বইমেলায় শিশু আরিয়েত্তির প্রথম গল্পের বই
মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিয়েত্তি।
একটি খরগোশ, যে মাঠে ঘাস খাওয়ার চিন্তায় বিভোর— একটি দুষ্টু ভূত, যে মানুষের বাচ্চার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চায়— এক দুষ্টু পোকা, যে রঙিন প্রজাপতি হয়ে উড়তে শুরু করে! এ রকম বহু রঙিন গল্প নিয়ে একুশে বইমেলায় হাজির হয়েছে ক্ষুদে লেখক আরিয়েত্তি ইসলাম।
মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিয়েত্তি এবার বইমেলায় এনেছে তার প্রথম গল্প সংকলন— ‘আরিয়েত্তির ছোট্ট ছোট্ট গল্পেরা’। কাকাতুয়া প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত এই বইয়ের প্রচ্ছদ ও অলংকরণ করেছেন তন্ময় শেখ।
এই বই শুধু আনন্দের জন্যই নয়, বরং পাঠককে নিয়ে যাবে কল্পনার এক নতুন জগতে। কখনো হাসাবে, কখনো বিস্মিত করবে, কখনোবা ভাবনায় ফেলে দেবে। সরল ভাষায় লেখা এই গল্পগুলো যেন এক রূপকথার জগতের বাস্তব প্রতিচ্ছবি।
মোট ১০টি গল্প নিয়ে সাজানো এই বই পাঁচ থেকে দশ বছর বয়সী শিশুদের জন্য আদর্শ। গল্পগুলোর মাধ্যমে ছোটরা শিখবে বন্ধুত্বের গুরুত্ব, প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা আর ছোট ছোট ইচ্ছের মাঝেই কীভাবে পাওয়া যায় অসাধারণ আনন্দ।
কে এই আরিয়েত্তি? ২০১৬ সালের ১৩ জুন ঢাকায় জন্ম নেওয়া আরিয়েত্তি ইসলাম শৈশব থেকেই গল্প লেখার প্রতি দুর্দান্ত আগ্রহী। বাবা মোহাম্মাদ শামীম রেজা একজন কম্পিউটার প্রকৌশলী এবং মা কামরুন্নাহার দিপা একজন সাহিত্যিক। ছোট ভাই আনিত তার গল্প লেখায় উৎসাহ জোগায়।
মাত্র ৪ বছর ৯ মাস বয়সেই তার লেখা প্রথম গল্প প্রকাশিত হয় দৈনিক ইত্তেফাকের ‘কচিকাঁচার আসর’ বিভাগে। এরপর থেকেই বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়মিত প্রকাশ পাচ্ছে তার লেখা।
তবে গল্প লেখা ছাড়াও আরিয়েত্তি আরেকটি বিশেষ বিষয়ে পারদর্শী— রোবোটিক্স! সপ্তম বাংলাদেশ রোবট অলিম্পিয়াডে জুনিয়র ক্যাটাগরিতে সিলভার মেডেল অর্জন করে সে। পরে আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে অংশ নেয় এবং এক স্বর্ণপদক ও এক রৌপ্যপদক জিতে বাংলাদেশ দলকে প্রথম স্থান এনে দেয়।
শুধু তাই নয়, লেখালেখি আর রোবোটিক্সের পাশাপাশি আরিয়েত্তি ভালোবাসে পাখি পালন করতে এবং কারাতে শেখার প্রতি তার আগ্রহ রয়েছে।
এবারের একুশে বইমেলায় ‘আরিয়েত্তির ছোট্ট ছোট্ট গল্পেরা’ সংগ্রহ করতে চাইলে যেতে হবে কাকাতুয়া প্রকাশনীর স্টলে। বইটির মুদ্রিত মূল্য ১৭০ টাকা।
