছেলেবেলার আউট বই পড়ার মজার মজার অভিজ্ঞতার কথা, তেমনই জানা যাবে ভালো ভালো বিখ্যাত কিছু শিশুতোষ বইয়ের নাম, যে বইগুলো তাদের আজকের পর্যায়ে আনতে রেখেছে অনবদ্য ভূমিকা। অভিভাবক কিংবা পাঠকরাও তাদের সন্তানের হাতে নিশ্চিতভাবে তুলে দিতে পারবেন তাদের ছেলেবেলায় পড়া সেই বইগুলো।

বইটিতে যে ১৫ বিশিষ্ট লেখক লিখেছেন- আফসান চৌধুরী, মুহম্মদ জাফর ইকবাল, সালেহ আহমদ, আসিফ নজরুল, আবেদীন কাদের, সৈয়দ কামরুল হাসান, রশিদ খান, আলী রীয়াজ, গোলাম ফারুক খান, হাফিজ রশিদ খান, হাসান হাফিজ, রাজু আলাউদ্দিন, ফয়জুল লতিফ চৌধুরী, আন্দালিব রাশদী, সাজ্জাদ কাদির ও বিপাশা চক্রবর্তী। বইটির পরিশিষ্টে রয়েছে এ লেখকদের পরিচিতি। 

বইটির ফ্ল্যাপে সম্পাদক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী লিখেছেন, “কৈশোরের গল্প-উপন্যাস পাঠের ধারা অর্থনীতির ভাষায় যাহাকে বলে ‘সাপ্লাই ড্রিভেন’। যাহা পাওয়া যায় তাহা পড়িয়াই সন্তুষ্ট থাকিতে হয়। দোকানে গিয়া পছন্দের বই কিনিবার আর্থিক সামর্থ্য সীমিত। লাইব্রেরিতে প্রবেশাধিকারও সংকীর্ণ। বই মানুষকে পৃথিবীর এক প্রান্ত হইতে আরেক প্রান্তে লইয়া যায়। অচেনা ব্যক্তির সহিত বইয়ের মধ্য দিয়া মিথস্ক্রিয়া ঘটে। পৃথিবীতে নানা রকমের বই। গল্পের বই। জ্ঞানের বই। রহস্যকাহিনি। বিভিন্ন রকমের বই বিভিন্ন রকমের আবেদন লইয়া উপস্থিত হয়। মানুষের কল্পনার জগৎ একটানে প্রসারিত হইয়া যায়।”

বই পড়ার উদাহরণ টেনে তিনি লিখেছেন, “হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যের সর্বাগ্রে উচ্চারণযোগ্য একটি নাম। তাহার প্রতিবেশী আলমগীর রহমান বলিয়াছেন: ক্ষুদ্রকালে তিনি বইপোকা ছিলেন। এমনকি স্নানঘরে দরজা লাগাইয়া বই পড়িতেন। আমাদের আশপাশে কাহারও কাহারও বদ্ধমূল ধারণা হুমায়ূন আহমেদ কেবল লিখিতেন-পড়িতেন না। এই ধারণা সর্বৈব ভুল। হুমায়ূন আহমেদ দিনে ৩ ঘণ্টা লিখিলে কমপক্ষে হইলেও ৬ ঘণ্টা বই পড়িতেন।”

কৈশোর হলো পাঠাভ্যাস গড়ার সময়। মানুষ তার জীবনে পৃথিবীর সবটুকু দেখতে পায় না। বই মস্তিষ্কের বদ্ধ জানালাগুলো একে একে অনর্গল করে দেয়। এই বইটি বিংশ শতাব্দীর একটি সময়ের সাক্ষ্য দেবে যখন পূর্ববঙ্গের সমাজে ও পরিবারে বই পড়ার চল্ ছিল। বিপরীতে সমসাময়িক কিশোর-তরুণরা বই পড়তে আগ্রহ বোধ করে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ‘পাঠবিমুখ’ কিশোর-তরুণ সমাজকে নিয়ে কীভাবে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ নির্মাণ করা যায় তারই রূপকল্প খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে এ বইয়ে।

‘স্কুলদিনের বই পড়া’ বইটির পরিবেশক অবসর প্রকাশনা সংস্থা, পাওয়া যাবে বইমেলার প্যাভিলিয়ন নাম্বার ২৯-এ।