টি. এস. এলিয়টের কবিতা: বেড়ালের নাম

১৯৩০ সালে কবি টি. এস. এলিয়ট (১৮৮৮-১৯৬৫) তার পালিত শিশুদের (গডচিলড্রেন) কাছে পাঠানো চিঠিগুলোতে বেশকিছু কবিতা লিখেন। হালকা চালে লেখা বেশ রসাত্মক এ কবিতাগুলো নিয়ে প্রকাশিত হয় ‘ওল্ড পসাম’স বুক অব প্রাক্টিক্যাল ক্যাটস’ (১৯৩৯)। এ বইয়েরই একটি কবিতা ‘দ্য নেইমিং অব ক্যাটস’।

সাব্বির হোসাইন শোভনসাব্বির হোসাইন শোভন
Published : 18 Nov 2022, 09:46 AM
Updated : 18 Nov 2022, 09:46 AM

বেড়ালের নাম দেওয়া তো ভীষণ কঠিন,

আর যাই হোক

তোমার ছুটির দিনের খেলার মতো অতোটা সহজ তো নয়!

তুমি তো আমাকে ভাবতে পারো পাগল, নিদেনপক্ষে টুপি-বিক্রেতা তো ভাববে তুমি

যখন বলবো আমি, একটি বেড়ালেরও নাম থাকে

একটা-দুইটা-তিনটা

তোমার মতোই একটা নামে বাড়ির সবাই তাকে ডাকে,

যাদু, বাবু আর সোনা তো থাকেই

আবার তারা মনু, মিনি, ম্যাঁও, বিল্লিও বলে

এসবই নরোম-কোমল প্রতিদিনকার নাম।

কিছুটা বিলাসী কিন্তু আদুরে।

ভদ্রলোক ও বেগমদের জন্য তো ভিন্ন ভিন্ন নাম থাকেই

স্নো, পাঞ্চো আবার কখনও কখনও মাইলো নামে ডাকে।

এসবই আমাদের চেনা, প্রায়দিনই তো শুনি।

কিন্তু আমি বলছি, শোনো

প্রতিটা বেড়ালেরই আলাদা নাম থাকে

কিছুটা অদ্ভুত, কিন্তু সে নামই তাদের আরেকটু উজ্জ্বল করে তোলে।

তাছাড়া তাদের লেজ কি আর অতোটা খাড়া করে রাখা যায়!

যাবে কি ওই পথটাকে অতোটা মসৃণ করা

নামেরও তো একটা গৌরব থাকে, নাকি?

এসব নামের বাইরে আরও একটা ধরন আছে,

বলছি, যদিও কেমন জানি-

লিও, কিটি, সোফি, গুচি আর মোনা

এছাড়া থাকে টিনা ও লুনার মতো ডাক নাম 

যে নামে কেবল একজনই থাকে।

এতো রকম নামের পরও আরও একটা নাম বাকি থাকে

এমন একটা নাম যা কল্পনাও করতে পারবে না তুমি।

যদি ভাবো আর ভাবতেই থাকো তবুও খুঁজে পাবে না সেই নামটা।

এ শুধু বেড়ালটাই জানে

কিন্তু সে বলেও না কোনোদিন।

যখন তুমি বেড়ালটাকে দেখবে

এবং যদি দেখো তোমার প্রিয় বান্ধবীটার মতো করে

দেখবে সে তার মন কতোটা গভীরে নিয়ে ভাবছে।

এর কারণটা একই,

তার মনে শুধু মুগ্ধতাই খেলা করে

ভেবে, ভেবে এবং আরও ভেবে

তারও আছে একটি ব্যক্তিগত নাম

তার অস্পষ্ট, ধ্রূপদী আর আবছায়া নাম।

কিডজ ম্যাগাজিনে বড়দের সঙ্গে শিশু-কিশোররাও লিখতে পারো। নিজের লেখা ছড়া-কবিতা, ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনি, মজার অভিজ্ঞতা, আঁকা ছবি, সম্প্রতি পড়া কোনো বই, বিজ্ঞান, চলচ্চিত্র, খেলাধুলা ও নিজ স্কুল-কলেজের সাংস্কৃতিক খবর যতো ইচ্ছে পাঠাও। ঠিকানা kidz@bdnews24.com সঙ্গে নিজের নাম-ঠিকানা ও ছবি দিতে ভুলো না!
তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক