শব্দের আড়ালে গল্প, পর্ব ১

সময় পরিমাপের বিজ্ঞানকে বলা হয় ‘ক্রনোমিটার’। আর সময় পরিমাপের দুটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো দিনপঞ্জিকা ও ঘড়ি।

রাজীব কুমার সাহারাজীব কুমার সাহা
Published : 22 May 2023, 04:34 AM
Updated : 22 May 2023, 04:34 AM

বাংলা আমাদের মায়ের ভাষা। আমরা শিশুকাল থেকেই মায়ের মুখের ভাষা শুনে শুনে আধো-আধো বোলে বলতে শিখি। আমাদের লেখাপড়ার প্রথম ধাপই শুরু হয় বাংলা স্বরবর্ণ অ, আ, ই, ঈ আর ব্যঞ্জনবর্ণ ক, খ, গ, ঘ দিয়ে।

এর পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভাষাভাষীদের সঙ্গে ভাব-বিনিময়ের জন্য আমরা অপরাপর দেশের ভাষাও শিখে থাকি। শেখার খাতায় যুক্ত হয় হিসাব-নিকাশের নানারকম পদ্ধতিও। যেমন: শতকিয়া ১, ২, ৩, ৪ হতে ১০০ পর্যন্ত, নামতা, যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ, লসাগু, গসাগু প্রভৃতি। তাছাড়াও আছে ভূমির পরিমাপ, সময়ের হিসাব, জ্যামিতির হিসাব-নিকাশ প্রভৃতি।

কালের পরিক্রমায় বদলে যাচ্ছে আমাদের সময় ও পরিমাপের হিসাব-নিকাশের পদ্ধতি। সময় পরিমাপের বিজ্ঞানকে বলা হয় ‘ক্রনোমিটার’। আর সময় পরিমাপের দুটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো দিনপঞ্জিকা ও ঘড়ি। আমাদের প্রতিদিনের কথাবার্তায় হিসাব-নিকাশ সম্পর্কিত এমন অনেক শব্দই আমরা যথাযথ অর্থ না জেনেই ব্যবহার করি। তাতে অবশ্য মনের ভাব প্রকাশে তেমন অসুবিধা না হলেও আসল অর্থ জানা থাকলে কথা বলার আগেই হয়তো খানিকটা চমকে উঠবো। সে পথ ধরে আজ জানবো সময় ও পরিমাপ বিভাজনের ক্ষুদ্র থেকে বৃহত্তর এমনই কিছু একক সম্পর্কে।

নিমেষ বা নিমিষ

নিমেষ বা নিমিষ হলো চোখের পাতা ফেলার মধ্যবর্তী সময় অর্থাৎ পলক। নিমিষ শব্দটি সংস্কৃত হলেও পলক কিন্তু ফারসি শব্দ। আমরা কথায় কথায় বলি ‘ছেলেটা চোখের নিমিষে হাওয়া হয়ে গেল’ বা ‘চোখের পলকে প্রস্থান করলো’। সুতরাং বলা যায় নিমিষ অর্থ হলো অতি অল্প সময়।

আমরা বলি ‘ও নির্নিমেষ নয়নে চেয়ে আছে’, মানে হলো পলকহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে এমন। নিমিষ ও পলকে আপাতভাবে কোনো পার্থক্য নেই বলে মনে হলেও কিছুটা পার্থক্য আছেও বটে। উদাহরণ দিলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। যেমন আমরা বলি ‘চোখের পলক পড়ছে না’, কিন্তু বলি না ‘চোখের নিমিষ পড়ছে না’। আসলে পলকের আরেকটি অর্থ আছে, সেটি হলো চোখের পাতা। উপরিউক্ত বাক্যে পলক মানে চোখের পাতা। অপরদিকে নিমিষ কেবলি সময়বাচক অর্থ বোঝায়। চমকপ্রদ তথ্যটি হচ্ছে সময় বিভাজনের আভিধানিক হিসাবে এক নিমেষ সমান হলো ১৬ মিনিট, ভাবা যায়!

দণ্ড

দণ্ড শব্দটি একইসঙ্গে অনেক অর্থ বহন করে। দণ্ড শব্দটি শোনার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের প্রথমেই মনে পড়ে লাঠির কথা। আভিধানিক ভাষায় বললে বলা যায় যার দ্বারা দমন করা যায় তাই দণ্ড। দণ্ডের আঘাতে প্রাণীমাত্রই সহজে দমিত হয়। অপরদিকে দণ্ড বলতে জরিমানাও বোঝায়, যেমন অর্থদণ্ড। পাশাপাশি আদালত কর্তৃক ঘোষিত শাস্তিও বোঝায় যেমন, কারাদণ্ড। দাঁড়ানো অবস্থা বোঝাতে দণ্ডায়মান বলে যে শব্দটা আমরা ব্যবহার করি সেটাও কিন্তু এসেছে এই দণ্ড থেকেই।

এবার আসি আসল কথায়, এই দণ্ড শব্দ দিয়ে কিন্তু নির্দিষ্ট সময়কালও বোঝানো হয়ে থাকে। প্রাচীন ভারতে খাড়াভাবে স্থাপিত দণ্ডের ছায়া মেপে সময় নির্ণয় করা হতো। এমনকি দণ্ডের ছায়া পরিমাপ করে হিসাব হতো এক দণ্ড, দুই দণ্ড প্রভৃতি। আমরা কিন্তু এখন কথায় কথায় বলি, ‘এক দণ্ড ফুরসত নেই’ কিংবা ‘দু দণ্ড শান্তি নেই’। প্রশ্ন হলো এই এক দণ্ড সমান কত সময়? আমরা কি জেনে এই দণ্ডের ব্যবহার করি? মজার বিষয় হলো সময় বিভাজনের আভিধানিক হিসাবে এক দণ্ড সময়ের সমান হলো ২৪ মিনিট! অবাক হওয়ার মতো বিষয়, তাই না!

পল

সময়ের বিভাজনের অংশ হিসেবে ‘পল’ শব্দটি বাংলায় এখন অনেক কম ব্যবহৃত হয়। পল সংস্কৃত শব্দ হলেও হিন্দিতে শব্দটি বেশ চালু আছে। হিন্দি সিনেমার গানে কিন্তু ‘পল’ শব্দটার বেশ ব্যবহার আমরা লক্ষ্য করি। ‘পল’ শব্দটির আরেকটি অর্থ হলো মাংস, যেমন আমরা বলি পলান্ন। সময়ের হিসেবে পল হলো দণ্ডের ৬০ ভাগের এক ভাগ। সময়ের গণনার ক্ষেত্রে ৬০ সংখ্যাকে ভিত্তি হিসেবে ধরার অন্যতম কারণ হলো এই ৬০ সংখ্যাকে ৫, ১০, ১৫, ২০, ৩০ দিয়ে ভাগ করা যায়। সুতরাং আমরা মনে রাখব সময় বিভাজনের আভিধানিক হিসাবে এক পল সমান হলো ২৪ সেকেন্ড! মনে রেখো কিন্তু!

ক্ষণ

ক্ষণ হলো সময়ের অতি ক্ষুদ্র একটি একক। যা অতি অল্প সময় বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। ক্ষণ সংস্কৃত শব্দ। তবে ক্ষণের সময় কতটা তা কি আমরা কখনো ভেবে দেখেছি? কতটা সময় মিলে একটি ক্ষণ হয়? এর হিসাব মনে হয় আমরা কেউ কখনো করিনি। কথায় কথায় আমরা বলি ‘ক্ষণস্থায়ী’, কিন্তু এর ব্যাপ্তিকাল কত? আমরা অর্থের বিচারে বলি ক্ষণস্থায়ী মানে অতি অল্পকাল স্থায়ী। আমরা বলি এতক্ষণ, কতক্ষণ, কিন্তু প্রশ্ন আসে সময় বিভাজনে ক্ষণ সমান কত সময়? আমাদের জানা আছে কি? মজার বিষয়টি হচ্ছে এ ক্ষণেরও একটি নির্দিষ্ট হিসাব আছে। সময় বিভাজনের আভিধানিক হিসাবে ক্ষণ হলো এক নিমেষের এক-চতুর্থাংশ সময়, অর্থাৎ ৪ মিনিট। তবে জ্যোতিষশাস্ত্র যারা চর্চা করে তাদের হিসাবে ক্ষণের কালসীমা হলো ৪৮ মিনিট!

মুহূর্ত

আমরা প্রায়ই কথাবার্তায় যখন বলি মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু ওলটপালট হয়ে গেল, তখন মুহূর্ত ঠিক কতটা সময়, তা নিয়ে কি আমরা ভাবি? নিশ্চয় ভাবি না। মজার ব্যাপার হলো মুহূর্তকে যতই ছোটো করে দেখার চেষ্টা করি না কেন, মুহূর্তের ব্যাপ্তিটা কিন্তু বেশ দীর্ঘ। আমরা অতিরিক্ত কাজে ব্যস্ত হয়ে গেলেও কিন্তু বলি ‘এক মুহূর্তও সময় নেই’। এখন প্রশ্ন হলো এক মুহূর্ত সমান কতটুকু সময়? আমরা জেনে রাখব সময় বিভাজনের আভিধানিক হিসাবে ৪৮ মিনিট সমান হলো এক মুহূর্ত। নিশ্চয় এখন থেকে তোমরা কাউকে ‘এক মুহূর্ত অপেক্ষা করুন, আমি আসছি’ বললে ভেবেচিন্তে বলবে! কেমন?

প্রহর

সাধারণত দিনরাতের বিভাজনকে আমরা প্রহর বলে জানি। কিন্তু এই প্রহরেরও যে নির্দিষ্ট সময়সীমা আছে সে ব্যাপারে আমরা বেমালুম ভুলে যাই। সময় গণনার উপমহাদেশীয় একক হিসেবে একসময় প্রহর শব্দটি ব্যবহৃত হতো। সমকালে বিশেষ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের হরিনাম সংকীর্তনের পোস্টারে লেখা থাকে ‘২৪ বা ৪৮ প্রহরব্যাপী হরিনাম সংকীর্তন’। সে হিসেবে জানা দরকার এই ‘২৪ বা ৪৮ প্রহর’ সমান কত সময়।

তাছাড়া আমাদের দৈনন্দিন কথাবার্তায় আমরা যে আটপৌরে পোশাকের কথা বলি, এখানেও কিন্তু প্রহর শব্দটির যোগ আছে। ‘আটপৌরে’ শব্দের অর্থই হলো অষ্ট বা আট প্রহর যা পরে থাকা হয়। মানে ২৪ ঘণ্টা যা পরে থাকা হয়। প্রকৃতপক্ষে সময় বিভাজনের আভিধানিক হিসাবে এক প্রহর সমান হলো ৩ ঘণ্টা। আর অষ্টপ্রহর সমান হলো একদিন।

প্রহরের হিসেবে দিন শুরু সকাল ৬টায়, আর রাত শুরু সন্ধ্যা ৬টায়। অর্থাৎ- প্রথম প্রহর মানে সকাল ৬-৯টা, দ্বিতীয় প্রহর মানে সকাল ৯-১২টা, তৃতীয় প্রহর দুপুর ১২-৩টা, চতুর্থ প্রহর মানে বিকাল ৩-৬টা, পঞ্চম প্রহর মানে সন্ধ্যা ৬-৯টা, ষষ্ঠ প্রহর মানে রাত ৯-১২টা, সপ্তম প্রহর মানে রাত ১২-৩টা, অষ্টম প্রহর মানে শেষ প্রহর রাত ৩টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত। এ বিভাজন অনুসারেই আমরা দিনের দ্বিতীয় প্রহর হিসেবে দ্বিপ্রহর বা দুপুরবেলাকে বুঝি। অর্থাৎ দুপুর ১২টা হলো দিনের দ্বিতীয় প্রহর বা দ্বিপ্রহর।

ক্রোশ

ক্রোশ হলো দূরত্ব পরিমাপের একটি সনাতনী একক। ইংরেজি মাইল আর কিলোমিটারের দাপটে ক্রোশ শব্দটা বর্তমানে অচল। তবে গ্রামবাংলায় কোথাও কোথাও এই ক্রোশ শব্দটির কিছুটা ব্যবহার এখনও চালু আছে। গ্রামবাংলায় এই ক্রোশকে ‘কোশ’ হিসেবেও উচ্চারণ করা হয়ে থাকে। যদিও তা কিন্তু কাঁঠালের কোষ নয়! আবার আক্রোশও নয়!

বাংলা ছাড়া ভারতের অন্যান্য অংশেও ক্রোশ আদর্শ পরিমাপ একক হিসেবে প্রচলিত ছিল, তবে সমস্যা হলো সর্বত্র ক্রোশের নির্ধারিত দূরত্ব একরূপ ছিল না। রবীন্দ্রনাথের কবিতায় আমরা ক্রোশ শব্দটির ব্যবহার পাই এমনভাবে ‘বহু দিন ধ’রে বহু ক্রোশ দূরে, বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরে’। কিন্তু জানা আছে কি এক ক্রোশ সমান কী পরিমাণ দূরত্ব? প্রকৃতপক্ষে ক্রোশ হলো রৈখিক মাপের হিসাব। সে হিসাবে তিন আঙুলে হয় এক মুষ্টি; তিন মুষ্টিতে এক বিঘত; দুই বিঘতে এক হাত, চার হাতে এক ধনু, কুড়ি ধনুকে এক রশি আর দুই হাজার ধনুতে এক ক্রোশ। তবে মনে রাখতে হবে সময় বিভাজনের আভিধানিক হিসাবে এক ক্রোশ সমান হলো প্রায় আড়াই কিলোমিটারের মতো।

যোজন

যোজন হলো প্রাচীন ভারতের দূরত্ব পরিমাপের একক। প্রকৃতপক্ষে ক্রোশের মতোই যোজনও হলো রৈখিক মাপের হিসাব। দৈনন্দিন ব্যবহারে যোজন শব্দটিকে না পেলেও কবিতায় কিন্তু আমরা হরহামেশায় পেয়ে থাকি। আমরা কথায় কথায় বলি, ‘যোজন যোজন দূর’। পৌরাণিক পাঠপরিক্রমায় আমরা রামায়ণে দেখতে পাই পুষ্পক রথে চড়ে রাবণ এবং হনুমান লাফ দিয়ে শত যোজন বিস্তৃত সাগর পার হয়ে লঙ্কায় পৌঁছেছিল।

পাশাপাশি ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ চলচ্চিত্রেও দেখি ষুণ্ডি থেকে হল্লা রাজ্যের দূরত্ব ছিল ২০ যোজন। তাই নয় কি! এ থেকে মনে হয় যোজন না জানি কী বিশাল দূরত্বের। প্রকৃতপক্ষে যোজনের দূরত্ব অতটা বিশাল নয়। মজার বিষয় হলো, সময় বিভাজনের আভিধানিক হিসাবে এক যোজন সমান হলো চার ক্রোশ বা প্রায় দশ কিলোমিটারের মতো।

সময় সম্পর্কিত আরও কয়েকটি তথ্য আমাদের প্রায় প্রত্যেকেরই জানা। যেমন: ৭ দিনে এক সপ্তাহ, ১৫ দিনে এক পক্ষ, ২ পক্ষে এক মাস, ১২ মাসে এক বছর, ১২ বছরে এক যুগ। আমরা প্রায়ই কথায় কথায় বলি, ‘তোমরা এই প্রজন্মের ছেলেমেয়ে’, কিন্তু আমরা কি জানি এক প্রজন্ম সমান কত বছর? তাহলে জেনে নাও, এক প্রজন্ম সমান ২৫ বছর।

বয়স বোঝাতে আমরা আরও দু-তিনটি শব্দ ব্যবহার করি যেমন, ‘অশীতিপর বৃদ্ধ’। এই অশীতিপর মানে কী? শব্দটি শুনলে মনে হয় ‘শীতঋতু’ বা ‘শীতে কাতর হওয়া’র সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক আছে? আসলে কি তাই! আদতে শীতঋতু বা শীতে কাতর হওয়ার সঙ্গে ‘অশীতিপর’-এর কোনো সম্পর্ক নেই। ‘অশীতি’ শব্দের অর্থ হলো আশি। অর্থাৎ ‘অশীতিপর বৃদ্ধ’ হলো আশি বা তার অধিক বয়সবিশিষ্ট প্রবীণ ব্যক্তি; অতি বৃদ্ধ।

এমন আরেকটি শব্দ হলো ‘নবতিপর’, যার মানে হলো নব্বই বা তার অধিক বয়সবিশিষ্ট। আবার রাজনৈতিক আলোচনা প্রসঙ্গে আমরা বলি, ‘বর্ষীয়ান নেতা’। এই ‘বর্ষীয়ান’ মানে কী? যদিও এই বর্ষীয়ান সুনির্দিষ্ট কোনো বয়সকে ইঙ্গিত করে না। এই ‘বর্ষীয়ান’ মানে হলো প্রবীণ বা বয়স্ক, অভিজ্ঞ, সর্বজ্যেষ্ঠ। আর তোমরা তো জানোই, এক শতাব্দী সমান হলো ১০০ বছর।

সময়সম্পর্কিত আরেকটি বিষয় তোমরা নিশ্চয় খেয়াল করেছ, গত হওয়া সময়কে আমরা আমাদের যাপিত জীবনে নানাভাবে উদযাপন করি। আমরা সময়ের এই কালপর্বগুলোকে বিভিন্ন নামে আখ্যায়িত করি। যেমন: রজতজয়ন্তী, সুবর্ণজয়ন্তী, হীরকজয়ন্তী প্রভৃতি। রজতজয়ন্তী (Silver Jubilee) = ২৫ বছর, মুক্তোজয়ন্তী (Pearl Jubilee) = ৩০ বছর, প্রবালজয়ন্তী (Coral Jubilee) = ৩৫ বছর, চুনিজয়ন্তী (Rubby Jubilee) = ৪০ বছর, সুবর্ণজয়ন্তী (Golden Jubilee) = ৫০ বছর, হীরকজয়ন্তী (Diamond Jubilee) = ৬০ বছর, নীলাজয়ন্তী (Sapphire Jubilee) = ৬৫ বছর, প্লাটিনাম-জয়ন্তী (Platinum Jubilee) = ৭৫ বছর, শতবর্ষ-জয়ন্তী (Centennial/Centenary) = ১০০ বছর, সার্ধশত-জয়ন্তী (Sesquisentennial) = ১৫০ বছর।